নেটিভ ভারতীয়, সে নাকি মেয়ের ‘বস’! সুভাষের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলেন এমিলির বাবা

শাশ্বতী সান্যাল

ভারতের রাজনীতি তথা জাতীয় ইতিহাসে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা কোনও দিনই ম্লান হবে না। একটা গোটা জাতিকে লড়তে শিখিয়েছেন তিনি। শিখিয়েছেন মেরুদণ্ড টানটান করে অন্যায়ের চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং ‘নেতাজি’ সুভাষ চন্দ্র বসু। অন্তর্ধানের এত বছর পরেও যাকে নিয়ে বাঙালির উন্মাদনা এতটুকু কমেনি। আজও তারা জানতে চায়, বুঝতে চায় নেতাজিকে। বিশ্বাস করতে চায় তাঁর অমরত্বে।

সত্যিই তো ‘অমর’ নেতাজি। শারীরিক মৃত্যুর কাছে হার মানেননি তিনি, বরং দ্বিগুণ বেঁচে আছেন বাঙালির চিন্তায় চেতনায়, বিদ্রোহে, বিপ্লবের ভাষায়। কথা বলে, ভাষণ দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার বদলে নিজের আস্ত জীবনটাকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন শিক্ষণীয় করে। সেই জীবনেরই কিছু আশ্চর্য গল্প, যা আজও ভাবিয়ে তোলে আমাদের…

‘সুভাষ হিন্দু-সন্তান হলেও নেতাজির কোনও ধর্ম নেই’

একদিন সকালে সিঙ্গাপুর শহরে নেতাজির দর্শনপ্রার্থী হয়ে এলেন ব্রিজলাল জয়সোয়াল। গুজরাটি চেট্টিয়ার ব্রিজলাল সেই সময় সিঙ্গাপুরের ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম, শহরের পরিচিত মুখ। একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি দেখা করতে এসেছেন, উপযুক্ত মর্যাদার সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে আসা হল নেতাজির কাছে। ভিতরে এলেন ব্রিজলাল জয়সোয়াল। আপাদমস্তক ভারতীয় পোশাক, সিল্কের চোগা চাপকানে সেজে এসেছেন তিনি। নমস্কার, প্রতিনমস্কার, কুশল বিনিময় প্রভৃতির পর ব্রিজলাল নেতাজিকে জানালেন তাঁর আগমনের কারণ। চেট্টিয়ারদের তরফে আজাদ হিন্দ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য কিছুটা আর্থিক অনুদান তিনি তুলে দিতে চান সর্বাধিনায়ক নেতাজির হাতে৷ কিন্তু একটা ছোট্ট অনুরোধ আছে৷ অনুরোধ না বলে আবদারও বলা যায়। যেহেতু দানটা করা হবে চেট্টিয়ার মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে, তাই নেতাজি যদি নিজের দরকারি সময়ের কিছুটা ব্যয় করে শহরের ট্যাঙ্ক রোড এলাকার চেট্টিয়ার মন্দিরে পদধূলি দেন, তাহলে মন্দির কর্তৃপক্ষ সরাসরিই সর্বাধিনায়কের হাতে তুলে দিতে পারেন অনুদানটুকু।

সামান্য অনুদান হলেও টাকার অঙ্কে সামান্য নয়, অন্তত কয়েক লক্ষ টাকা তো বটেই। আজাদ হিন্দ বাহিনী গড়ে তুলতে অনেক অনেক টাকার দরকার সে সময়৷ কিন্তু মন্দিরে যাওয়ার প্রসঙ্গ শুনেই এক মুহূর্ত চুপ করে থাকলেন নেতাজি। তারপর বললেন, ‘আজাদ হিন্দের সর্বাধিনায়ক হিসাবে কোনও বিশেষ ধর্মের উপাসনাগৃহে যেতে পারি না আমি। তবে আপনারা ডাকছেন যখন, আমি নিশ্চয়ই যাব আপনাদের মন্দিরে। সে তো মাঝেমধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনেও যাই। কিন্তু সেক্ষেত্রে ব্যক্তি সুভাষ বোস মন্দিরে যাবে, নেতাজি যাবে না৷ আর অনুদান তো নিতে পারব না, কারণ ব্যক্তি সুভাষের টাকার দরকার নেই।’

ব্রিজলালও নাছোড়। বারবার বোঝাতে চাইলেন, হিন্দু বাড়ির ছেলে হিসাবে হিন্দু মন্দিরে যেতে আপত্তি কোথায়?

