ট্যাক্টর মিছিল করুন কিন্তু প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে যেন বিঘ্ন না ঘটে, দিল্লি পুলিশের কড়া বার্তা কৃষকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিল শুরু হবে রাজপথ থেকে। তা যাবে লালকেল্লা পর্যন্ত। রবিবার সন্ধ্যায় এমনই জানাল দিল্লি পুলিশ। শনিবার কৃষকরা জানান, পুলিশ তাঁদের ট্র্যাক্টর মিছিলের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু কোথায় মিছিল শুরু হবে, কোথায় শেষ হবে, মিছিলকে কী বিধিনিষেধ মানতে হবে, কিছুই জানা যায়নি। রবিবার পুলিশ জানায়, “কৃষকদের মিছিল দিল্লিতে ঢুকতে পারবে, কিন্তু প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কোনভাবেই বিঘ্ন ঘটাতে পারিবে না।”

তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার দাবিতে প্রায় দু’মাস ধরে কৃষকরা দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছেন। ২৬ জানুয়ারি তাঁরা দিল্লিতে ঢুকে রিং রোড দিয়ে মিছিল করবেন। রবিবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে পুলিশ দু’দফায় বৈঠক করে। পরে পুলিশ জানায়, কৃষকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মিছিল দিল্লিতে ঢুকতে পারবে। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার গিয়েই কৃষকদের রাজধানী থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হলে তবেই ট্র্যাক্টর মিছিল শুরু হবে। অর্থাৎ সাড়ে ১১ টার আগে তা শুরু হবে না।

এর মধ্যে তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা করে মিছিল করে মুম্বইয়ের দিকে রওনা হয়েছেন হাজার হাজার কৃষক। মহারাষ্ট্রের ২১ টি জেলা থেকে আসছেন তাঁরা। শনিবার তাঁরা নাসিকে সমাবেশ করেন। সেখানে থেকে ১৮০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসবেন মুম্বইতে। সোমবার শহরের আজাদ ময়দানে তাঁরা বিশাল সমাবেশ করবেন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার।

বিভিন্ন ছোট ছোট কৃষক ইউনিয়ন যৌথভাবে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা নামে একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। সেই মঞ্চই মিছিলের ডাক দিয়েছিল। রবিবার মিছিল মুম্বইতে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সপ্তাহ দু’য়েক আগে শরদ পাওয়ার দিল্লিতে অবস্থানরত কৃষকদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কৃষকদের দাবি মেনে কৃষি আইনগুলি বাতিল না করলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার ফল ভোগ করতে হবে। গত মাসেও তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেন কৃষকদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়। ২৬ তারিখে দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিল করতে চলেছেন কৃষকরা। তার আগে দিল্লিতে অবস্থানরত কৃষকদের সমর্থনে সমাবেশ হবে মুম্বইতে।

রবিবার জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হিরাবেন মোদীকে চিঠি লিখেছেন এক কৃষক। প্রায় ১০০ বছর বয়সী হিরাবেনের কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন, মা হিসাবে যেন তিনি ছেলের ওপরে প্রভাব খাটান। তাহলে নরেন্দ্র মোদীর মন পরিবর্তিত হবে। তিনি কৃষকদের দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

চিঠিটি লিখেছেন পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার গোলু কা মধ গ্রামের বাসিন্দা হরপ্রীত সিং। হিন্দিতে চিঠি লেখা হয়েছে। হরপ্রীত লিখেছেন, অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কৃষকরা দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছেন। বহু কৃষকই চান, বিতর্কিত আইনগুলি বাতিল করা হোক। কৃষকরা দেশের মানুষের ক্ষিধে মেটান। তাঁদের পরিবারের অনেক সন্তান সীমান্তে পাহারা দিচ্ছেন। এইসব কারণে কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়া উচিত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More