কৃষক আন্দোলনে নতুন কৌশল, দিল্লি সীমান্ত থেকে সরছেন অনেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির সীমান্তে গাজিপুর ও সিংঘু থেকে হালকা হচ্ছে ভিড়। কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে ৮০ দিনের বেশি। সরকারের সঙ্গে ১১ বার বৈঠকে বসেছেন কৃষক নেতারা। তাতেও কোনও সমাধান হয়নি। অনেক কৃষক ফিরে যাচ্ছেন গ্রামের পথে। এক মাস আগে দিল্লি সীমান্তে যত কৃষক ছিলেন, এখন রয়েছেন তার অর্ধেক।

কৃষক নেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আন্দোলনে কি ভাটা পড়েছে? তাঁরা বলেন, এবার নতুন কৌশলে আন্দোলন হবে। দিল্লি সীমান্তে আর বেশি মানুষ অবস্থান করবেন না। অনেকে নিজেদের গ্রামে গিয়ে আন্দোলন করবেন। বিভিন্ন রাজ্যে বড় আকারের জনসমাবেশ করে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরি করা হবে।

কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত স্থির করেছেন, এবার দেশ জুড়ে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত করা হবে। আগামী ১০ দিন হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে বেশ কয়েকটি মহাপঞ্চায়েতে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। দিল্লি সীমান্তে উপস্থিত এক কৃষক বলেন, “এখানে ১০ লক্ষ কৃষক জমায়েত হলেই বা কী যায় আসে? সরকার কি আমাদের দাবি মেনে নেবে? আমরা সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ করব।”

গাজিপুর প্রটেস্ট কমিটির সদস্য জগতার সিং বাজওয়া বলেন, “সরকারের একগুঁয়েমির কথা চিন্তা করে আমরা দিল্লি সীমান্তে বড় জমায়েত করেছিলাম। কৃষক নেতারা তাঁদের কৌশল বদলাচ্ছেন। তাঁরা চান, প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির মানুষ কৃষক আন্দোলনের কথা জানুক। আমরা আগামী দিনে নানা জায়গায় মহাপঞ্চায়েত করব।”

পরে তিনি বলেন, “যুবকদের এনার্জিকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষকদের নিজেদের কাজও করতে হবে।” তাঁর দাবি, আগামী দিনে প্রয়োজন হলে কৃষকরা অল্পদিনের নোটিশে ফের দিল্লি সীমান্তে উপস্থিত হবেন। ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া সমাজকর্মী সন্দীপ পাণ্ডে বলেন, “আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার নানা জায়গায় ছোট ছোট সভা হচ্ছিল। এখন সেখানে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “আন্দোলনে বিকেন্দ্রীকরণ ঘটছে। বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে কৃষকরা জনসভা করছেন।”

এখনও পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনের এপিসেন্টার হয়ে রয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের একাংশ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও কৃষক আন্দোলনের কিছু প্রভাব পড়েছিল। কৃষকদের অভিযোগ, নতুন কৃষি আইনগুলি কার্যকরী হলে তাঁরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন না। কৃষি ক্ষেত্রের দখল নেবে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More