কুম্ভে শেষবারের শাহি স্নানের পরেই কার্ফু জারি হরিদ্বারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশে কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভের মধ্যেই এবার কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে হরিদ্বারে। হাজার হাজার ভক্তের বিরুদ্ধে কোভিড বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কুম্ভমেলা চলাকালীন উত্তরাখণ্ডে কোভিড সংক্রমণও বেড়েছে ব্যাপক। মঙ্গলবার ছিল কুম্ভের শেষ শাহি স্নান। তারপর বুধবার থেকেই হরিদ্বারে কার্ফু জারি করল উত্তরাখণ্ড সরকার। হরিদ্বারের জেলাশাসক জানিয়েছেন, হরিদ্বার, রুরকি, লাকসার এবং ভগবানপুরের শহুরে এলাকায় কার্ফু জারি থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সবই।

কোভিডে গত সপ্তাহে ভারতে মারা গিয়েছেন ১৭ হাজার জন। কুম্ভে শেষ শাহি স্নানের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেদন জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবারের মেলা হোক প্রতীকি। জুনা আখড়ার স্বামী অবদেশানন্দ গিরিও গত ১৮ এপ্রিল জানিয়েছিলেন, তাঁদের আখড়ার কেউ আর কুম্ভে অংশগ্রহণ করবেন না।

গত মঙ্গলবার কয়েকশ সাধু ও ভক্তকে শাহি স্নানের জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায়। তাঁদের অনেকেরই মাস্ক ছিল না। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর নীতিও বহু ভক্ত মেনে চলেননি। গত সোমবার উত্তরাখণ্ডে ৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন। তার মাত্র ৬০ দিন আগে রাজ্যে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৮।

গত ১ এপ্রিল শুরু হয় কুম্ভমেলা। ১০ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ভক্ত করোনা পজিটিভ হন। একসময় শোনা যায়, করোনা রুখতে কুম্ভমেলা আগেই শেষ করে দেওয়া হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার পরে জানায়, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।

১৬ এপ্রিল ৩০ জন সাধু করোনায় আক্রান্ত হন। মহা নির্বাণী আখড়ার প্রধান কোভিড আক্রান্ত হয়ে দেরাদুনের এক হাসপাতালে মারা যান।

বুধবার সকালে জানা যায়, সারা দেশে একদিনে সর্বাধিক কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। একদিনে মারা গিয়েছেন তিন হাজার ২৯৩ জন। নতুন করে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন তিন লক্ষ ষাট হাজার মানুষ। যা এ পর্যন্ত সর্বাধিক।

দৈনিক মৃত্যু এবং সংক্রমণে শীর্ষে মহারাষ্ট্রই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১ দিনে প্রায় ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। যা দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি, এই রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৩৫৮ জন।

মঙ্গলবার রাতে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৮৯৫ জন কোভিড রোগী মারা গিয়েছেন। ৮৯৫ জনের মধ্যে অওরঙ্গাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৬২ জন মারা গিয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More