অভিষেকের বাড়িতে জমজমাট দুর্গাপুজো, হাজির শতাব্দী, রচনা, লাবণী

2

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক চ্যাটার্জী (Abhisek Chatterjee) টালিগঞ্জের কার্তিক নামেই একসময় জনপ্রিয় ছিলেন। কারণ তাঁর কার্তিকের মতো গোঁফ আর চুল। সেই অভিষেকের বাড়িতেই কার্তিক-সহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ এবং মা দুর্গা সপরিবারে হাজির।

প্রতিবার অভিষেকের ফ্ল্যাটেই হয় দুর্গা পুজো। অভিষেক বিয়ে করেছেন সংযুক্তা চট্টোপাধ‍্যায়কে। বিয়ের তেরোটি বসন্ত কাটিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। রয়েছে তাঁদের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও। সে কিশোরী মেয়ের আবদারেই বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেছেন অভিষেক চ্যাটার্জী।একেবারে পুজোর রীতিনীতি মেনে, পাঁচ দিন ধরে মহা সমারোহে পুজো হল অভিষেকের ফ্ল্যাটে। সংযুক্তা ঘরে-বাইরে দুই সামলাতে যেন নিজেই এক দশভুজা। একটি বেসরকারি কোম্পানির উচ্চপদে কাজ করেন সংযুক্তা। সেই সঙ্গে সংসারের সব দিক খেয়াল রাখতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার।অন্যদিকে অভিষেক এখন চলচ্চিত্র দুনিয়া থেকে ছোট পর্দাতেই মন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রির এক নায়ক ও নায়িকা তাঁকে মেরুকরণ করে সব ছবি থেকে বাদ দেন। পলিটিক্সের শিকার হন তিনি। দীর্ঘকাল অভিষেকের হাতে কাজ ছিল না। সেসময়ই অভিষেকের পাশে দাঁড়ান সংযুক্তা। এসব কারণে তাঁদের সম্পর্কে ধরেনি এতটুকু চিড়।তরুণ মজুমদার পরিচালিত পথভোলা ছবির মাধ‍্যমে টলিউডে পা রাখেন অভিষেক। নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ‍্যে অন‍্যতম অভিষেক চট্টোপাধ‍্যায়। একটা সময় নায়ক হিসেবে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। ৩৫ বছরে ২৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিষেক। গীত-সঙ্গীত, সংঘর্ষ, ফিরিয়ে দাও, দহন, বাড়িওয়ালি, মধুর মিলন, মায়ের আঁচল, আলো, স্বপ্ন, ইন্দ্রজিৎ, নীলাচলে কিরীটির মতো বহু হিট ছবি দিয়েছেন তিনি দর্শকদের। এমনকি এখনও তাঁর জনপ্রিয়তায় এতটুকুও ভাঁটা পড়েনি।এখন খড়কুটো সিরিয়ালে গুনগুনের বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিষেক। ছোট পর্দায় অভিষেককে নতুন রূপে নিয়ে আসেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ‘অন্দরমহল’ থেকে ‘খড়কুটো’ বিভিন্ন সিরিয়ালে বিগত কয়েক বছর বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন অভিষেক।অভিষেক আর সংযুক্তা দুজনেই নিজেদের কর্মজগতে ব্যস্ত। কিন্তু মেয়েকে সময় দিতে দুজনে ভোলেন না। তাই আরও বেশি করে এই দুর্গা পুজোর আয়োজন। অভিষেক নিজে পুজোতে বসেন এবং ষোড়শোপচারে পুজো হয় তাঁর বাড়িতে। মা দুর্গার আরাধনায় এই এতটুকু খামতি। বোধন, নবপত্রিকা থেকে অঞ্জলি, হোম, সন্ধিপুজো সবটাই সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে আয়োজন করেন অভিষেক।টক-মিষ্টি আম্রপালিও জমাতে পারে বিজয়া দশমীর মিষ্টিমুখ, কীভাবে বানাবেন

মেয়ের জন্য যেহেতু পুজো, তাই মেয়েই অভিষেকের উমা। তাই বাবা অভিষেক মেয়েকে নতুন জামা নিজেই পরিয়ে সাজিয়ে দেন। স্ত্রী যেহেতু ব্যস্ত তাই মেয়েকে বেশি সময়টাই দেন অভিষেক।অভিষেকের বাড়ির পুজোর আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল টলিউড স্টারদের রিইউনিয়ন। আশি-নব্বই দশকের সমস্ত প্রথম সারির স্টার অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই আমন্ত্রিত থাকেন অভিষেকের বাড়ির দুর্গা পুজোয়। তবে শুধু পুজো বলে নয়, এই টালিগঞ্জ পাড়ার বন্ধুরা দীর্ঘ দশকের পর দশক বন্ধু। যে কোনও ছুটিতেই নিজেদের মতো গেট টুগেদার আয়োজন করে নেন তাঁরা।অভিষেক-সংযুক্তার পুজোতে এ বছরেও সপ্তমী থেকে নবমী ছিল স্টারেদের মেলা।
অভিষেকের ফ্ল্যাটে এলেন পরিবার-সহ শতাব্দী রায়। শতাব্দীর বর মৃগাঙ্ক-ও ভীষণ বন্ধু অভিষেকের। আবার অভিষেকের ভীষণ কাছের বন্ধু কৌশিক ব্যানার্জী ও লাবণী সরকার। কৌশিক-লাবণী দম্পতিও হাজির ছিলেন অভিষেকের পুজোয় বেশ কদিন। সাথেসাথে দেখা মিলল ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা ব্যানার্জীর। রচনা আড্ডা দিলেন অভিষেক, কৌশিক, লাবণীর সঙ্গে। একসঙ্গে আড্ডা, গল্প, ভোগ খাওয়া, আর সেই সঙ্গে যেন উঠে এল নাইন্টিজ বাংলা ছবির সেই নস্ট্যালজিয়া। নিজেদের সুখ-দুঃখ যেমন তাঁরা ভাগ করে নিলেন আড্ডাগল্পে, তেমনই সারাবছরের অক্সিজেনও পেলেন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.