করোনা-বিমা নিয়েও বিভ্রান্তি? কেন্দ্রের ৫০ লক্ষ টাকা বিমার সুবিধা বাংলার স্বাস্থ্যকর্মীরা নিতে পারেন, আন্তঃমন্ত্রক টিমকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন জানা ছিল, করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় বাংলার ফ্রন্টলাইন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বিমার বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার। এই একই কারণে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার যে ৫০ লক্ষ টাকা বিমার ব্যবস্থা করেছে, তার সুবিধা বাংলার কোভিড- চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা পাবেন কিনা তা স্পষ্ট ছিল না। রাজ্য সরকারও তা নিজে থেকে স্পষ্ট করেনি। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠকে তা জানাননি।

এই একই বিভ্রান্তি নিয়ে কলকাতায় পরিদর্শনে আসা কেন্দ্রীয় আন্তঃমন্ত্রক টিমের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করেছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। স্বাস্থ্য দফতর নাকি তাঁদের জানিয়েছে, বাংলার করোনা-চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে কোনও একটি বিকল্প বেছে নিতে পারে। অর্থাৎ কেউ চাইলে কেন্দ্রীয় সরকার যে ৫০ লক্ষ টাকা বিমা ঘোষণা করেছে তার সুবিধাও নিতে পারেন।

তবে ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকেনি। স্বাস্থ্য দফতর কেন্দ্রীয় টিমকে এ কথা মৌখিক জানালেও এ ব্যাপারে নবান্নের কোনও নির্দেশিকা কেন্দ্রীয় টিমকে দেয়নি স্বাস্থ্য দফতর। তাই সেই নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তি মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার কাছে চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় টিম।

বাংলায় করোনাভাইরাসের মোকাবিলা নিয়ে শুরুর দিকে গুচ্ছ পদক্ষেপ ঘোষণার সময় প্রথমে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা ঘোষণা করেছিল নবান্ন। পরে কেন্দ্রীয় সরকার ফ্রন্টলাইন হেল্থওয়ার্কার, প্যারামেডিকসদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বিমা ঘোষণার পর, রাজ্যও বিমার পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে। কিন্তু কখনওই স্পষ্ট ছিল না যে এখানকার ফ্রন্টলাইন হেল্থওয়ার্কাররা কেন্দ্রের বিমার সুবিধাও পেতে পারেন।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয় না। তাই গোড়ায় অনেকের ধারনা ছিল, সেই কারণে কেন্দ্রের বিমার সুবিধা রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীরা পাবেন না। কিন্তু আমলাদের একাংশের বক্তব্য, যে হেতু করোনাকে জাতীয় বিপর্যয় বলা হচ্ছে, তাই কেন্দ্র যে বিমা ঘোষণা করেছে, রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীরাও বিপর্যয় মোকাবিলা আইন মোতাবেক তা পাওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে রাজ্যের তরফে অস্পষ্টতা রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এ দিন ডক্টর্স ফোরামের চিকিৎসক কৌশিক চাকী বলেন, তাঁরা এই ব্যাপারটি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। কে কত বিমা করতে দেবে, দুটো বিমাই একসঙ্গে করা যাবে, নাকি একটি করলে আর একটি করা যাবে না, কেন্দ্রের বিমা করানোর পদ্ধতিই বা কি, তা তাঁরা জানেন না।

তাঁর কথায়, “তবে এটুকু বলতে পারি,  করোনার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কোনও স্বাস্থ্যকর্মী যদি মারা যান, তবে তা শহিদ হওয়ার চেয়ে কম কিছু নয়। যথাযোগ্য নিরাপত্তা তাঁর থাকা উচিত। আর এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এটা বিশ্বজোড়া প্যানডেমিক, একে নিয়ে প্যানডেমোনিয়াম না করাই ভাল।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More