শেষবারের মতো হোয়াইট হাউস ছেড়ে গেলেন ট্রাম্প, মেলানিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথগ্রহণের সময় তিনি উপস্থিত থাকবেন না। বুধবার প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ ফুরনোর পর সস্ত্রীক হোয়াইট হাউস ছেড়ে গেলেন ট্রাম্প। ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের একটি লনে লাল কার্পেট পাতা হয়েছিল।

ওয়াশিংটনে এদিনের সকালটা ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল এবং ঠান্ডা। তার মধ্যে বরাবরের মতো হোয়াইট হাউসকে বিদায় জানালেন দু’জন। হেলিকপ্টারে চড়ে তাঁদের পৌঁছে দেওয়া হয় জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে। সেই সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প দম্পতি। তাঁরা যাবেন ফ্লোরিডায়।

হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “হোয়াইট হাউসে চারটি বছর দারুণ কাটিয়েছি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্মানের ব্যাপার।” পরে বলেন, “আমি শুধু বলতে চাই, গুডবাই।”

বাইডেন যখন শপথ নেবেন, ততক্ষণে ট্রাম্প পৌঁছে যাবেন ফ্লোরিডায় তাঁদের রিসর্টে। আমেরিকার ১৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট পরবর্তী প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের সময় উপস্থিত থাকছেন না।

একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি পাল্টে দিতে চলেছেন বাইডেন। তাঁর নির্দেশে আমেরিকা নতুন করে যোগ দেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং প্যারিস আবহাওয়া চুক্তিতে। ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আমেরিকায় আসার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই বাইডেন তা রদ করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। বাইডেন সেই পাঁচিল তৈরির কাজও বন্ধ করে দেবেন।

করোনা অতিমহামারী নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করবেন বাইডেন। নতুন মার্কিন প্রশাসন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবে। আমেরিকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করার উদ্যোগ নেবে। করোনা অতিমহামারীর ফলে যাঁরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে না। বরং তাঁদের জন্য সামাজিক রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করবে।

বাইডেন মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল পাঠিয়ে প্রস্তাব করবেন, আমেরিকায় যে লক্ষ লক্ষ মানুষ বে আইনিভাবে প্রবেশ করেছেন, কোনওরকম কাগজপত্র ছাড়াই বছরের পর বছর জীবনধারণ করছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জন করার একটা সুযোগ দেওয়া হোক। বাইডেনের এক সহযোগী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন যে ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে, তা পূরণের জন্য ব্যবস্থা নেবেন বাইডেন। সেই সঙ্গে চেষ্টা করবেন যাতে আমেরিকাকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More