দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকায় জারি রেড অ্যালার্ট, বন্ধ ইন্টারনেট! খোলেনি লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ বলছেন গণতন্ত্রের কালো দিন, কেউ বা বলেছেন বিপ্লবের আগুনে চেহারা। গতকাল, মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লির বুকে কৃষকদের ট্র্যাক্টর ব়্যালি ও তার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা দিনভর যত বেড়েছে, সাধারণ মানুষের মতামতের দ্বন্দ্বও এভাবেই বেড়েছে পাশাপাশি। শেষমেশ কৃষকরাই স্থগিত ঘোষণা করেন ব়্যালি। এর মধ্যেই অবশ্য প্রাণ গিয়েছে এক কৃষকের।

ঘটনার পরে রাত পোহাতেই আরও নিরাপত্তা বাড়ানো হল লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকা ও দিল্লির সীমানাগুলিতে। কালই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশন, আজও সকাল থেকে যাত্রী প্রবেশের অনুমতি নেই সেখানে।

কেন্দ্রের তিন কৃষি বিরোধী আইন প্রত্যাহারের জন্য শীতের আগে থেকেই চলছে কৃষকদের আন্দোলন। রাজধানীর বুকে দিনের পর দিন পড়ে থেকেছেন তাঁরা দাঁতে দাঁত চেপে। সরকারের সঙ্গে ১১ দফা আলোচনার পরেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। এর পরে গতকাল, প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর ব়্যালি বের করেছিলেন কৃষকরা। আগাম পুলিশি অনুমতিও ছিল।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকেই একদল মানুষ চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। নির্দিষ্ট রুট ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আন্দোলন। একসময়ে ব়্যালি ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লি। ট্র্যাক্টর চাপা পড়ে মৃত্যুও হয় এক কৃষকের। লালকেল্লার চুড়ায় জাতীয় পতাকার পাশেই ওড়ানো হয় শিখ আন্দোলনকারীদের নিশান। বিকেলে জরুরি বৈঠক করেন অমিত শাহ। তার পরে পুলিশ ঢুকে লালকেল্লা খালি করে এবং আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার পরে আজও বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দিল্লির একাধিক সীমানা এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। হরিয়ানার ও উত্তরপ্রদেশেরও একাধিক জায়গায় চলছে কড়াকড়ি। সিংঘু সীমান্ত, লাল কেল্লায় বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।

জানা গেছে, এদিন বেলা ১২টা নাগাদ বৈঠকে বসার কথা কৃষক নেতাদের। সিংঘু সীমানায় এদিন পঞ্জাবের কৃষক নেতারা বৈঠক করবেন। তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা ঠিক করতেই এই বৈঠক।

ইতিমধ্যেই পুলিশ অন্তত চারটি মামলা রুজু করেছে দিল্লির এই সংঘর্ষ ঘিরে। জানা গেছে, অন্তত আটটি বাস ভাঙচুর হয়েছে। ১৭টি গাড়িও ভাঙচুর হয়েছে। অভিযোগ, আন্দোলনের নির্দিষ্ট রুট ঠিক করে দেওয়া সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর মিছিল করতে করতে বিভিন্ন দিকে চলে যান কৃষকরা। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অন্তত ৮৩ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।

একটি বিবৃতি দিয়ে কৃষক মোর্চার তরফে জানানো হয়, “যারা শৃঙ্খলা ভেঙে এইসব কাজ করেছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছি আমরা। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাচ্ছি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা মেনে চলতে। দেশের ঐক্য ও সম্মান নষ্ট হয় এই ধরনের কোনও কাজে যুক্ত না হতে। আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আবেদন করছি। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া আমাদের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More