‘অন্তঃসত্ত্বা বলে বিয়ে করিনি, একসঙ্গে থাকতে চাই’, বিতর্কের মুখে সোজাসাপ্টা দিয়া মির্জা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাল্গুনেই বসন্তের আগমন ঘটে গেছে বলিপাড়ার অভিনেত্রী দিয়া মির্জার জীবনে। বিয়ের মরসুমে দ্বিতীয় বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন দিয়া মির্জা। বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে নতুন করে গাঁটছড়া বাঁধেন ভৈবব রেখির সঙ্গে। বিয়ের এক মাসের মধ্যেই মধুচন্দ্রিমার জন্য মালদ্বীপে পাড়ি দিয়েছেন এই জুটি। এক কথায় বলতে গেলে আবারও যেন জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়ে পার্ফেক্ট করে তুলেছেন দিয়া। আগের পক্ষের মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই হানিমুনে অভিনেত্রী।

হানিমুনে এসেই জীবনের সব থেকে বড় সুখবর দেন অভিনেত্রী। বিয়ের দেড় মাসের মধ্যেই মা হতে চলেছেন দিয়া। এবার দুই থেকে তিন হওয়ার পালা এই সেলেব জুটির। মালদ্বীপে গিয়েই তিনি নিজের ছবি পোস্ট করেন যেখানে স্পষ্ট তাঁর বেবি বাম্প। তবে নেটিজেনরা অনেকেই বিয়ের দেড় মাসের মাথায় দিয়ার মা হওয়া নিয়ে নানারকম গসিপ শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই!

তবে এই গসিপের যোগ্য জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। অনেকেই যেমন সুখবর শুনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনই পাশাপাশি আবার অনেকেই লিখেছেন, “খুবই ভাল খবর, কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। মহিলা পুরোহিতের মন্ত্রে বিয়ে করে প্রচলিত রীতি ভেঙেছেন ঠিকই, কিন্তু বিয়ের আগে গর্ভবতী হওয়ার খবরটা দিলেন না কেন? তার মানে কি বিয়ের আগে গর্ভবতী হওয়াটা অন্যায়? কেন এক জন মহিলা বিয়ের আগে সন্তানসম্ভবা হতে পারেন না?”

দিয়া এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি, বরং তার দীর্ঘ উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান যে তাঁর এবং বৈভব রেখির একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছা থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত। আর এর মাঝেই তাঁরা জানতে পারেন সন্তান আসার কথা, কিন্তু কিছু মেডিকাল ইস্যু থাকার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা এই খবরটা দেরিতে সবার সামনে আনেন।

তাঁর কথায়, “তখনই না জানানোর অন্য কারণ রয়েছে। চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য চুপ থাকতে হয়েছিল। শিশুর সুরক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করেছি আমি। জীবনের সব থেকে সুন্দর মুহূর্তে রয়েছি এখন। চিকিৎসা ছাড়া আর কোনও কারণেই এই খবরটি লুকোনোর কোনও উদ্দেশ্য আমার নেই।” তার পরে তিনি ধরে ধরে বুঝিয়ে দেন, কেন এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যের সারাংশ হল, সন্তানের জন্ম দেওয়া বড়ই সুন্দর বিষয়। সেখানে লজ্জা বা লুকোনোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বিয়ে করে দম্পতি হিসেবে সন্তানের পালন করা হোক বা একা সন্তান মানুষ করা হোক, সেটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক রীতি আদৌ ঠিক না ভুল, সেই প্রশ্নে না গিয়ে, উচিত-অনুচিতের কথা ভাবাই সঙ্গত। এর আগেও দিয়াকে নানা ব্যাপারে স্পষ্ট ভাবে নিজের মতামত রাখতে দেখা গেছে।

দিয়া বিয়েতেও দিয়েছেন চমক, এখানে হয়নি কোনও কন্যা সম্প্রদান, বিয়ে দিয়েছেন মহিলা পুরোহিতরা। বৈদিক মতে ঘরোয়া ভাবেই বিয়ে সারেন অভিনেত্রী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More