দিল্লির নবাবী ক্রিকেটে চূর্ণ নিজামের শহর, মঙ্গলবার ফাইনালে সামনে মুম্বই

অশোক মালহোত্রা

যে দলে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো ডাকাবুকো অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান থাকে, সেও আউট হয়ে ফিরছে দ্রুত। দলের ৪৪ রানে তিন উইকেট পড়ে গিয়েছে। এরপর কী আশা থাকতে পারে জয়ের! সত্যিই জয় আসেনি হায়দরাবাদের। টসে জিতে প্রথমে দিল্লির ১৮৯/৩ রানের জবাবে শেষমেশ সানরাইজার্স করতে পেরেছে ১৭২/৮। নিজামের শহরের হার ১৭ রানে, ফাইনালে দিল্লি। মঙ্গলবার তারা ফাইনালে খেলবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে।

গত ম্যাচে চোট পাওয়া ঋদ্ধিমানের বদলে ওপেন করতে নেমেছিল বাংলার শ্রীবৎস গোস্বামী। কিন্তু রবিবার হায়দরাবাদ ওপেন করতে পাঠায় ওয়ার্নারের (২) সঙ্গে প্রিয়ম গর্গকে (১২ বলে ১৭)। কিন্তু দুইজনই দ্রুত ফেরার পরে আশা ছিল মনীশ পান্ডেকে নিয়ে। তিনে নেমে মনীশের অবদান ১৪ বলে ২১।

হায়দরাবাদ দলের ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার দলের ব্যাঙ্কার বলে কেন উইলিয়ামসনকে। দল যখন বিপদে সেইসময় তিনি রক্ষাকর্তার ভূমিকায় হাজির হন। গত ম্যাচেও তাই করেছিলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাই করে থাকেন। এদিনও তাই করে গেলেন, হোল্ডার ১৫ বলে ১১ রানে ফেরার পরে দলের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন উইলিয়ামসন। কিন্তু ১৭ ওভারের মাথায় স্তোইনিসের বলে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রাবাদার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতেই জয়ের আশা শেষ।

উইলিয়ামসন করলেন ৪৫ বলে ৬৭, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি। তিনি আউট না হলে অব্যর্থভাবে বিরিয়ানি শহরে তাঁর নামে সারা রাত ধরে হুলোড় চলত। নবাবের শহরের হয়ে নবাবি ব্যাটিং করে গেলেন কেন, কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। এমনকি আবদুল সামাদও ১৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে দলের রানকে টানছিলেন, কিন্তু দিল্লির রাবাদা ও স্তোইনিস মিলে শেষ করে দিয়েছে নিজামের শহরের দলকে। রাবাদা পেলেন চার উইকেট, আর স্তোইনিসের ঝুলিতে তিন উইকেট।

দিল্লি দলটিকে আমার ইতিবাচক মনে হয়েছিল যখন দেখলাম, মার্কাস স্তোইনিসকে দিয়ে ওপেন করালো। ভাল পদক্ষেপ, তার মানে শুরু থেকেই একটা পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল দলটি। পৃথ্বী শ-র ক্ষেত্রে সমস্যা একদম ধারাবাহিকতার পাশ দিয়ে যায় না। এই ভাল খেলছে, এই দেখা গেল পরের ম্যাচেই কোনও রান না করতে পেরে আউট। এভাবে বড় আসরে প্রথম একাদশে থাকা যায় না।

শিখর ধাওয়ান চলতি আসরে বেশ ভাল খেলেছে, রবিবারও শিখরের ৫০ বলে ৭৮ রানের ইনিংস না থাকলে দিল্লি একটু চাপে পড়ে যেত। তবে স্তোইনিস ওপেন করতে এসে সফলই, ওর নামের পাশে ২৭ বলে ৩৮। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি চার ও একটি ছক্কা। আবার ধাওয়ানের ব্যাট থেকে এসেছে ছয়টি কপিবুক বাউন্ডারি ও দুইটি ছয়।

দলনেতা শ্রেয়স আইয়ার (২১) শেষ দিকে এসে রান পেল না। না হলে খুব একটা খারাপ খেলেনি, তার মধ্যে শ্রেয়সের মধ্যে ভাল নেতা হওয়ার সব গুণ রয়েছে। ২০ বলে ২১ রান করে ফেরার পরে দিল্লির হাল ধরল হেটমায়ার, ২২ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে প্রমাণ করল সময়ের জন্য বসে থাকতে হয়, সেটিকে কাজে লাগাতে হয়। হেটমায়ারের ইনিংসে রয়েছে চারটি চার ও একটি বিশাল ছক্কা।

হায়দরাবাদের বোলিং যেমন ভাবা গিয়েছিল হয়নি। দলের দুই সেরা অস্ত্র জেসন হোল্ডার ও শাহবাজ নাদিম দু’জনেই চার ওভারের ৫০-র কাছে রান দিয়ে দিল। রশিদ খান একা কী করবে! আফগান স্পিনার একটি উইকেট পেলেন, তাও সেটি স্তোইনিসের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : দিল্লি ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ১৮৯/৩। ধাওয়ান ৭৮, হেটমায়ার ৪২ নঃ আঃ, স্তোইনিস ৩৮, রশিদ ১/২৬।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ২০ ওভারে ১৭২/৮। উইলিয়ামসন ৬৭, সামাদ ৩৩, রাবাদা ৪/২৯, স্তোইনিস ৩/২৬।

দিল্লি ক্যাপিটালস জয়ী ১৭ রানে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More