মমতার উপরে নয় কোভিড মোকাবিলায় রাজ্যপালে আস্থা তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে নয়, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের উপর আস্থা রাখলেন তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে দিব্যেন্দু লিখেছেন, কোভিডের সংক্রমণ ফের বাড়ছে। মহাকুম্ভ ও রমজানের জন্য এই সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। এ হেন পরিস্থিতিতে রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য সক্রিয় হস্তক্ষেপ আশা করছি।

দিব্যেন্দু রাজ্যপালকে চিঠি লেখায় রাজনৈতিক সরলরেখায় অনেকেই বিষয়টিকে জুড়তে চাইছেন। যে হেতু শুভেন্দু অধিকারী এখন বিজেপিতে এবং দিব্যেন্দুও তৃণমূলের কর্মসূচি থেকে দূরত্ব রাখছেন, তাই এই চিঠিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখাটাও হয়তো স্বাভাবিক। তবে দিব্যেন্দুর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপালের বরং এক্তিয়ার রয়েছে মহামারী পরিস্থিতিতে মানুষের ভালমন্দের দেখভাল করার। সেই কারণে তাঁকেই চিঠি দিয়েছি।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় থেকেই এ বিষয়ে রাজ্যপাল নবান্নের কর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন। এর পর কোভিড মোকাবিলায় দু’দিন আগে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড বেড বাড়ানোর জন্য পৃথক টাস্ক ফোর্স গঠনসহ ওই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন শীর্ষ আমলারা। তার পর আজ রাজভবনে গিয়ে এ ব্যাপারে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে সবিস্তারে তা জানিয়েছেন আলাপনবাবু।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুদিন আগে মুখ্য সচিবের ডাকা বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সোমবার আবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সেই সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যত না কোভিডের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য সাংবাদিক বৈঠক করলেন, তার থেকেও ওনার রাজনৈতিক তাগিদ বেশি বলে মনে হল। কারণ, সাংবাদিক বৈঠকে উনি দশ বার অন্তত বলেছেন, বাকি দফার ভোটগুলোকে এক দফায় গুটিয়ে আনার কথা। সেই সঙ্গে কেন্দ্র ভ্যাকসিন দিচ্ছে না, উনি বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দেবেন ইত্যাদি বারবার বলেছেন।

শুধু মান্নান সাহেব নন, বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু এদিন বলেন, কোভিড মোকাবিলায় বাংলায় যা অব্যবস্থা হয়েছে তা মানুষ জানে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়। তৎকালীন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাও প্রায় তৃণমূল নেতার মতোই কাজ করছিলেন। বরং এখন দেখা গিয়েছে, রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা করে কোনওরকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া শীর্ষ আমলারা বরং সঠিক পথে হাঁটার চেষ্টা করেছেন। সেটা আঁচ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ক্রেডিট নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। গোটা ব্যবস্থাপনা থেকে উনি নিজেকে যত দূরে রাখবেন বাংলার মানুষ তত নিরাপদ থাকবে বলেই মনে করি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More