বাইক চুরির তদন্তে এসেছিলেন এরাজ্যে, গণপিটুনিতে হত বিহারের পুলিশকর্মীর দেহ দেখেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু মায়ের!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিনের ব্যবধানে মা, ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু! এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা সচরাচর ঘটতে দেখা যায় না। গত শনিবার সকালে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে বাইক চুরির তদন্তে এসে উন্মত্ত জনতার মারে নিহত কিষাণগঞ্জ থানার এসএইচও অশ্বিনী কুমারের মা উর্মিলা দেবী পুত্রমৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মারা গেলেন। ৫২ বছর বয়সি অশ্বিনী কুমার উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার পান্তাপাড়া গ্রামে মারমুখী জনতার হাতে প্রহৃত হন। কিষাণগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া বাইকের হদিশ পেতে তদন্তের ব্যাপারে তিনি কয়েকজন পুলিশকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওই গ্রামে এসেছিলেন। কিন্তু প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারলেন না। মা, ছেলের শেষকৃত্য হল একসঙ্গে, তাঁদের বিহারের পূর্ণিয়া জেলার পঞ্চু মন্ডল তোলা গ্রামের বাইরে।

অশ্বিনী কুমারের ৭০ বছরের মা নানা বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।  অশ্বিনীকুমারের বাবা মারা যান সাত বছর আগে। তাঁর মামা সুভাষ সিং সংবাদ সংস্থাকে বলেন, রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় উর্মিলা দেবীর। প্রথমে তাঁকে ছেলের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়নি। কিন্তু শনিবার  রাতে অশ্বিনী কুমারের নিথর দেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অশ্বিনী কুমারের স্ত্রী, তিনটি নাবালক সন্তান বর্তমান। ১৯৯৪ র ব্যাচের ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার অফিসার ছিলেন। ২০২০র ৫ আগস্ট তাঁকে কিষাণগঞ্জ  টাউন এসএইচও নিযুক্ত করা হয়।

কিষাণগঞ্জের পুলিশ সুপার কুমার আশিস  জানিয়েছেন, গণপিটুনির মাস্টারমাইন্ড মহম্মদ ইসরায়েল ও তার ছেলে মহম্মদ আবদুলকে  গ্রেফতার করা হয়েছে।  ধরা পড়েছে আরও তিনজন। ঘটনার পর লুঠ  করা বাইকে চেপে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, কিষাণগঞ্জ থেকে ছিনতাই করা বাইকেই পালানোর চেষ্টা করছিল ওরা। সেটি উদ্ধার করতেই পান্তাপারা গিয়েছিলেন অশ্বিনী কুমার ও তাঁর টিম। সব মিলিয়ে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ২১ জনের নাম রয়েছে, ৫০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে অশ্বিনী কুমারের টিমের সাত পুলিশকর্মীকে কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযোগ, অশ্বিনী কুমারকে যখন মারমুখী লোকজন ঘিরে ধরে, তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেন।

এদিকে কিষাণগঞ্জের পুলিশ সুপার আগে বলেছিলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ার জন্যই প্রাণ গেল অশ্বিনী কুমারের।  তাঁকে উদ্ধৃত  করে সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, সিআরপিসির ধারা অনুসারে কোনও পুলিশ টিম আরেক থানার আওতাধীন এলাকায় হানা দিতে, তল্লাশি চালাতেই পারে। ওরা আমাদের সাহায্য করলে আমাদের অফিসার হয়তো প্রাণে বাঁচতেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More