আর কয়েক ঘণ্টা চলার মতো অক্সিজেন আছে, জানাল দিল্লির দু’টি হাসপাতাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ৩২ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শহরের ম্যাক্স হসপিটাল ও গঙ্গারাম হসপিটাল জানাল, তাদের স্টকে যে অক্সিজেন আছে, তাতে আর কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে।

ম্যাক্স হাসপাতালের বক্তব্য, তাদের কাছে যে পরিমাণে অক্সিজেন আছে, তাতে ছয় থেকে ১২ ঘণ্টা চলতে পারে। গঙ্গারাম হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের কাছে আট ঘণ্টা চলার মতো অক্সিজেন আছে। ম্যাক্স হাসপাতাল বলেছে, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তারা নতুন করে অক্সিজেন আনার চেষ্টা করছে। কোনও রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি। দিল্লি সরকার জানিয়েছে, তারা দু’টি হাসপাতালেই অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানোর চেষ্টা করছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এর আগে টুইট করে বলেছিলেন, “শহরে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট গুরুতর রূপ নিয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে বড় জোর কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে।”

দিল্লি সরকার হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিল, অক্সিজেন সরবরাহে বৈষম্য করা হচ্ছে। একটি ‘বড় রাজ্যে’ অক্সিজেন পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি সেই রাজ্যের নাম করেনি। তাদের বক্তব্য, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে। হাইকোর্ট এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করে, কোনও কারখানায় কি অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে? বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও বিচারপতি রেখা পাল্লিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করে, “কারখানায় পরেও অক্সিজেন পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু রোগীদের অপেক্ষা করানো যায় না। তাহলে অনেকের প্রাণ বিপন্ন হবে।”

বিচারপতিরা বলেন, তাঁরা শুনেছেন, গঙ্গারাম হাসপাতালের ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন কম দিচ্ছেন। কারণ হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পের প্রয়োজনে অক্সিজেন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, “আজ থেকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না কেন? মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আপনারা কি রোগীদের বলবেন, অক্সিজেনের জন্য ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

কেন্দ্রীয় সরকার হাইকোর্টে জানায়, মাত্র তিন শতাংশ কোভিড রোগীকে আইসিইউ বেডে রাখতে হচ্ছে। তাঁদের জন্য প্রয়োজন ২৪ লিটার অক্সিজেন। নন আইসিইউ বেডের জন্য প্রয়োজন ১০ লিটার অক্সিজেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, ৮০ শতাংশ করোনা রোগীরই সামান্য উপসর্গ রয়েছে। ১৭ শতাংশের উপসর্গ রয়েছে মাঝারি।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, “দিল্লি সরকার ৭০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন চেয়েছিল। তাদের দেওয়া হয়েছে ৩৭৮ মেট্রিক টন।”

সোমবার দিল্লিতে কোভিডে মারা গিয়েছেন ২৫০ জন। মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে তা রেকর্ড। স্বাস্থ্য দফতর বলেছে, প্রতি ঘণ্টায় রাজধানীতে অন্তত ১০ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা এতটাই বাড়ছে যে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে কোভিড বেড দেওয়া যাচ্ছে না রোগীদের। একই বিছানায় রোগীদের ঠাসাঠাসি করে থাকতেও দেখা গিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More