নেতাজিও অবিচল নিজের বক্তব্যে, মন্দিরে গেলে ব্যক্তি সুভাষের পরিচয়েই যাবেন। কারণ সুভাষ হিন্দুসন্তান হলেও ‘নেতাজি’র কোনও ধর্ম নেই। তাঁর একটাই পরিচয়, তিনি ভারতীয়।

তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ যদি আজাদ হিন্দ বাহিনীর সবাইকে একযোগে আমন্ত্রণ করেন, তাহলে সানন্দে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে যাবেন নেতাজি। অনুদান নিতেও আর কুণ্ঠা থাকবে না।

কিন্তু আজাদ হিন্দ বাহিনীতে তো হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম আর শিখরাও রয়েছেন। হিন্দু মন্দিরে বিধর্মীদের যে প্রবেশ নিষিদ্ধ সে কথা কি জানেন না নেতাজি! খানিক ইতস্তত করে চুপ করে থাকলেন প্রৌঢ় ব্রিজলাল জয়সোয়াল!
তাঁর নীরবতার কারণ অনুমান করতে দেরি হল না নেতাজির। সামান্য হেসে বললেন, ‘আপনি আজ আসুন ব্রিজলাল’জি। তাড়া তো নেই৷ মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলে দেখুন তাঁরা কী বলে!’

সবটা শুনে হাঁ হাঁ করে উঠল আজাদ হিন্দের অন্যান্যরা। নেতাজির শর্তে কখনও রাজি হবে না কোনও হিন্দু মন্দির কর্তৃপক্ষ। এত টাকার দরকার, আর তার মধ্যে নেতাজির জেদে হাতছাড়া হয়ে গেল অনুদানের লক্ষাধিক টাকা। সে কথা শুনে না কি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হেসেছিলেন নেতাজি। বলেছিলেন, তোমাদের নেতাজির বিবেকের দাম ওই লক্ষ টাকার অনেক বেশি।’

আশ্চর্যের এখানেই শেষ নয়। পরের দিন সবাইকে চমকে দিয়ে ফেরত এলেন ব্রিজলাল। সঙ্গে এলেন মন্দির কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁরা নেতাজিকে জানাতে এসেছেন, নেতাজির শর্তেই রাজি তাঁরা। সমস্ত আজাদ হিন্দ বাহিনীকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে চেট্টিয়ার মন্দিরে।

‘ভেবে বলছেন তো! আমার সঙ্গে কিন্তু আমার মুসলিম, খ্রিস্টান আর শিখ ভাইয়েরাও থাকবে’ এবার নেতাজির গলাতেও বিস্ময়। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানালেন ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মনিবেদন করেছে যে সৈনিকেরা, ধর্ম বা জাত-পাতের তুচ্ছ গণ্ডিতে তাঁদের বেঁধে রাখার ধৃষ্টতা নেই কারও।

সেদিন নেতাজির আদর্শের সামনে মাথা নত করেছিল শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় গোঁড়ামি আর বর্ণভেদ। সত্যি সত্যিই সবাইকে নিয়ে মন্দিরে গিয়েছিলেন নেতাজি৷ জাতিধর্ম নির্বিশেষে তাদের মাথায় এঁকে দেওয়া হয়েছিল রক্তিম জয়তিলক। সেদিন মন্দির প্রাঙ্গণে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি ওঠেনি, ওঠেনি ‘হর হর মহাদেও’ বা ‘আল্লাহ হু আকবর’ নাড়াও৷ সোচ্চারে গলা মিলিয়ে সকলে হুংকার দিয়েছিল ‘জয় হিন্দ’ বলে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের সেই বীজমন্ত্রই ধ্বনিত হয়েছিল কালের দেবতার দরজায়। নেতাজি শিখিয়েছিলেন, ধর্ম দিয়ে নয়, মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান করতে, ভালোবাসতে।

