ভয় পেয়ে দিল্লি ছেড়ে যাবেন না, লকডাউনের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে আবেদন কেজরিওয়ালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার রাত থেকেই রাজধানী দিল্লিতে শুরু হচ্ছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে শহর ছেড়ে না যান, সেজন্য তাঁদের উদ্দেশে আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গতবছর দেশ জুড়ে লকডাউন হওয়ার পরে পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁদের বাড়ি ফিরে যান। যানবাহন বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরার সময় তাঁদের যথেষ্ট ভোগান্তি হয়। পথে মারা পড়েন অনেকে। দিল্লিতে লকডাউনের সময় যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সচেষ্ট হয়েছেন কেজরিওয়াল। গতবছর লকডাউনের সময় কাজকর্ম বন্ধ থাকায় পরিযায়ী শ্রমিকরা অভাবে পড়েছিলেন। সেজন্যই তাঁরা কর্মস্থল ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশে পা বাড়ান। এবার কেজরিওয়াল পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার তাঁদের দেখবে।

কেজরিওয়াল পরিযায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি হাত জোড় করে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা কেউ শহর ছেড়ে যাবেন না। মাত্র ছ’দিন লকডাউন করা হচ্ছে। বাড়ি যেতে গেলে আপনাদের অনেক সময় নষ্ট হবে। আপনারা শহরেই থেকে যান। আমাকে বিশ্বাস করুন, সরকার আপনাদের দায়িত্ব নেবে।”

দিল্লিতে কেন লকডাউন করা হচ্ছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না। আমি জানি, লকডাউন হলে অনেকের ব্যবসায় ক্ষতি হবে। বিশেষ করে গরিব মানুষজন সংকটে পড়বেন।” পরে তিনি বলেন, “আমি নিজেও একসময় লকডাউনের বিরোধী ছিলাম।” তাঁর মতে, লকডাউনের ফলে কোভিডকে পরাস্ত করা যাবে না। কিন্তু কোভিডের সংক্রমণ কমানো যাবে।

কেজরিওয়াল বলেন, লকডাউনের সময় হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য বেড বাড়ানো হবে। দিল্লিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের থেকে ছ’টা দিন চেয়ে নিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে আমরা হাসপাতালে আরও বেডের ব্যবস্থা করব।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শহরের বাসিন্দাদের কাছে আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা বা কোভিড সংক্রান্ত অপর কোনও তথ্য গোপন করেনি। কোভিড টেস্টের সংখ্যাও কমানো হয়নি। তাঁর কথায়, “দিল্লিতে বড় সংখ্যক মানুষের কোভিড টেস্ট হয়েছে। আমরা দেখেছি কোনও কোনও রাজ্য টেস্ট কমিয়েছে। এইভাবে তারা সত্যকে চাপা দিতে চাইছে।”

দিল্লির হাসপাতালে বেডের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৫০০ জন। পজিটিভিটি রেট আর সংক্রমণ বেড়েছে। প্রতিদিন যদি ২৫ হাজার রোগী হাসপাতাল ভর্তি হতে চান, তাহলে যেকোনও স্বাস্থ্যব্যবস্থাই সংকটে পড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More