আরিয়ানের জামিনে ‘আনন্দাশ্রু’ শাহরুখের, ‘উদ্বেগে শুধু কফির পর কফি খাচ্ছিলেন’, জানালেন রোহাতগি

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  কেঁদে ফেললেন বাবা (father) শাহরুখ খান (shahrukh khan)। তবে এ কান্নায় কষ্টকে ছাপিয়ে গিয়েছে খুশি, আনন্দ। ছেলে আরিয়ান (aryan khan) ক্রুজ মাদক মামলায় ২৪ দিন আর্থার রোড সেন্ট্রাল জেলে কাটিয়ে জামিন পাওয়ায় আনন্দে কেঁদে ফেলাটাই স্বাভাবিক। আরিয়ানের হয়ে বম্বে হাইকোর্টে জামিনের আবেদনের শুনানিতে শেষ পর্বে সামিল হয়েছিলেন নামী আইনজীবী. দেশের প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি (mukul rohatgi)। সেই রোহাতগিই শাহরুখের ‘আনন্দাশ্রু’র (tears of joy) সাক্ষী। ছেলে বাড়িতে নেই, জেলে বসে কী করছে, এই দুর্ভাবনায় যাবতীয় পেশা সংক্রান্ত কাজকর্ম বন্ধ রেখেছিলেন শাহরুখ, জানিয়েছেন রোহাতগি। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন,  শেষ যে তিন-চারদিন ছিলাম, ওঁকে খুব, খুবই উদ্বিগ্ন দেখেছি। ঠিকমত খাবার মুখে তুলেছেন কিনা, তাও নিশ্চিত নই। শুধু কফির পর কফি চলছিল। মুখে উদ্বেগের কালো মেঘ। কিন্তু সেই বাবার মুখে বিরাট স্বস্তির ছাপ দেখলাম শেষ যখন দেখা হল।

এর আগে দুবার ২৩ বছরের আরিয়ানের জামিনের আবেদন খারিজ হয়। শাহরুখ-গৌরী ছেলের জামিনের আবেদনের শুনানিতে কখনও ছিলেন না। কিন্ত শেষবার জামিন খারিজ হওয়ার পর শাহরুখ গত ২১ অক্টোবর আরিয়ানের  সঙ্গে জেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের লিখিত আদেশ জেলে পৌঁছলেই আরিয়ান ছাড়া পাবেন। একে দেওয়ালি, তায় ২ নভেম্বর বাবার জন্মদিন।  আরিয়ান, শাহরুখের আনন্দ আরও বেড়ে যাবে।

২৪টা দিন শাহরুখ-গৌরীর কেমন যন্ত্রণায় কেটেছে, জানাতে গিয়ে রোহাতগি বলেন, দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, ওরা নিম্ন আদালতে হেরে যায়। তাই হাইকোর্টে আবেদন করতে হয়। তখন ইতিমধ্যে প্রায় ১ মাস কেটে গিয়েছে। তাই বাবা-মার উত্কণ্ঠা, ভয়, দুশ্চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই ওঁদের গভীর নজর ছিল ঘটনাবলীর ওপর। আর শাহরুখ তো সারাাদিন বাড়ি বসে নোট লিখতেন আইনি টিমকে সাহায্য করতে।

রোহাতগি সওয়াল করেছিলেন, আরিয়ানের হেফাজত থেকে  কোনও মাদক মেলেনি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো খুবই ঠুনকো কারণ  দেখিয়েছে গ্রেফতারির পিছনে। ওদের পুরো মামলাটাই দাঁড়িয়ে ছিল  ২ বছরের পুরানো হোয়াটসঅ্যাপের ওপর, যা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক, ক্রুজের সঙ্গে যার কোনও যোগই নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি একেবারে ভুল, আরিয়ানের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরবাজের জুতোর ভিতরে চরস লুকিয়ে রাখার কথা আরিয়ান জানতেন, অর্থাত্ মাদক থাকার ব্যাপারে তিনি সচেতন ছিলেন, বিশেষ আদালতের এই যুক্তিও উড়িয়ে দিয়ে রোহাতগি বলেন, এটা একেবারে সুদূরপ্রসারিত ভাবনা। মাদকের ব্যাপারে সচেতন থাকার কোনও প্রশ্নই এখানে ওঠে না। কেননা আরবাজ আমার চাকর নয়, আমার নিয়ন্ত্রণেও নেই।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.