দিল্লি দাঙ্গায় নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন সাসপেন্ডেড আপ নেতা, দাবি দিল্লি পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমি হিংসায় উস্কানি দিয়েছিলাম। দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে জেরায় একথা স্বীকার করেছেন আম আদমি পার্টির সাসপেন্ড হওয়া কাউন্সিলার তাহির হুসেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন আম আদমি পার্টির কাউন্সিলার তাহির হুসেন। এরপর দিল্লি পুলিশের ইন্টারোগেশন রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য, তাহির হুসেন বলেছেন, ৮ জানুয়ারি শাহিনবাগে পপুলার ফ্রন্টের অফিসে জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাহিরের ওপরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন বাড়ির ছাদে যত বেশি সম্ভব কাচের বোতল, পেট্রল, অ্যাসিড ও পাথর জড়ো করেন। তাহিরের ঘনিষ্ঠ খালিদ সইফিকে বলা হয়েছিল, তিনি যেন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার জন্য যত বেশি সম্ভব মানুষকে জড়ো করেন।

পুলিশের দাবি, তাহির হুসেন জেরায় বলেছেন, “খালিদ সইফি ও তার বন্ধু ইশরাত জাহান প্রথমে খুরেজি অঞ্চলে শাহিনবাগের ধাঁচে ধরনা শুরু করেন। ৪ ফেব্রুয়ারিতে আবুল ফজল এনক্লেভে আমি খালিদ সইফির সঙ্গে দেখা করে দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করি।” দাঙ্গায় নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করে তাহির বলেছেন, “আমি স্থির করেছিলাম, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দাঙ্গায় উস্কানি দেব। খালিদ সইফি বলেছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় এমন কিছু করতে হবে যাতে সরকার নতজানু হতে বাধ্য হয়।”

ইন্টারোগেশন রিপোর্টে আছে, তাহির হুসেন স্বীকার করেছেন, তিনি বাড়ির ছাদে অ্যাসিড, পেট্রল, ডিজেল ও পাথর জড়ো করেছিলেন। সেইসঙ্গে থানা থেকে জোগাড় করেছিলেন পিস্তল। তিনি বলেছেন, “২৪ ফেব্রুয়ারি আমি কয়েকজনকে বাড়িতে ডেকেছিলাম। তাঁদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, ছাদ থেকে পাথর, পেট্রল বোমা এবং অ্যাসিডের বোতল ছুড়তে হবে। আমার পরিবারকে এর আগেই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম অন্যত্র। ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা দেড়টা নাগাদ আমরা পাথর ছুড়তে শুরু করি।”

পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, দিল্লি দাঙ্গায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হলেন তাহির হুসেন। আইবি-র কর্মী অঙ্কিত শর্মা খুনেও তাঁর হাত ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদবাগের নর্দমা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহির জানিয়েছেন, তাঁকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা নিয়ে তিনি দাঙ্গার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। টাকার একটি অংশ তিনি নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিলি করেছিলেন। বিক্ষোভকারীদেরও তিনি বলেছিলেন, আপনারা বড় কিছুর জন্য তৈরি থাকুন। তাহির খবর পেয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছে কেউ কেউ নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সভা করার চেষ্টা করছে। তাদের ‘শিক্ষা দেওয়ার জন্য’ তিনি পিস্তল নিয়ে তৈরি ছিলেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More