ভিন্নমত টিঁকতে পারে শুধু কংগ্রেসেই, বিজেপি, তৃণমূলে পারে কি? বললেন রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের ঘরোয়া রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন জি-২৩ গোষ্ঠীর নেতারা, যাঁদের দাবি, দলের অভ্যন্তরে আমূল রদবদল চাই। গত বছরের আগস্টে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, কপিল সিবল, মণীশ তেওয়ারির মতো ২৩ জন প্রথম সারির নেতা সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে চিঠি লিখে দলের কার্যকলাপ, সাংগঠনিক খোলনলচে পুরোপুরি বদলের দাবিতে সরব হন। দলীয় নেতৃত্বের অস্তিত্ব যাতে প্রকাশ্যে চোখে পড়ে, সক্রিয় হয়, সেই দাবিও তোলেন তাঁরা। এ নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরে প্রবল বিরোধ মাথাচাড়া দেয়। নানা মহলে জল্পনা, ঘুরেফিরে সেই রাহুল গাঁধীর হাতেই কংগ্রেসের চূড়ান্ত নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হবে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের দাবি, একমাত্র কংগ্রেসই সেই দলে যেখানে ভিন্নমত টিঁকতে পারে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি সদস্য ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাহুল মন্তব্য করেন, আমাদের পার্টিতে ২০ জনের ভিন্নমত থাকতে পারে। আপনাদের কি মনে হয়, সেটা বিজেপি, বিএসপি বা তৃণমূল কংগ্রেসে থাকতে পারে? কোনও একটি অংশের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, বোঝাপড়া বন্ধ থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন রাহুল।
পাশাপাশি কংগ্রেস ‘কোলাহলে পূর্ণ’ হয়েও ‘স্থির’ থাকবে, কখনই আরএসএসের মতো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন থাকবে না, এও বলেন তিনি। রাহুলের কথায় কংগ্রেস নাত্সীবাদী দল নয়, আরএসএস নয়। আমাদের সমস্যা হল, বিভিন্ন অংশের মধ্যে আলোচনা-বোঝাপড়া মার খেয়েছে। আমরা কোলাহল করি, তবে এগিয়ে চলি, কথাবার্তা বলি, এটাই আমাদের সিস্টেম। ভার্চুয়াল আলোচনাটা হয়েছে ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে। তাতে রাহুল আরও বলেন, নির্বাচনের মানে হল, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো রক্ষা করে, কিন্তু সেটা আর হয় না।
ওয়েনাড়ের সাংসদ সতর্ক করেন, ভারতে কাজ তৈরি না হলে মহাবিপর্যয়কারী সমস্যা তৈরি হবে। যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মানুষকে রক্ষা করে, শাসক বিজেপি ও আরএসএস তাকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি অবশ্য অতীতে রাহুলের তোলা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আরএসএস মাানে শৃঙ্খলা, জাতীয়তাবাদ ও যাবতীয় ভাল গুণ, দাবি করেন তামিলনাড়ুর বিজেপি নেতা এল গণেশন। বলেন, কেউ যদি বলেন, আরএসএস দেশের বিচারবিভাগ বা যে কোনও ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে, তবে লোকে এটা ভেবে খুশি হতে পারেন যে, ভাল কিছু হবে। এটা বিচারবিভাগকে রাহুল গাঁধীর করা প্রশংসা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More