২ জন আইপিএস অবজার্ভার ও ১ জন স্পেশাল অবজার্ভার, বাংলায় বেনজির কঠোর নির্বাচন কমিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বার আর এক জন পুলিশ অবজার্ভার নয়। নজিরবিহীন ভাবে বাংলায় এ বার দু’জন আইপিএস অবজার্ভার নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে এক জন স্পেশাল অবজার্ভার ও একজন এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার তো থাকছেনই।

এ মাসের গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেদিন হলদিয়ায় ভোট প্রচারে এসেছিলেন, সেদিনই ব্যাপারটার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। বক্তৃতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সবে মঞ্চ থেকে নেমেছেন। রাজ্য বিজেপির এক তরুণ নেতা তাঁকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীজি আপনি শুধু ভোটটা করিয়ে দিন। বাংলায় মানুষ যেন ভোট দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী জবাবে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই পারবে।

শুধু প্রধানমন্ত্রী কেন, পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, “ভোটের দিন রাস্তায় তৃণমূলের এক জন গুণ্ডাও থাকবে না। নির্ভয়ে ভোট দেবেন”।

শুক্রবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দিলেন, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্যই দু’জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন,“পশ্চিমবঙ্গে দু’জন আইপিএস অবজার্ভার থাকবেন। প্রথম জন বিবেক দুবে। অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৮১ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ অবজার্ভার ছিলেন। সেই সঙ্গে থাকবেন মৃণাল কান্তি দাস। তিনি মণিপুর ক্যাডারের ১৯৭৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসার ছিলেন। গত লোক সভা ভোটে তিনি ছিলেন ত্রিপুরার পুলিশ অবজার্ভার।”

পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল অবজার্ভার হবেন অজয় নায়েক। ‘৮৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার তিনি। অজয় নায়েক বিহারে মুখ্য নির্বাচন অফিসার ছিলেন। এদিন তাঁর কথা বলতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “দ্য বেস্ট অফ দ্য বেস্ট অফিসার!” সেই সঙ্গে বাংলার এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হবে বি মুরলীকুমারকে।

এদিন সুনীল অরোরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একমাত্র বাংলাতেই দু’জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে। বাকি তিন রাজ্য ও এক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ভোটে এক জন করেই পুলিশ অবজার্ভার থাকছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাংলা সফরে এসেছেন উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চও কলকাতায় এসে গিয়েছে। সেখানে সমস্ত দলই বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল। তা ছাড়া যে রাজ্যে বিরোধী দলের সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে আধলা ইট ছোড়া হয়, তার পর শাসক দলের নেতা সদর্পে বলেন, মানুষের রাগের বহিঃপ্রকাশ সেখানে নিশ্চয়ই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। অনেকের মতে, সবে শুরু। পরিস্থিতি অনুযায়ী কমিশন হয়তো আরও কিছু ব্যবস্থা নেবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More