আন্দোলন কি রাজনৈতিক থাকবে না অরাজনৈতিক, মতবিরোধ কৃষক নেতৃত্বের মধ্যে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ৪০ টি কৃষি ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তাদের অন্যতম ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা গুরনাম সিং চাদুনি সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। তাতে আপত্তি তুলেছে অন্যান্য কৃষক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা সর্বদলীয় বৈঠক চায় না। কৃষক আন্দোলনকে অরাজনৈতিক রাখাই তাদের উদ্দেশ্য। দিল্লি সীমান্তে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকরা অবস্থান করছেন। এই প্রথমবার কৃষক নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ প্রকাশ্যে এল।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার অন্যতম নেতা হান্নান মোল্লা সোমবার বলেন, গুরনাম সিং চাদুনি যে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন, তাতে আমাদের মঞ্চের সায় নেই। হান্নান মোল্লার মতে, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার কার্যনির্বাহী কমিটিতে কোনও প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়ার পরেই তা কার্যকরী হয়। অন্যদিকে চাদুনি জানিয়েছেন, তিনি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় প্রভাবশালী কৃষক নেতাদের অন্যতম হলেন চাদুনি। গত ১৭ জানুয়ারি তিনি কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং শিরোমণি অকালি দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কৃষি আইনগুলির বিরুদ্ধে বৃহত্তর জোট তৈরি করা।

সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিল করতে দেওয়া হবে কিনা, তা দিল্লি পুলিশকেই ঠিক করতে হবে। দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর মিছিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ওই মিছিল হলে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হবে। তাতে পুরো জাতি অস্বস্তিতে পড়বে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, প্রত্যেকের আন্দোলন করার অধিকার আছে ঠিকই কিন্তু বিশ্বের সামনে দেশকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। শীর্ষ আদালতের কাছে সরকার আবেদন করেছিল, ২৬ জানুয়ারি রাজধানী বা তার আশপাশের এলাকায় কাউকে যেন ট্যাক্টর, ট্রলি বা অন্য গাড়ি নিয়ে মিছিল করার অনুমতি না দেওয়া হয়।

কৃষক নেতারা বলেছেন, তাঁদের মিছিলে ১ হাজার ট্র্যাক্টর থাকবে। কিন্তু তা হবে শান্তিপূর্ণ। মিছিলের জন্য প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হবে না। তাঁরা বলেন, মিছিল হবে আউটার রিং রোড ধরতে। অর্থাৎ রাজধানীকে ঘিরে যে রাস্তাটি রয়েছে, সেখান দিয়ে যাবে মিছিল। কৃষক নেতারা দিল্লি ও হরিয়ানা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আমাদের মিছিলের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।

গত ১৫ জানুয়ারি কৃষি আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নবম বারের মতো আলোচনায় বসেন কৃষক নেতারা। সম্প্রতি এই আইনের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গঠন করা হয়েছে কমিটি। আগামী ১৯ জানুয়ারি ফের বৈঠক হওয়ার কথা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More