লখনউয়ে সরকারি হেলপলাইনে ফোন করোনা রোগীর, জবাব পেলেন, ‘মরে যান!’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের যে দশ রাজ্যে করোনাভাইরাস  সংক্রমণ রোজ হু হু করে বাড়ছে, তাদের অন্যতম উত্তরপ্রদেশে সরকারি হেল্পলাইনে ফোন করে এক সংক্রমিত ব্যক্তি যে উত্তর পেলেন, তা সরকারি ঔদাসিন্যের যথার্থ দৃষ্টান্ত হতে পারে। উত্তরপ্রদেশ সরকার করোনা রোগীদের উন্নততর চিকিত্সা দিতে, সুষ্ঠুভাবে, সময়মতো ওষুধ সরবরাহ করতে রাজধানী লখনউয়ে একটি করোনাভাইরাস কম্যান্ড সেন্টার খুলেছে। সেখানে ফোন করেছিলেন সন্তোষ কুমার সিং নামে ওই ব্যক্তি। করোনার প্রাথমিক উপসর্গ থাকায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী গত ১০ এপ্রিল টেস্ট করান। নিজেরা রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় না থেকে সেলফ আইসোলেশনে চলে যান। ১২ এপ্রিল রিপোর্ট আসে। দেখা যায়, দুজনেই করোনা  পজিটিভ। সন্তোষ কুমার সিং শুনেছিলেন, কম্যান্ড সেন্টারে একটা ফোন করলেই প্রয়োজনীয় সাহায্য মিলবে।   তিনি হেলপলাইনে ফোন করেন। ১৫ এপ্রিল সকাল সওয়া আটটা নাগাদ হেলপলাইন থেকে কেউ কল ব্যাক করে। ৫৪ সেকেন্ডের রেকর্ড করা কথোপকথনে শোনা গিয়েছে, হেল্পলাইনের  লোকটি সন্তোষ কুমারের কাছে জানতে চাইছেন, তিনি হোম আইসোলেশন অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন কিনা। সন্তোষ যখন জানান, এমন কোনও অ্যাপের কথা তিনি জানেন না, ওপ্রান্তের লোকটি তাঁকে স্পষ্ট বলে দেন, তাহলে মরে যান! স্তম্ভিত সন্তোষ তখন বাক্যহারা। তবে পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ ও লখনউয়ের জেলাশাসক অভিষেক প্রকাশকে গোটা বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দিয়ে এর বিহিত চেয়েছেন। ঘটনাচক্রে সন্তোষের বাবা মনোহর সিং বিজেপির লখনউ মহানগর ইউনিটের প্রাক্তন সভাপতি।

সন্তোষ কুমারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি দেখিয়ে দিল, সরকারি স্তরে কম্যান্ড সেন্টার, হেলপলাইন যা-ই থাকুক না  কেন, তার সঠিক বাস্তবায়ন খুবই কঠিন প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি, কর্মীদের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা না থাকলে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More