কন্ডোম-সচেতন নয় দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ, বলছে ‘কন্ডোমলজি’ সমীক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্ডোমে সায় নেই দেশের তরুণ-তরুণীদের। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০-২৪ বছর বয়সিদের ৮০ শতাংশই কন্ডোম ছাড়া শেষবার যৌন সংসর্গ করেছেন। মহিলামহলেও একই ছবি। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশই কন্ডোম ব্যবহারে আগ্রহী। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এল এমনই বেশ কিছু তথ্য।

পোশাকি নাম ‘কন্ডোমলজি’। ‘কনজিউমার’, ‘কন্ডোম’ এবং ‘সাইকোলজি’— এই তিনটি বিষয়কে একত্রে জুড়ে শিরোনাম ঠিক করা হয়েছে এই সমীক্ষার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ হলেও ভারতে এমন উদ্যোগ এই প্রথম।

এই সমীক্ষার দায়িত্বে রয়েছে দেশে কন্ডোমের ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থা। তারাই গাঁটছড়া বেঁধে ‘কন্ডোম অ্যলায়েন্স’ নামে একটি দল তৈরি করে। তারপর একাধিক সরকারি নথিপত্র, বাজারে কন্ডোম বিক্রির হার ইত্যাদি মানদণ্ডকে কাজে লাগিয়ে দেশের আমজনতা, বিশেষ করে যুব সমাজের প্রতিক্রিয়া, মানসিকতা এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার সাম্প্রতিক অবস্থাকে রিপোর্টে তুলে ধরা হয়।

বিশ্লেষকদের সাফ জবাব, তরুণ ভবিষ্যৎ আদৌ এই ইস্যু নিয়ে চিন্তিত নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোটামুটি অর্ধেক নাগরিকের বয়স ২৪ বছর বা তার নীচে। অন্যদিকে ৬৫ শতাংশ নাগরিকের বয়স ৩৫ বছরেরও কম। অথচ তাঁদের সিংহভাগই কন্ডোমের বিষয়ে অসচেতন, অনাগ্রহী। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের সমীক্ষাও বলছে, দেশের মাত্র ৫.৬ শতাংশ নাগরিক যৌন সম্পর্কের সময় কন্ডোম ব্যবহার করে থাকেন। অন্যদিকে কন্ডোম অ্যালায়েন্সের সমীক্ষকদের মতে, বিয়ের আগে মাত্র ২৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৭ শতাংশ মহিলা কন্ডোম ব্যবহারে ইচ্ছুক।

স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক বছরে সরকারি প্রচার ও সচেতনতামূলক অভিযান সত্ত্বেও কন্ডোম বিক্রি মাত্র ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গোটা সমস্যার মূলে রয়েছে নীতিপুলিশি সামাজিক ট্যাবু। কন্ডোম কখন এবং কেন ব্যবহার করা উচিত— এই নিয়ে দেশের যুবসমাজ এখনও সংকোচমুক্ত নন। যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে অনেকের ধারণাও স্বচ্ছ নয়। যার অনিবার্য পরিণাম— অবাঞ্ছিত গর্ভপাত, জটিল শারীরিক সমস্যা এবং এইডসের মতো মারণব্যাধি।

সমীক্ষাকারী সংগঠনের সদস্য রবি ভাটনগরের মতে, শুধু কন্ডোম ব্যবহার নয়, যৌনতার বিষয়েও পশ্চিমি দেশের তরুণ প্রজন্ম ভারতের যুবক-যুবতীদের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে। আর এই ব্যবধান ঘোচাতে হলে যৌন শিক্ষা, উত্তেজক বিষয় সম্প্রচার, কন্ডোমের বিজ্ঞাপনে বিধিনিষেধ— ইত্যাদি নানা ইস্যু নিয়ে ভাবনাচিন্তা চালাতে হবে। দলের আরেক কর্মী বিথিকা যাদব জানান, ‘সময় এসেছে কন্ডোমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খোলাখুলি এবং স্পষ্ট আলোচনার৷ দেশের অল্পবয়সিরা যাতে অহেতুক গোঁড়ামির শিকার না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More