এখনও রাস্তা আটকালে জবরদস্তি হবে

সব কিছুর একটা সীমা আছে। সীমা ছাড়ালেই বিপদ। কৃষকরা প্রায় দেড় মাস ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। মূলত পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা ওই দাবি তুলেছেন। উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকেও কৃষকদের একাংশ তাঁদের সমর্থনে এসেছেন।

সব মিলিয়ে আন্দোলনরত কৃষকদের সংখ্যা বড় জোর কয়েক লক্ষ। কিন্তু দেশে মোট কৃষকের সংখ্যা কয়েক কোটি। তাঁদের বেশিরভাগ নতুন আইন নিয়ে আপত্তি করেননি। সুতরাং দিল্লির সীমান্তে যে কৃষকরা অবস্থান করছেন, তাঁরা কোনওভাবেই সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষক সমাজের প্রতিনিধি নন। তার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের সঙ্গে আটবার আলোচনায় বসেছে। আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু যে কৃষক সংগঠনগুলি বিক্ষোভ সংগঠিত করেছে, তাদের নেতারা অনড়। তাঁরা বলছেন, আইন বাতিল করতেই হবে। আর কিছুতেই তাঁরা সন্তুষ্ট হবেন না। একপক্ষ যদি এমন অনমনীয় হয়, বিকল্প কোনও প্রস্তাবই বিবেচনা না করতে চায়, তাহলে কি আলোচনায় কোনও লাভ হতে পারে?

কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর শেষবার আলোচনার সময় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আইন প্রত্যাহার করবে না। কৃষক সংগঠনগুলি দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে তার আগে থেকেই কৃষি আইন নিয়ে কয়েকটি পিটিশন জমা পড়েছিল। শীর্ষ আদালতের রায় কৃষকদের পক্ষে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তিনটি আইন এখনই কার্যকর করা যাবে না। সেই সঙ্গে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার সদস্যরা নতুন আইনগুলির ভালমন্দ বিচার করে দেখবেন। কৃষকদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। তারপর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কৃষক আন্দোলনের নৈতিক জয় হয়েছে। এবার তাঁদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত। দিল্লির প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাঁরা খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। এতে তাঁদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষেরও হয়রানি কিছু কম হচ্ছে না। এর ওপরে আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর র‍্যালি বার করবেন। মনে হয় তাঁরা সরকারের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে চাইছেন।

প্রজাতন্ত্র দিবস জাতির জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। কৃষকরা যদি বিক্ষোভ দেখানোর জন্য সেই দিনটিই বেছে নেন, তাহলে ২৬ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটবে। তা কোনওভাবেই কাম্য নয়।

ইতিমধ্যে বিরোধীরা কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কোনও কোনও বিরোধী নেতা আন্দোলনে নেতৃত্ব পর্যন্ত দিচ্ছেন। সে তাঁরা দিতেই পারেন। গণতন্ত্রে আন্দোলন করার অধিকার আছে। কিন্তু আন্দোলন করতে গেলেও দায়িত্বশীল হতে হয়। বিরোধীরা যদি কৃষক আন্দোলনকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চান, তাহলেই মুশকিল।

যে কৃষকরা দিল্লি সীমান্ত অবরোধ করে বসে আছেন, তাঁদের বোঝা উচিত, এইবার আন্দোলন শেষ করার সময় এসেছে। কৃষি আইনে কী খুঁত আছে, তা কমিটি খতিয়ে দেখুক। তারপরে কৃষক নেতাদেরও মতামত নেওয়া হবে। সরকার এতদিন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, বিচারপতিরাও তাঁদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, এরপরেও যদি কৃষকরা বলেন আন্দোলন চালিয়ে যাব, তাহলে যেটুকু সমর্থন পাচ্ছেন তাও হারাবেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More