ছোট্ট সন্তানকে বাক্স করে কোথায় ডেলিভারি দিতে চললেন বাবা! দেখুন মজার ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেটের টানে চাকরি করেন বাবা, মা দুজনেই। তাই হামেশাই সন্তানকে নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আজকালকার দিনে আকছার দেখা যায় এই কাণ্ড। কিন্তু এই দৈনন্দিন সমস্যার এবার এক মজাদার সমাধান করে ফেলেছেন চিনা দম্পতি।

করোনার আঁতুড়ঘর হোক বা সীমান্তে গোলমাল, গত বছরের শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চিন। লোকে বলে, চিনের ওই আকাশছোঁয়া পাঁচিলটার ওপারে নাকি শুধুই রহস্য।কিন্তু ভাইরাসের দেশেও যে ফুল ফোটে, পাখি ডাকে, খিলখিল করে হেসে ওঠে শিশু, এদিন যেন সেটাই আরও একবার সামনে চলে এল। আর চিন সম্বন্ধে প্রচলিত ধারণায় ধাক্কাটা দিল সোশ্যাল মিডিয়া।

ফাঁকা রাস্তায় তড়তড় করে এগিয়ে যাচ্ছে স্কুটার, চালককে দেখলেই বোঝা যায় তিনি ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ, বেশ তাড়ায় আছেন। কিন্তু তিনি নন, নজর কাড়ে তাঁর সামনে রাখা নীল বাক্সটা। স্কুটারের সামনে রাখা বাক্স থেকে উঁকি মারছে ছোট্টো একটা শিশু।

ব্যাপারটা কী!

আর কিছুই নয়, নিজের সন্তানকে বাক্সের ভিতর পুরে নিয়েই কাজে বেরিয়ে পড়েছেন ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ। মেয়েকে কোলে করেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার। বুধবার চিনের রাস্তার এই অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সোশ্যাল মিডিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে লি ফিয়েরকে। জানা গেছে, বছর দুয়েকের ছোট্টো ফিয়ের তার ছ’মাস বয়স থেকে বাবার স্কুটারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ডেলিভারি বাক্সের ভিতর থেকে কখনো বিশেষ বিরক্ত করে না সে। বরং কখনো হেসে, কখনো হাততালি দিয়ে বাবাকে কাজে উৎসাহ দেওয়াই তার কাজ। ভাইরাল ভিডিওতে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফিয়েরের বাবা লি। তাঁর কথায়, “আমি আমার ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই ডেলিভারি করি। নানা কারণে ২০১৯-এর মে মাস থেকে ফিয়েরকে আমার সঙ্গে নেওয়া শুরু করেছিলাম।অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়েছি। কিন্তু একইসঙ্গে অনেক ভাল সময়ও কাটিয়েছি আমরা।”

তবে শুধু বাবার সাথেই নয়, ছোট্ট ফিয়ের সঙ্গী হয় তার মায়ের কাজেরও। ফিয়েরের মা কাজ করেন স্থানীয় একটি মাংসের বাজারে। সকালে বাবার সঙ্গে স্কুটার সফরের পর বিকেলে ফিয়ের থাকে মায়ের সঙ্গে। মা বাবা দুজনেই পালা করে দেখাশোনা করে ফিয়েরের। জানা গেছে, পাঁচ মাস বয়সে একবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল ছোট্ট ফিয়ের। আর তখনই নাকি নিজেদের সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ মেয়ের চিকিৎসায় খরচ করে ফেলে চিনের লি পরিবার। তাই রুটিরুজি জোগাড় করতে এখন মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বেরতে হয় তাঁদের। ফিয়েয় অবশ্য তাতে বেজায় খুশি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More