‘নিষ্ঠুর’ কাকা, জীবনতলায় ভাইপোকে পিটিয়ে খুন!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহুদিন থেকেই পারিবারিক অশান্তি। শেষমেষ তা চরমে পৌঁছনোর জেরে আক্রোশে ভাইপোকে বেধড়ক পিটিয়ে অচৈতন্য করে ফেললেন কাকা। তারপরই মৃত্যু। মৃতের নাম সমীর সর্দার (৩০)। অভিযুক্ত কাকাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সোমবার রাতে জীবনতলা থানার গৌড়দহের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে এমনই নৃশংস ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন কাকা নিশিকান্ত সর্দার, ভাইপো সমীর। সেদিন সন্ধেয় বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগেই নিশিকান্ত সমীরের উপর চড়াও হন। তারপর বাগ-বিতন্ডার মাঝে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারতে মারতে ভাইপোকে অচৈতন্য করে ফেলেন তিনি। রাত অবধি সেই অবস্থাতেই মেঝেয় পড়ে থাকেন সমীর।

সমীরের স্ত্রী রূপালী কাজের সুত্রে বাইরে ছিলেন। রাতে ফিরে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন। পাড়া-পড়শীরা ছুটে আসেন।

এরপর চিকিৎসার জন্য সমীরকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় ঘুটিয়ারী শরিফ ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপরই জীবনতলা থানায় নিশিকান্তর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন সমীরের ভাই। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তে নামে। নিশিকান্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। পাশাপাশি সমীরের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

রুপালী কান্নায় ভেঙে পুলিশকে বলেন, “আমরা গরিব। কলকাতায় কাজ করে সংসার চালাই। বড় ছেলেকে ছোট থেকেই বাপের বাড়িতে রেখেছি অভাব অনটনের জন্য। ছোট ছেলেকে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কাছে রেখে কলকাতায় কাজে যেতাম। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও কলকাতায় গিয়েছিলাম কাজে। ফিরে দেখি স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেছে দেওর। যন্ত্রণায় অচৈতন্য অবস্থায় ঘরে পড়েছিল। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যায় স্বামী। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, যার জন্য আমার স্বামীকে আজ হারাতে হয়েছে তার যেন উপযুক্ত কঠোর শাস্তি হয়।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More