‘আমি যখন অলিম্পিক পদক জিতি, দীপার বয়স তখন তিন!’ কৌন বনেগা ক্রোড়পতি বিগ বি-র সেটে জানালেন লিয়েন্ডার

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুইজনই অলিম্পিয়ান। একজন ভারতের খেলার দুনিয়ার অন্যতম সেরা আইকন, টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ।

অন্যজন ভারতীয় জিমনাস্ট রানী দীপা কর্মকার, যিনি প্রথম দেশকে বুঝিয়েছিলেন অলিম্পিকেও ভারত পদক পেতে পারে জিমনাস্টিক্সে। হয়তো তিনি পদক পাননি, কিন্তু রিও ফাইনালে চতুর্থ হয়ে ফিরেছিলেন। দেশকে বুঝিয়েছিলেন কোনওকিছুই অসাধ্য নয়, থাকতে হবে বড় একটা স্বপ্নের মন। আর বৃহৎ একটা হৃদয়।

প্রকৃতই লিয়েন্ডারের হাঁটুর বয়সী দীপা। পেজের বয়স ৪৭, আর দীপার ২৭। তার চেয়েও বড় কথা, কৌন বনেগা ক্রোড়পতির সেটে অমিতাভ বচ্চনের সামনে যখন লিয়েন্ডার তাঁর প্রথম অলিম্পিক পদক জয়ের কথা বলছেন, সেইসময় পাশে বসে হাসছেন দীপা। হাসির কারণও রয়েছে, কারণ তার মধ্যেই বিগ বি-কে আসল রহস্য জানতে শুরু করেছেন কলকাতার বেকবাগান রো-র ছেলেটি।

লিয়েন্ডারই জানালেন, ‘‘আসলে স্যারজি আমি যখন ১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিকে প্রথম টেনিসে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছিলাম, তখন দীপা বাড়িতে হামাগুড়ি দিচ্ছে, বয়স তিন!’’ সেইসময় সেটে তিন মহা ব্যক্তিতই হাসছেন।

দীপা মুম্বইয়ের এই সেটে নিয়ে এসেছিলেন বাবা দুলাল কর্মকারকে। যিনি সবসময় মেয়ের সঙ্গে থাকেন না, কিন্তু এবারই এসেছিলেন। বলছিলেন, ‘‘মেয়ে আমার সঙ্গে যেতে চায় না, বলে তুমি সঙ্গে গেলে আমার টেনশন হয়। কারণ আমি নাকি রাস্তা পেরতে পারি না!’’ সেইসময় সেটে হাস্যরোল।

লিয়েন্ডার মানেই রূপকথা, যিনি এখনও সরকারিভাবে অবসর ঘোষণা করেননি। এই নিয়ে কথাও উঠেছে। ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদের কথায়, ‘‘যেদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হবে টেনিস খেলতে ভাল লাগছে না, সেদিনই সরে যাব।’’ লিয়েন্ডার এই নিয়ে সামনের বার টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিলে মোট সাতবার দেশের জার্সিতে নামবেন, যা হবে বিশ্বরেকর্ডও।

দীপা অন্তর্মুখী স্বভাবের। তাঁর নামে প্রোদুনোভা ভল্ট বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। নামই হয়ে গিয়েছিল দীপানোভা। সেই প্রসঙ্গও তোলেন অমিতাব, যা নিয়ে দীপা জানান, ‘‘প্রোদুনোভা ভল্ট মারণঘাতী, যা একটু এদিক-ওদিক হয়ে গেলেই মৃত্যু অনিবার্য, অনেকটা সার্কাসের ট্র্যাপিজের খেলার মতোই।’’
যদিও এই নিয়ে কোচ তাঁকে রিও অলিম্পিকের সময় সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু সেই কথা না দিয়ে স্যার বিশেশ্বর নন্দীকে জানিয়েছিলেন, ‘‘স্যার, আমি কিছু জানি না, আমাকে পদক জিততে হবে দেশের জন্য।’’ সেই শুনে লিয়েন্ডার বলেন, ‘‘এটাই একজন ক্রীড়াবিদের মিশন হওয়া উচিত। জীবনের বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করা, আমিও তাই করেছি।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More