কার্ফুর আগেই ইদের মার্কেটে উপচে পড়ছে ভিড়, ‘দোকান না খুললে খাব কী’, বলছেন বিক্রেতারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। ইদের আগে তাই জমজমাট কেনাকাটা চলছে হায়দরাবাদের মার্কেটে। আর বলা বাহুল্য করোনা বিধির খুব একটা ধার ধারছেন না কেউ। না আছে সামাজিক দূরত্ব বিধি, না আছে কোনও মাস্কের বালাই।

হায়দরাবাদের পুরনো এলাকাগুলোতে বেশ জাঁকজমকের সাথেই পালন করা হয় ইদ। এখন চলছে রমজানের মাস। মক্কা মসজিদে উৎসবের মরশুমে কিছুটা কোভিডবিধি মানা হচ্ছে বটে, কিন্তু তাতে যে চিড়ে ভেজে না সেটা বলাই বাহুল্য। বাকি এলাকার মার্কেট গুলোর দিকে তাকালে মনেই হবে না দেশ জুড়ে চলছে অতিমারী। মনেই হবে না, ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ রোজ ভারতের বুক থেকে মুছে দিচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ।

কোভিডের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এবছর নাইট কার্ফ্যু জারি করেছে তেলেঙ্গানা সরকার। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকছে সব। তবে যা কেনাকাটা, সব চলছে তার আগেই। গতবছর লকডাউনে অবশ্য এই মার্কেট খা খা করছিল। স্থানীয় পুলিশ জানাচ্ছে এবছর যা ভিড় হচ্ছে তা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১০ গুন কম।

নিরুপায় দোকানদাররাও।করোনার দোহাই দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে পেটে ভাত জুটবে না। গত বছরের ভয়াবহ স্মৃতিতে ফিরতে চান না কেউই। সকলের মুখেই তাই এক কথা, “তাহলে কি বাড়িতে বসে থাকব? এটাই তো আমার রোজগার। দোকান বন্ধ রাখলে খাব কী?”

উৎসবের মরশুমে ভিড় মার্কেটে কোভিড বিধি মেনে চলা সম্ভব নয়, স্পষ্ট জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। তাঁদের কথায়, “আমাদের পুলিশ সবসময় বলে মাস্ক পরতে, দূরত্ব বজায় রাখতে। আমরা সেটা করি। কিন্তু লোকজনকে দেখুন। কেউ কি এসব মানছে? এই ধরনের মার্কেটে কি তেমন ভাবে নিয়ম মানা সম্ভব?”

অগত্যা সবটা ঈশ্বরের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছেন তাঁরা। সান্ত্বনা খুঁজছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর পুলিশের মুখের কথায়। বলছেন, “আমাদের এখানে করোনার সংক্রমণ অন্যান্য রাজ্যের থেকে একটু কম। পরিস্থিতিও আয়ত্তের মধ্যেই আছে। মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ সবাই তাই বলে।”

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More