করোনার কোপে শহরের একাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিন থিয়েটার, বন্ধ হবে সাময়িকভাবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবছরের লকডাউনের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতেই পারেননি অনেকে! কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আরও মারাত্মক রূপ নিয়ে ফিরে এসেছে! নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। করোনার কাঁটা এসে বিঁধেছে শহরের একাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিন থিয়েটারের ওপরে।

এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে কলকাতার বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ। ইতিমধ্যে একাধিক রাজ্যে জারি হয়েছে নাইট কার্ফু। আগামী দিন সাতেকের জন্য দিল্লিতে সম্পূর্ণ লকডাউন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাধ্য হয়েই তাই সাময়িক ভাবে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শহরের বেশ কিছু সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহের মালিক।

নবীনা সিনেমা হলের মালিক নবীনের কথায়, এই মুহূর্তে দেশ জুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাই সাময়িক ভাবে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি উন্নতি হলে খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত অবশ্য জানিয়েছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরে হল বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। বড় বাজেটের ছবি এলে তবেই হল খুলবে বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ দিন হল বন্ধ থাকলে কর্মীদেরও বেতন দিয়ে আর সাহায্য করতে পারবেন না বলে মনে করছেন তিনি।

আসলে, ২০২০তে লকডাউনের পর সেই ভাবে কোনও বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পায়নি! ফলে ব্যবসাতে লক্ষ্মীলাভ হয়নি, বরং লসেই রান করেছে বেশির ভাগ প্রেক্ষাগৃহ। মানুষও তেমনভাবে ভয় কাটিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে আসেননি! আর সেই সব ভাবনা চিন্তা করে আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নবীনা, প্রিয়া, জয়া, বসুশ্রী, মেনকার মতো প্রেক্ষাগৃহ।

এই বিষয়ে ‘জয়া’ সিনেমার মালিক মনোজিৎ বণিক জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় থেকে কর্মীদের ন্যূনতম বেতন দিয়ে আসছেন তাঁরা। নিজেদের ব্যবসা কেউই বন্ধ রাখতে চায়না। রিলিজ নেই কোনও। তাই হলমুখী হচ্ছে না দর্শক। তবে সরকার হল খুলে রাখার নির্দেশ দিলেও, বিদ্যুতের বিল বা পৌরসভার করের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়নি বলে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

মেনকা হলের মালিক প্রণব রায়ের কথায়, প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের কারণ হিসেবে অতিমারির থেকেও বড় বাজেটের ছবি মুক্তি না পাওয়াকে বড় কারণ হিসেবে রাখতে চান তিনি। তাঁর মতে, ‘সূর্যবংশী’, ‘থালাইভি’, ‘চেহরে’, ‘রাধে’র মতো বলিউড ছবির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এদিকে ‘গোলন্দাজ’, ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘বেলাশুরু’র মতো বাংলা সিনেমাও এখনই মুক্তি পাচ্ছে না। যার কারণেই দর্শকেরা হলমুখী হচ্ছেন না। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার ঝুঁকিও অনেকেই নিতে চায়ছেন না!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More