কৃষক আন্দোলনের ধাক্কা সামলে হরিয়ানায় আস্থাভোটে জয়ী বিজেপি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিয়ানায় মনোহরলাল খট্টর সরকারের বিরুদ্ধে বুধবার অনাস্থা এনেছিল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, শাসক বিজেপি-জেজেপি জোট সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। কিন্তু আস্থাভোটে জিতল সরকারই। বিজেপি জোট এদিন পেয়েছে ৫৫ টি ভোট। বিরোধীরা পেয়েছেন ৩২ টি। কংগ্রেসের দাবি ছিল, দুই নির্দল বিধায়ক সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন। কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, যে বিধায়করা কৃষকদের বিরুদ্ধে গিয়ে কৃষি আইনগুলি সমর্থন করছেন, তাঁদের ‘মুখোশ খুলে দিতেই’ অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল।

হরিয়ানার কয়েকটি অঞ্চলে কৃষকরা নির্বাচিত বিধায়কদের বয়কট করছেন। কারণ ওই বিধায়করা কেন্দ্রের কৃষি আইনকে সমর্থন করেছিলেন।

৯০ আসনবিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভায় বিজেপির আসন আছে ৪০ টি। এছাড়া দুষ্যন্ত চৌতালার জননায়ক জনতা পার্টির আছে ১০ টি আসন। পাঁচ নির্দল বিধায়কও সরকারকে সমর্থন করেন। কংগ্রেসের আছে ৩১ টি আসন।

এদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা বিতর্কের পরে আস্থাভোট নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী খট্টর বলেন, তাঁর সরকার কৃষক আন্দোলনের ওপর নজর রেখেছে। কখনও আন্দোলনকারীদের ওপরে বলপ্রয়োগ করেনি। তাঁর কথায়, “বলপ্রয়োগ মানে লাঠিচার্জ করা, গুলি চালানো। হ্যাঁ, আমরা রাস্তা খুঁড়েছিলাম। জলকামান ব্যবহার করেছিলাম। কৃষকরা যাতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে না যেতে পারেন, সেজন্য ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর সিং হুডা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী খট্টর ২৬ জানুয়ারি পানিপথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেননি। এতেই বোঝা যায়, তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।

এর আগে জেজেপি হুমকি দিয়েছিল, কৃষক আন্দোলনের সন্তোষজনক সমাধান না হলে তারা বিজেপি জোট ছাড়বে। ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন চৌতালা। এই দু’টি সাক্ষাৎকার নিয়ে জল্পনা হয় রাজনৈতিক মহলে। জেজেপি মূলত কৃষকদের ভোটের ওপরে নির্ভরশীল। কৃষি আইন নিয়ে আন্দোলন চলার সময় জেজেপি সরকারপক্ষে থাকায় তাদের অনেক সমর্থক বিরূপ হয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

এই পরিস্থিতিতে চৌতালা মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করায় অনেকের ধারণা হয়েছিল, হরিয়ানায় বিজেপি জোটে ভাঙন আসন্ন। মোদী ও অমিত শাহ চৌতালাকে বুঝিয়ে জোট অটুট রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন খট্টর। তিনি বলেন, জোট সরকারের সামনে কোনও বিপদ নেই। এই সরকার পুরো পাঁচ বছর টিকবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার কোনও মানে হয় না। অমিত শাহের সঙ্গে আমরা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More