পশুদের দাহ করার বিশেষ চুল্লি দিল্লিতে, গোটা দেশে এই প্রথম এমন উদ্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোষ্যকে অনেকেই পরিবারের সদস্য মনে করেন। আর পাঁচজন সদস্য যেভবে বাড়িতে থাকেন, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ভাল-মন্দকে গুরুত্ব দেন, তেমনই পোষ্যদেরও গুরুত্ব দেন, ভালবাসেন অনেকে। আবার এমনও কেউ কেউ আছেন, যাঁদের বাড়িতে পোষ্য নেই, কিন্তু রাস্তার কুকুর-বেড়ালদের ভীষণ আদর যত্ন করেন। প্রতিদিন মিশতে মিশতে একপ্রকার মায়াই পড়ে যায় তাদের উপর। কিন্তু মানুষ মারা যাওয়ার পর তো তাঁকে দাহ করার বা সমাহিত করার জন্য জায়গা আছে, কিন্তু এই আদরের প্রাণীগুলো মারা যাওয়ার পর কী হয় কখনও ভেবে দেখেছেন!

বাড়ির পোষ্য বা রাস্তার কোনও আদুরে পশু মারা যাওয়ার পর তাদের দাহ করার জন্য প্রথমবার দেশে পশুদের শবদাহ করার চুল্লি খোলা হবে। দিল্লির বুকের উপর এই চুল্লিতে বাড়ির পোষ্য, এমনকি রাস্তার পশুদের দাহ করার ব্যবস্থা থাকবে। থাকবেন একজন পুরোহিতও। আদরের, স্নেহের পোষ্যদের শেষযাত্রাও যাতে ভাল ভাবে হয়, তার কথা ভেবেই এই চুল্লি খোলা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সাধারণত এর আগে দেখা যেত, কুকুর-বিড়াল মারা যাওয়ার পর, তাঁদের শবদেহ কোথায় ফেলা হবে তাই নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করা হত। পরিবেশের কথা ভেবে, এলাকার কথা ভেবে অনেকেই ঠিকমতো জায়গা খুঁজে পেতেন না। তার চেয়েও বড় বিষয়, আদরের প্রাণীদের এভাবে ফেলে দেওয়ার মধ্যেও বহু মানুষ কষ্ট পেতেন এক সময়। এই কষ্ট কমানোর জন্যেই এই ভাবনা মাথায় আসে দিল্লির কয়েকজন মানুষের। তাঁরাই ভাবনা-চিন্তা করে এটা বাস্তবায়িত করেছেন। দক্ষিণ দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফ থেকে খোলা হবে দেশের প্রথম পশুদের শবদাহ করবার চুল্লি।

দ্বারকার ৭০০ স্কোয়ার মিটার জায়গা জুড়ে খোলা হবে চুল্লি। প্রাণীদের ওজন অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করার জন্য অল্প চার্জও দিতে হবে। যদিও রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের জন্য আলাদা করে কোনও চার্জ লাগবে না। এমনকি এই পৌরসভার বাইরের লোকেরাও এর সুবিধা পাবেন। উত্তর এবং পূর্বদিকের রাস্তার পশুদের দাহ করার জন্য যদিও অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হবে। তবুও খুশি হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, পশুপ্রেমীরা। কারণ অনেকের মতে, যাদের মানুষের মতোই ভালবাসা যায়, তাদের শেষযাত্রাও তেমনই হওয়া উচিত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More