দিল্লি-গাজিপুর সীমান্তে উত্তেজনা, কৃষক নেতা বললেন, বুলেটের মুখে দাঁড়াতে রাজি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই দিল্লি-গাজিপুর সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকদের তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। গাজিপুর প্রশাসন কৃষকদের অবিলম্বে রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরপরে এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। একটি সূত্রের খবর, কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোথাও যাবেন না। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি বুলেটের মুখে দাঁড়াতে তৈরি।

রাকেশ টিকায়েত বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা যেতে পারে। তারপরেও সরকার দমননীতি নিয়ে চলছে। এই হল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের আসল চেহারা।” ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। তখন থেকেই দিল্লি-গাজিপুর সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেদিন উত্তরপ্রদেশ থেকে কৃষকরা বেশি সংখ্যায় ট্র্যাক্টর র‍্যালিতে যেতে পারেননি। কারণ সীমান্ত বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন। ট্র্যাক্টর ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার সাংবাদিকদের সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর বলেন, “যারা অন্যদের উস্কানি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লালকেল্লায় যেভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে তা বরদাস্ত করবে না দেশ।” মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠি ও পতাকা। ‘নিশান সাহিব’ নামে একটি ধর্মীয় পতাকা তাঁরা লালকেল্লায় উড়িয়ে দেন। লালকেল্লার অভ্যন্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে তাড়া করেন।

কৃষক নেতাদের একাংশ আবার লালকেল্লার ঘটনার জন্য পাঞ্জাবের গায়ক, অভিনেতা তথা সমাজকর্মী দীপ সিধুকে দায়ী করেছেন। এক কৃষক নেতা বলেন, “দীপ সিধু সরকারের লোক। এই ষড়যন্ত্রটা আমাদের বোঝা দরকার।” পরে তিনি বলেন, “দীপ সিধু সর্দার নয় গদ্দার।”

অন্যদিকে দীপ সিধু ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, তাঁরা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেননি। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে ‘নিশান ই সাহিব’ পতাকা লাগিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমরা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানোর জন্য নিশান সাহিব ও কৃষক সংগঠনের পতাকা লাগিয়েছিলাম। জাতীয় পতাকার অবমাননা করিনি। আমরা কিষাণ-মজদুর একতা নিয়ে স্লোগানও দিয়েছিলাম।”

ট্র্যাক্টর মিছিলের পরদিনই কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে। কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির নেতা ভি এম সিং বলেছেন, “এই বিক্ষোভে এমন কেউ কেউ আছেন যাঁদের উদ্দেশ্য অন্য। আমরা তাঁদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারি না।” ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের একটি অংশও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More