৬ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরলেন দীপিকা, এখনও এনসিবি দফতরে সারা-শ্রদ্ধা

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ মাদক মামলায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর সমন পেয়ে শনিবার সকালেই এনসিবি দফতরে এসে হাজির হন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। তারপর থেকে লাগাতার প্রায় ৬ ঘণ্টা জেরা করা হয় অভিনেত্রীকে। অবশেষে দফতর থেকে বেরলেন অভিনেত্রী। কিন্তু আরও দুই অভিনেত্রী সারা আলি খান ও শ্রদ্ধা কাপুর এখনও এনসিবি দফতরের মধ্যেই রয়েছেন। তাঁদের জেরা এখনও চলছে বলে খবর।

শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ মুম্বইয়ের কোলাবার এভলিন গেস্ট হাউসে এনসিবির দফতরে হাজির হন দীপিকা। তার কিছুক্ষণ পরে একে এক আরও দুই অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলি খানকেও হাজির হতে দেখা যায়। দীপিকাকে কোলাবাতে ডাকা হলেও সারা ও শ্রদ্ধাকে এনসিবির বালার্ড এস্টেট অফিসে ডাকা হয়েছে। সেখানে পৃথকভাবে দু’জনের জেরা হচ্ছে বলে খবর। এদিকে এদিন ফের একবার ডাকা হয় দীপিকার ম্যানেজার করিশ্মা প্রকাশকে। অবশ্য দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। দফতর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি দীপিকা। সোজা গাড়িতে উঠে রওনা দেন তিনি।

সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে মাদক সম্পর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই এই অভিনেত্রীদের নাম পেয়েছে এনসিবি। তাই এই সম্পর্কিত জেরা করা হয়েছে তাঁদের। তবে ঠিক কী প্রশ্ন করা হয়েছে বা অভিনেত্রীরা কী জবাব দিয়েছেন সে সম্পর্কে কারও তরফে কিছু জানানো হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। সমন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মাদক তদন্তে বয়ান রেকর্ডের জন্য এনসিবি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার সিমন খাম্বাট্টা। এরপর গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে দীপিকা পাড়ুকোনের ম্যানেজার করিশ্মা প্রকাশ এবং অভিনেত্রী রকুল প্রীত সিংকে। এনসিবি কর্তারা ৪ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছেন রকুল প্রীতকে। তার থেকেও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে করিশ্মাকে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই জেরা করার কথা ছিল রকুল প্রীত সিংকে। যদিও সেদিন সকালে অভিনেত্রী দাবি করেন যে নারকোটিক্স ব্যুরোর তরফে কোনও সমন পাননি তিনি। পরে দুপুরের দিকে রকুল জানান, তিনি ঠিকানা বদল করেছিলেন। তাই সমনের চিঠি আসতে দেরি হয়েছে। এরপর শুক্রবার এনসিবি দফতরে যান রকুল প্রীত সিং।

এছাড়াও গতকাল রকুল প্রীত সিং এবং করিশ্মা প্রকাশ ছাড়াও জেরা করা হয়েছে ক্ষিতীশ রবি প্রসাদ এবং অনুভব চোপড়াকেও। এরা দু’জনেই করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গতকাল সকালে নারকোটিক্স ব্যুরোর একটি দল ক্ষিতীশ রবি প্রসাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তারপর ক্ষিতীশকে সঙ্গে নিয়েই দফতরে ফেরেন এনসিবি কর্তারা। জানা গিয়েছে, এ যাবৎ এনসিবি যে সব মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতার করেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারবার সামনে এসেছিল ক্ষিতীশের নাম।

যদিও করণ জোহর জানিয়েছেন যে ক্ষিতীশ রবি প্রসাদ এবং অনুভব চোপড়াকে ব্যক্তিগত ভাবে মোটেও চেনেন না তিনি। তাই এই দু’জন করণের ঘনিষ্ঠ এমনটা বলা উচিত নয়। করণের কথায়, অনুভব চোপড়া কোনওদিনই ধর্মা প্রোডাকশনের কর্মী ছিলেন না। কেবল ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ধর্মা-র সঙ্গে দুটি প্রোজেক্টে কাজ করেছিলেন তিনি। আর ক্ষিতীশ রবিপ্রসাদ গত বছর ধর্মা প্রোডাকশনের সঙ্গে জড়িত একটি শাখা সংগঠন ধর্মাটিক এনটারটেনমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। একটি প্রোজেক্টের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল ক্ষিতীশকে। তবে পরে ওই প্রোজেক্টের কাজ আর এগোয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More