নেতাজির গলার মালা কিনতে সর্বস্ব পণ করেছিল যুবক

১৯৪৪ সালের কথা। বার্মায় এসেছেন সুভাষ বোস। সেদিন বার্মার জনসভায় প্রথম ভাষণ দেবেন নেতাজি। ভিড় উপচে পড়ছে। কে নেই সেখানে! নামি দামি লোকজন, শিল্পপতি থেকে শুরু করে দিন আনি দিন খাই মানুষ। আজাদ হিন্দ সেনাবাহিনীর জন্য তখন অনেক টাকার দরকার। বক্তৃতার শেষে তাই নিজের গলার মালাখানি নিলামে তুললেন নেতাজি। শুরু হল দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত সেই বিডিং প্রায় দ্বৈরথে পরিণত হল, যার একদিনে ওই এলাকার বিখ্যাত ব্যবসায়ী ব্রিজলাল। আর অন্যদিকে নেতাজির পাগল ভক্ত শিখ যুবক হরগোবিন্দ সিং। দাম বাড়তে বাড়তে সাত লাখ ডলার। বড়লোক ব্যবসায়ী ব্রিজলালের সঙ্গে টাকার খেলায় পারবেন কেন হরগোবিন্দ। কিন্তু তিনিও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। নেতাজির স্পর্শধন্য ওই মালা তাঁর চাইই। শেষমেশ সর্বস্ব পণ করলেন হরগোবিন্দ। বসতবাড়ি, টাকাপয়সা, স্থাবর- অস্থাবর সবকিছুর বিনিময়ে তিনি চাইলেন শুধু নেতাজির গলার মালাটুকু। তাঁর এই অসাধারণ ত্যাগের কাছে হার মানতে হল ধনকুবের ব্রিজলালকেও। নেতাজি নিজে এগিয়ে এসে চোখের জলে ভেসে যাওয়া হরগোবিন্দ’র গলায় পরিয়ে দিলেন সে মালা। আর গলা থেকে খুলে সে মালা মাথায় তুলে নিলেন শিখ যুবক।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। হরগোবিন্দ তো তার সর্বস্ব বিকিয়ে দিয়েছেন নেতাজির পায়ে। একেবারে ‘নাঙ্গা ভিখিরি’ সে। যাবে কোথায়? খাবে কী! সুভাষচন্দ্রের কাছে সে আবেদন জানালো, যদি নেতাজি দয়া করে তাঁর ‘আজাদ হিন্দ বাহিনী’তে ঠাঁই দেন, সুযোগ করে দেন দেশসেবার। এবার আর থাকতে পারলেন না নেতাজি। হরগোবিন্দ’র আবেগ ভাসিয়ে দিল তাঁকেও। মঞ্চ থেকে নেমে এসে দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন সেই সর্বস্বত্যাগী তরুণ শিখসন্তানকে। দুজনেরই চোখে তখন জল। হ্যাঁ, ‘নেতাজি’ নামের সঙ্গে সেদিনও জড়িয়ে ছিল এমন উন্মাদনা।

মেয়ের ‘বস’ সুভাষ’কে মেনে নিতে পারেননি এমিলি শেঙ্কলের বাবা

সেটা ১৯৩২ সাল। ভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম চর্চিত যুবনেতা তখন নেতাজি। অসহযোগ আন্দোলনের সময় জেল হয় তাঁর। জেলে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ভিয়েনায় নিয়ে যাওয়া হয় নেতাজিকে। ভিয়েনাতেই এক ইউরোপীয় প্রকাশক তাঁকে ‘দ্য ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল’ নামে একটা বই লেখার কাজ দেন। বইটা লেখার কাজে সহায়তা করার জন্য একজন অ্যাসিস্ট্যান্টের ভারি প্রয়োজন হয়ে উঠল সুভাষের। এমন একজন সহকারী, যিনি টাইপিং, শর্ট-হ্যান্ডে দক্ষ আবার ইংরাজি ভাষাটাও ভালোমতো জানেন। ২৩ বছর বয়সী এমিলি শেঙ্কল এসেছিলেন সেই সহকারী পদে ইন্টারভিউ দিতে। দক্ষ, চটপটে অস্ট্রিয়ান ওই যুবতীকেই নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজে নিয়োগ করলেন সুভাষ চন্দ্র বসু।

অস্ট্রিয়ার এক ক্যাথলিক পরিবারে ১৯১০ সালে জন্ম হয়েছিল এমিলির। মেয়ে এক নেটিভ ইন্ডিয়ানের অধস্তন হিসাবে কাজ করছেন, এই বিষয়টা এমিলির গোঁড়া শ্বেতাঙ্গ বাবার পক্ষে মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। রীতিমতো রেগেমেগেই তিনি দেখা করতে গেলেন নেতাজির সঙ্গে। কিন্তু প্রথম দর্শনেই সুভাষের রুচি আর শিক্ষাদীক্ষা আর ব্যক্তিত্বের চৌম্বক আকর্ষণের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলেন তিনি। মেয়ের চাকরি নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনও আপত্তি ছিল না তাঁর।

বীরপূজায় অভ্যস্ত বাঙালি অনেকদিন পর্যন্ত বিদেশিনী এমিলি শেঙ্কল’কে তাঁদের প্রিয় নেতাজির স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু নানাবিধ তথ্যপ্রমাণ, চিঠিপত্রের সাক্ষ্য থেকে আজ আর এমিলির সঙ্গে সুভাষ বোসের সম্পর্ক নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। শরৎ বসুর নাতি ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুগত বসুর নেতাজিকে নিয়ে লেখা বইটিতেও সুভাষ এবং এমিলি শেঙ্কলের সম্পর্ক আর তাঁদের পরস্পরকে লেখা চিঠিপত্রের বিস্তৃত উল্লেখ রয়েছে।

এক লাখ টাকার নোটে কার মুখ?

আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’, বা আইএনএ গঠনের দায়িত্বে শুরুতে ছিলেন রাসবিহারী বসু। তাঁর ভাবনাকেই বাস্তব চেহারা দেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র। তিনিই ছিলেন ভারতের এই মুক্তি ফৌজের সর্বাধিনায়ক। তাঁর ডাকে দলে দলে মানুষ যোগ দিয়েছিল আজাদ হিন্দে। জাতি, ধর্ম- মত নির্বিশেষে ভারতের সব প্রদেশের লোক ছিলেন এই আজাদ হিন্দ বাহিনীতে। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন নেতাজি। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল আজাদ হিন্দের উদ্দেশ্য। নামেমাত্র সরকার নয়, যথেষ্ট নিয়ম অনুশাসন ছিল তার। ছিল নিজস্ব আইন, দণ্ডবিধি, মুদ্রা এমনকি নিজস্ব ব্যাঙ্কও। আজাদ হিন্দ সরকারের এই ব্যাঙ্কটি তৈরি হয় ১৯৪৩ সালে। ব্যাঙ্কটি তৈরির জন্য সমর্থন এসেছিল দেশের নানা প্রান্ত থেকে। আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কে দশ টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নোট ছাপানো হত। সেই এক লাখ টাকার নোটে ছিল স্বয়ং সর্বাধিনায়ক সুভাষ বোসের মুখ।

শারীরিক নির্যাতন! তাতেই কি মৃত্যু!

কিছুকাল আগেই হইচই ফেলে দিয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জি ডি বক্সির লেখা ‘বোস: দ্য ইন্ডিয়ান সাম্যুরাই— নেতাজি অ্যান্ড দ্য আইএনএ মিলিটারি অ্যাসেসমেন্ট’ বইটি। এই বইটিতে লিপিবদ্ধ আছে নেতাজির মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক প্রসঙ্গ। কী বলছেন লেখক? বলছেন, তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি নেতাজি। ওই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছিল নেতাজিকে লোকচক্ষুর আড়ালে আত্মগোপনের সুযোগ করে দিতে। ইংরেজ তথা মিত্রশক্তির অন্যতম প্রধান শত্রু তখন সি বোস। হ্যাঁ, এই নামেই নেতাজিকে ডাকা হত গোপনে। নেতাজি না কি নিজেই চেয়েছিলেন এই ভুয়ো দুর্ঘটনার খবরে ও তার তত্ত্বতালাশে কিছুদিন ব্যস্ত রাখতে ইংরেজ প্রশাসনকে, যাতে সেই সুযোগে তিনি খুঁজে নিতে পারেন কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার মতো নিশ্চিন্ত আশ্রয়।

তাইহোকু দুর্ঘটনার আগে এই তাঁর শেষ ছবি

সোভিয়েতে পালিয়েছিলেন নেতাজি। সাইবেরিয়া থেকে তিনি তিনবার রেডিওতে ব্রডকাস্ট-ও করেন তিনি৷ গুপ্তচর মারফত সে খবর পৌঁছয় ব্রিটিশ প্রভুদের কাছেও। এ সময়েই না কি নেতাজিকে ‘ইন্টারোগেট’ করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেন ইংরেজরা। এই ইন্টারোগেশন পিরিয়ড ছিল এককথায় ভয়াবহ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নেতাজির উপর রীতিমতো শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে সেই বইয়ে৷ বন্দিজীবন ও অকথ্য নির্যাতন- এই দুইয়ের অভিঘাতেই না কি মৃত্যু হয়েছিল নেতাজি’র। সত্যিই কি ধরা পড়ে গেছিলেন নেতাজি? ব্রিটিশ প্রভুদের নির্যাতনেই মৃত্যু হয় তাঁর? এত বছর পরেও ধোঁয়াশায় ঢাকা এই সব প্রশ্নের উত্তর। নানারকম দাবি উঠেছে বারবার। সরকার বদলেছে। কিন্তু গোপন ফাইলের লাল সুতোর গিঁট খুলে প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে তুলে ধরেনি কেউ।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More