ট্র্যাক্টর মিছিলে হিংসার পরে বুধবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন নেতারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলে অভুতপূর্ব হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। এরপর বুধবার কৃষক নেতারা কথা বলবেন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে। তাঁরা নিজেরাও একদফা বৈঠকে বসবেন। সেখানে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি স্থির হবে। আপাতত শোনা যাচ্ছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কৃষক ইউনিয়নগুলি সংসদ অভিযান করতে চায়।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই কয়েকজন কৃষক নেতা বেসুরে মন্তব্য করছিলেন। তাঁরা পুলিশের নির্ধারিত পথে মিছিল নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। পরে মিছিল অনেক জায়গায় ব্যারিকেড ভাঙে। একটি মিছিল ঢুকে পড়ে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায়। এদিন মোট ৩০০ পুলিশকর্মী আহত হন। মারা যান এক কৃষক। দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবারের ঘটনায় ২২ টি মামলা করেছে। কয়েকজন কৃষক নেতার নামেও মামলা হয়েছে। হিংসায় যাদের উস্কানি ছিল, তাদের চিহ্নিত করছে পুলিশ। একটি ষড়যন্ত্রের মামলাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, দিল্লিতে অতিরিক্ত আধা সেনা পাঠানো হবে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দিল্লি ও তার আশপাশের কোনও কোনও এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবারই দিল্লি পুলিশের প্রধান এস এন শ্রীবাস্তব বলেছিলেন, দেশবিরোধী শক্তি কৃষকদের উস্কানি দিচ্ছে। তারা কৃষক মিছিলের সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠতে চায়। অন্যদিকে গত শুক্রবার সিংঘু বর্ডারে কৃষকরা এক যুবককে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁদের অভিযোগ, মিছিলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য পুলিশই প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেলেটিকে পাঠিয়েছিল।

গত রবিবার দিল্লি পুলিশ কৃষকদের মিছিলে অনুমতি দেয়। সেই সঙ্গে সকলকে সতর্ক করে বলে, “মিছিলের সুযোগে দুষ্কৃতীরা আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।” পুলিশের স্পেশাল কমিশনার দীপেন্দ্র পাঠক বলেন, “১৩ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে পাকিস্তান থেকে ৩০০ টুইটার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা।”

দিল্লির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বইতে কৃষকরা আজাদ ময়দানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁরা রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন। রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি এখন শহরে নেই। রাজভবন থেকে কৃষক প্রতিনিধিদের ফিরে আসতে হয়েছে।

এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার রবিবার কৃষক সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে এমন রাজ্যপাল কখনও আসেননি। তিনি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে দেখা করার সময় পান। কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার সময় পাননি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More