ষোলোর ‘ভুল’ শুধরে ব্রিগেড ডাকল সিপিএম-কংগ্রেস, যৌথ মঞ্চে থাকবেন সীতারাম, রাহুল বা প্রিয়ঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভুল’ শুধরোতে অনেক সময় লাগল কিনা, সময় বলবে। আপাতত বাস্তব, ভুল শুধরে নিল সিপিএম।

একুশের নির্বাচনের আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিল সিপিএম ও কংগ্রেস। তার পর বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিলেন, ওই সমাবেশে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে আমন্ত্রণের ব্যাপারেও ঐকমত্য হয়েছে।

এর অর্থ একটাই, যৌথ সভা করে একুশের প্রচারে নামতে চলেছে বাম-কংগ্রেস। রাজ্য রাজনীতিতে এই দুই দলের অস্তিত্বই যখন তীব্র সংকটে তখন ঠেকায় পড়ে শেষমেশ ছুঁৎমার্গ ছুড়ে ফেলল আস্তাকুঁড়ে।

ষোলো সালের ভোটেও কিন্তু কংগ্রেস এটাই চেয়েছিল। অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানরা পই পই করে তা বলেছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসুদের। অনেকের মতে, সূর্যবাবুর বিশেষ আপত্তিও ছিল না। কিন্তু ‘জোট না ঘোট’ গোছের নেতিবাচক মন্তব্য করে সে সব বারবার ভেস্তে দিয়েছিলেন বিমান বসু।

ফলে ভোটের প্রচারের মধ্যেই অদ্ভূত সব ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ক্যানিংয়ের সভায় সুজন চক্রবর্তীকে মঞ্চে নিয়ে মিটিং করছেন সনিয়া গান্ধী। কিন্তু সিঙ্গুরে অধীর চৌধুরী মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন বলে, দূরে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি। অধীর চলে যাওয়ার পর মঞ্চে ওঠেন তিনি। অন্তিম লগ্নে এসে যখন দুই শিবিরই বুঝতে পারে যে ভুল হয়ে গেছে, তখন একেবারে শেষ দফার ভোটের আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-রাহুল গান্ধীর যৌথ সভা হয় পার্কসার্কাস ময়দানে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে, সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির ফেসবুক পেজ থেকে ব্রিগেডের পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও তাতে শুধু ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাসী)-র নাম লেখা।

পরে অবশ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বামেদের তরফে আমাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমরা বলেছি কংগ্রেস ব্রিগেডে থাকবে। কোনও অসুবিধা নেই।” সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রত্যেকটি দল আলাদা আলাদা করে ব্রিগেডের পোস্টার প্রকাশ করবে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির ব্রিগেড বাম-কংগ্রেসের যৌথ কর্মসূচি।”

ষোলোর ভোটে যে যেখানে জিতেছিল একুশে সেই কেন্দ্রে তাদেরই প্রার্থী থাকবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বাম-কংগ্রেসের যৌথ বৈঠকে। অর্থাৎ সুজন চক্রবর্তীর যাদবপুরে লড়বে সিপিএম আবার আবদুল মান্নানের চাঁপদানিতে লড়বে কংগ্রেস। এদিন অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, মোট ১৯৩টি আসনে কে কোথায় প্রার্থী দেবে তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ বাকি রয়েছে ১০১টি আসন। সিপিএমের এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের কথায়, ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More