স্ত্রীর ওপর আক্রোশ মেটাতে ছেলেকেই গুলি করে খুন, অভিযুক্ত বাবা, চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, রায়গঞ্জ: প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে চলত ঝগড়া। নেশার ঘোরে দিকবিদিক জ্ঞান থাকত না। বহুবার স্ত্রীকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করে ছিল সে। এবার সেই রাগই মেটাল চার বছরের ছেলের ওপর। স্ত্রীর ওপর আক্রোশে ছেলেকেই গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের বাহীন গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝিটকিয়া গ্রামের ঘটনা। অভিযুক্ত বাবার নাম নাস্তার আলি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম সাহিল শেখ(৪)। অভিযোগ, ঘরোয়া বিবাদে বুধবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় নিজের ছেলের মাথায় গুলি চালিয়ে খুন করে নাস্তার। অভিযুক্তের স্ত্রী পারুল খাতুনের অভিযোগ, বিয়ে পর থেকেই তাঁর ওপর নানা ধরণের অত্যাচার চালিয়ে আসত নাস্তার। এমনকি, কয়েকবার তাঁকেও খুন করার চেষ্টাও করেছিল। স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাদ লেগেই থাকত। রাতে মদ্যপ অবস্থায় মারধর অত্যাচার চালাতো তাঁর স্বামী। সেই সমস্ত কিছুই মুখ বুঝে সহ্য করছিলেন ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু এদিন ছেলেকেই শেষ করে দিল সে।

আত্মীয়রা জানান, কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চরমে ওঠে ছিল। বুধবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় নাস্তার বাড়ি ফিরেই ফের অশান্তি শুরু করে। পারুলকে সে শাসাতে শুরু করেছিল। এদিন পারুলকেই সে খুন করতে গিয়ে ছিল নাস্তার। কিন্তু সেই গোলমালে নিজের চার বছরের  ছেলের ওপরেই গুলি চালিয়ে দেয়।

শিশুটির মামা সামসুদ্দিন আহমেদের দাবি,” তাঁর বোনের ওপর চরম নির্যাতন চালাত নাস্তার। জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল সে। আজ ভাগ্নেকেও মেরে ফেলল।” নাস্তারের চরম শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।

রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেলে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানেই  চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহটি রায়গঞ্জ মেডিকেলের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিশুর বাবা নাস্তার আলি পলাতক।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ”নিজের ছেলেকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে নাস্তার আলি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা থেকে সে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাকে খোঁজার জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More