শনিবার সকাল ৯টায় রাজ্যে শুরু হচ্ছে কোভিড টিকাকরণ, ২০৪টি কেন্দ্রে সাজোসাজো রব

রফিকুল জামাদার

রাজ্যে ১৬ তারিখ সকাল সকাল শুরু হয়ে যাচ্ছে কোভিডের টিকাকরণ। নবান্ন সূত্রের খবর, শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হবে ভ্যাকসিন দেওয়া। আপাতত সপ্তাহে চার দিন ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম হবে বলে জানা গেছে। রাজ্যের মোট ২০৪টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে এই টিকাকরণের জন্য। টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার পরে দুপুর একটায় জুম অ্যাপের মাধ্যমে একটি ভিডিও কল করা হবে নবান্ন থেকে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে তদারকি করবেন টিকাকরণ ব্যবস্থার।

জানা গেছে, প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মীরাই গুরুত্ব পাবেন টিকা পাওয়ার ব্যাপারে। তার পরে বয়স্ক ও অসুস্থদের কথা ভাবা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এক বছর ধরে কোভিডের সঙ্গে লড়াই করার পরে অবশেষে এসে পৌঁছেছে টিকা, তাই নিয়ে স্বভাবতই উত্তেজনার ঝড় বইছে স্বাস্থ্য মহলে।

পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কলকাতায় ৬ লাখের বেশি টিকার ডোজ পৌঁছে গেছে। প্রথমে স্বাস্থ্য দফতরের দুটি ভ্যাকসিন ভ্যানে চাপিয়ে টিকার বাক্সগুলি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বাগবাজারের কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল স্টোর্স ও হেস্টিংসের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল স্টোর্সে। এর পরে শহর ও জেলা মিলিয়ে মোট ৯৪১টি কোল্ড-চেনে টিকার ভায়াল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলেছে। গত দু’দিন ধরেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে খবর মিলেছে কোভিশিল্ড টিকা পৌঁছে যাওয়ার খবর এসেছে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে।

রাজ্যে টিকা দেওয়ার মোট ৪০৮৯টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেগুলির মধ্যে ২০৪টিতে আপাতত টিকাকরণ শুরু হবে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর, বেলেঘাটা আইডি, স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন, বিসি রায় শিশু হাসপাতাল এবং ৫টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে শহরের প্রতিষেধক কেন্দ্র হিসেবে বাছা হয়েছে। প্রয়োজনে টিকাকরণ শিবিরের সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো হতে পারে।

টিকা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে ৩৫-৩৬ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান।

তবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলি শুধু নয়, কোভিড টিকাকরণের বৃহত্তর কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলিও। কলকাতা-সহ জেলার প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালের কর্তারা বুধবার স্বাস্থ্যভবনের অধিকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। নিজেদের হাসপাতালের কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষজনকেও টিকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে সেখানে। বাড়তি অর্থ ছাড়াই টিকাকরণের কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন বেসরকারি হাসপাতালের কর্তারা। সেই আবেদনে স্বাস্থ্যভবনের সম্মতিও মিলেছে বলে খবর।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, যে সব বেসরকারি হাসপাতাল টিকাকরণ কেন্দ্র তৈরিতে ইচ্ছুক তাদের লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। টিকা দেওয়ার কী পরিকাঠামো আছে বিষয় নিশ্চিত হয়েই ছাড়পত্র দেওয়া হবে। যে হাসপাতালগুলিতে টিকাকরণের কেন্দ্র তৈরি হবে সেখানে কোভিশিল্ড টিকার ডোজ পাঠাবে রাজ্য সরকার। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরে সাধারণ মানুষকেও টিকা দিতে পারবে হাসপাতালগুলি। টিকাকরণের গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনা করার জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, চার থেকে পাঁচ জন মেডিক্যাল অফিসার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তার যথাযোগ্য চিকিৎসা ইত্যাদি যাবতীয় বন্দোবস্ত করতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই।

কলকাতার পিয়ারলেস, উডল্যান্ডস, অ্যাপোলো সহ প্রথম সারির সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের কর্তারাই ছিলেন গতকালের বৈঠকে। জানা গেছে, বেশিরভাগ বড় হাসপাতালই টিকাকরণের প্রস্তাব জমা করতে চায়। যে সব হাসপাতালে কর্মীর সংখ্যা পাঁচশোর বেশি, পরিকাঠামোও উন্নত, তাদেরই টিকাকরণের অনুমতি দেওয়া হবে। কোভিড টিকাকরণের কেন্দ্র তৈরি করতে হলে কয়েকটি ব্যবস্থা আগে থাকা দরকার, যেমন টিকা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন, টিকার ডোজে কোনওরকম জটিলতা তৈরি হলে অ্যাড্রিনালিন ইঞ্জেকশন ও অন্যান্য চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, সেসব দেখেই অনুমতি দেওয়া হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More