ওদিকে কৃষকরা ঠান্ডায় শুয়ে আছেন, এদিকে প্রধানমন্ত্রী লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে তাল ঠুকছেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কার্তিক পূর্ণিমা ছিল। এদিনই বছরের উজ্জ্বলতম চাঁদ দেখা গিয়েছে। তবে দিল্লি সীমান্ত, যেখানে জাতীয় সড়ক ও তার আশপাশে হাজার হাজার কৃষক তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ঠান্ডায় শুয়ে রয়েছেন, সেখান থেকেও কি এতটাই উজ্জ্বল দেখা গিয়েছে চাঁদ?
কে জানে!

কাশীতেও যেন চাঁদ দেখা যায়নি। কার্তিক পূর্ণিমার রাতে বারাণসীতে দেব দীপাবলির উদযাপন হয়। মানে দেবতাদের দীপাবলি। গঙ্গার সব ঘাট জুড়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। এ বারও হল। কিন্তু সোমবার সেই দীপের আলো এবং চাঁদের আলোকেও যেন ম্লান করে দিয়েছে, গোলাপি, হলুদ সহ বহুবর্ণের সব স্টেজ লাইট ও স্কাই লাইটের আলো। আকাশটাই ঢেকে গেছে সে সবে। বহু মূল্যের ইভেন্টে যেমন হয়। আর সেই আলো, গানের ছন্দে কখনও উঠেছে নেমেছে, কখনও বা এলোপাথারি ছড়িয়ে গিয়েছে এদিকে ওদিকে।

এটা যদি ব্যাকড্রপ হয়, তা হলে বলা যেতে পারে পোট্রেইটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গম গম করে ‘ওম নমঃ শিবায়’ গান হচ্ছে। আর প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত একটি বজরায় দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছেন। কখনও বা অন্য নৌকোর দিকে হাত নাড়ছেন। পরে সন্ধ্যায় আবার সারনাথে গিয়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বজনহিতের কথা বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু দিল্লির শীতে কৃষকদের শুয়ে থাকার ছবির পাশে প্রধানমন্ত্রীর এই ছবি অনেকের চোখেই দৃষ্টকটু ঠেকেছে। তাঁদের মনে হয়েছে, প্রধান সেবকের মধ্যে কোথাও যেন স্পর্শকাতরতার অভাব রয়েছে। হতে পারে বারাণসীর অনুষ্ঠান পূর্ব নির্ধারিত ছিল। যে হেতু নির্দিষ্ট দিনে ও লগ্নে অনুষ্ঠান, তাই পিছনোরও অবকাশ নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সেই উদযাপনের ছবি শেয়ার করা কতটা সমীচিন ছিল প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।

বাম কংগ্রেসের একাধিক নেতার কথায়, কৃষকদের দাবি নায্য কি নায্য নয় সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। তাঁদের যদি কেউ ভুল বুঝিয়ে থাকে, তা হলেও তো এদেশেরই কৃষক। গোটা দেশ তাঁদের বিক্ষোভের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অথচ যেন সেদিকে কোনও ভ্রুক্ষেপই নয়।

কাশীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কৃষকদের সম্পর্কে একেবারে বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিলেন তা নয়। এদিন বিকেলে কাশীতে একটি সরকারি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে গিয়ে কৃষক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি মা গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে বলছি, কৃষকদের ঠকানোর কোনও উদ্দেশ্যই আমাদের নেই। আমাদের উদ্দেশ্য গঙ্গার জলের মতোই পবিত্র।”

বস্তুত জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই একটা প্রচার রয়েছে। তা হল, বিজেপি ‘ইভেন্টের’ পার্টি। কারণ, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কীভাবে ইভেন্টে পরিণত করতে হয় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে গেরুয়া শিবিরই দেখিয়েছে। প্রয়াত প্রমোদ মহাজনই ছিলেন এর মূল হোতা। বিজেপির পঁচিশ বছর পূর্তিতে মুম্বইয়ের শিবাজি ময়দানে প্রমোদ অসামান্য এক মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। দেখা গিয়েছিল, শিবাজি ময়দানের একদিকে সুবিশাল মঞ্চ। তার মাঝখানে মাটির গর্ভ থেকে উঠে আসছে একটি পদ্মফুল। আর সেই পদ্মফুলের পাপড়িগুলো খুলে যেতে তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী।
বহু বছর আগে প্রমোদের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিজেপিতে সেই ট্র্যাডিশন যেন সমানে চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More