সাইক্লোন তাওকতে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে , উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ আবহাওয়া দফতরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগাম অনুমান মেনেই কর্ণাটকের একাধিক উপকূলে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম সাইক্লোন তাওকতে। এরপর সময় যত গড়াবে, ততই শক্তি বাড়িয়ে বিধ্বংসী চেহারা নিতে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। রবিবার এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

গতকালই দিল্লির মৌসম ভবন, নৌ-সেনা এবং বিজ্ঞান মন্ত্রকের তরফে সাইক্লোনের অবস্থান ও গতিবিধি নিয়ে একাধিক টুইট করা হয়। চলতি সপ্তাহ ধরেই আরব সাগরের বুকে ঘনীভূত নিম্নচাপের জেরে তা শক্তি বাড়িয়ে চলেছিল। আজ, রবিবার থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূলের একাধিক রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের ধারণা, আগামী পরশুর মধ্যে তাওকতে সাইক্লোন ক্রমশ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে গুজরাতের দিকে সরে যাবে। ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে তা ব্যাপক চেহারা নিতে পারে বলেও আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। রবিবার সকালে টুইটারে আইএমডি জানায়, ‘আপাতত ঘূর্ণিঝড়টি পাঞ্জিম-গোয়া থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মুম্বই থেকে ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আরব সাগরের বুকে অবস্থান করছে। ১৮ মে সকালের মধ্যে বিধ্বংসী আকার নিয়ে তা গুজরাতের পোরবন্দর ও মাহুভার উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।’

একদিকে কোভিডের থাবা। লকডাউনের ধাক্কা। সেই সঙ্গে সাইক্লোনের সম্ভাব্য বিপর্যয় উপকূলীয় একাধিক রাজ্যকে খাদের কিনারে দাঁড় করিয়েছে। তাই বিপদ মোকাবিলায় আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় চলছে। ইতিমধ্যে গতকালই ঘূর্ণিঝড় কর্ণাটকে প্রবেশ করে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মানি বলেন, ‘ঝড় উপকূলে আছড়ে পড়েছে। কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দু’টি দল উপদ্রুত এলাকায় মোতায়েন আছে। রাজ্যের তরফেও উদ্ধারকাজ চালানো হবে। ইতিমধ্যে হাজার জনের একটি দল কর্ণাটকের তিনটি উপকূলবর্তী জেলায় নজরদারি শুরু করেছে।’

কর্ণাটকের মতো মুম্বইয়েও লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। সেখানকার কোভিড-দুর্যোগ আর লকডাউনের কড়াকড়ি আবার গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। তবু কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আপৎকালীন তৎপরতায় পাঁচশোর উপর করোনা রোগীকে সমুদ্র তীরবর্তী হাসপাতাল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাইক্লোনের জেরে আগামী কয়েকদিন বাণিজ্য নগরীতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

মুম্বই ছাড়াও মহারাষ্ট্রের একাধিক অঞ্চলে ক্ষতির অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে পালঘর, রত্নাগিরি, সিন্ধুদূর্গের মতো উপকূলীয় জেলায় ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে পারে। তাই গতকালই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব থ্যাকারে।

অন্যদিকে গোয়াতেও সাইক্লোন নিয়ে উদ্বেগ ঘনিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পবন সাওয়ান্ত গতকাল একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। যেখানে সমুদ্র সৈকতগুলিতে বিভিন্ন উদ্ধারকারী সরঞ্জাম মজুত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়। যদিও এর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আগামী কয়েকদিন কেরল-কর্ণাটক-গোয়া-মহারাষ্ট্রের মৎস্যজীবীদের সাগরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রাজ্যগুলির মতো বিমান বাহিনীও নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। যে কোনও রকমের উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন পড়লে যাতে বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, তার জন্য ১৬টি বিশেষ বিমান ও ১৮টি হেলিকপ্টারকে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে নৌ-সেনাও। ইতিমধ্যে প্রবল বর্ষণে ভেসে গিয়েছে মালাঘাপাড়ি, কোম্পানপাড়ি, মারুভাক্কড়ের মতো কোচির একাধিক গ্রাম। সেই সমস্ত এলাকার বন্যার্ত মানুষদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়েছে একাধিক দল। এ ছাড়া নৌ-সেনার তরফে আশপাশের স্কুলে অস্থায়ী ক্যাম্প খুলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও জল দিয়ে সাহায্যের কাজও শুরু হয়েছে।

গোটা উদ্যোগ যাতে সুষ্ঠুভাবে মেটানো যায়, তার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে সাইক্লোন পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া ক্যাবিনেট সচিবের সঙ্গে উপকূলবর্তী রাজ্যের মুখ্য সচিবদের অনবরত যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More