লকডাউনের জেরে এপ্রিলে দেশে চাকরিতে নিয়োগ কমেছে ৬২ শতাংশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরিষেবা এবং ম্যানুফ্যাকচারিং। লকডাউনের ফলে কর্মী নিয়োগ ব্যাপক কমেছে দু’টি ক্ষেত্রেই। নোকরি জবস্পিক নামে এক সূচক অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় গত এপ্রিলে নিয়োগ কমেছে ৬২ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিলে ওই সূচক ছিল ২৪৭৭ এর ঘরে। গত এপ্রিলে তা ৯৫১ –র ওপরে ওঠেনি। কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়োগের হার কী পরিমাণে কমেছে, তার শতাংশের হিসাব দিয়েছে নোকরি জবস্পিক।

এপ্রিলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন ও বিভিন্ন বিমান সংস্থায় নিয়োগ কমেছে ৯১ শতাংশ। অটোমোবাইল ও তার সহায়ক শিল্পে কমেছে ৮২ শতাংশ, খুচরো বিক্রির ব্যবসায় কমেছে ৭৭ শতাংশ, অ্যাকাউন্টিং ও ফিনান্সে কমেছে ৭০ শতাংশ। সাধারণভাবে প্রতিটি মেট্রো শহরেই কমেছে নিয়োগ। রাজধানী দিল্লিতে নিয়োগ কমেছে ৭০ শতাংশ। চেন্নাইতে কমেছে ৬২ শতাংশ। কলকাতা ও মুম্বইয়ে কমেছে ৬০ শতাংশ করে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি কমেছে তরুণদের। একেবারে নতুন থেকে তিন বছর পর্যন্ত যাদের অভিজ্ঞতা, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগ কমেছে ৬৭ শতাংশ। চার থেকে সাত বছরের মধ্যে যাঁদের অভিজ্ঞতা, তাঁদের নিয়োগ কমেছে ৬২ শতাংশ। আট থেকে ১২ বছরের মধ্যে যাঁদের অভিজ্ঞতা, তাঁদের নিয়োগ কমেছে ৫৫ শতাংশ। ১৩ থেকে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়োগ কমেছে ৫৩ শতাংশ। ১৬ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা যাঁদের, তাঁদের নিয়োগ কমেছে ৫০ শতাংশ।

নোকরি ডট কমের চিফ বিজনেস অফিসার পবন গোয়েল বলেন, “কোভিড ১৯ অতিমহামারীর ফলে গত এপ্রিলে নিয়োগ কমেছে ৬২ শতাংশ। হোটেল, পর্যটন ও এয়ারলাইন্সে নিয়োগ কমেছে সবচেয়ে বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত নানা পরিষেবা এবং ওষুধ কোম্পানিতে লকডাউনের তত প্রভাব পড়েনি।”

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৫৮ জন। দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪৯ হাজার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার, ৬ মে, সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯৩৯১। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৪৫৬ জন, যা একদিনে সবথেকে বেশি। এই মুহূর্তে দেশে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৪১৮৩ জন। ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৯৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ১২৬ জন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৩৩৫১৪ জন।

ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ক্রমাগত বাড়ছে। গতকাল বিকেল ৫টার বুলেটিন পর্যন্ত ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ছিল ২৮.১৮ শতাংশ। বুধবার সকালে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮.৭১ শতাংশ। গত কয়েক দিনে ক্রমাগত বেড়েছে এই সুস্থ হয়ে ওঠার হার। এই পরিসংখ্যান ইতিবাচক বলেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের এই পরিসংখ্যান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের তরফে পাঠানো পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More