এক পা খোওয়া গেছে এক্সিডেন্টে, তবু অসম সাহসে ভর দিয়ে একপায়েই চড়েছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মাথায়

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ডেস্ক: লখনউ থেকে পদ্মাবতী এক্সপ্রেসের জেনারেল কম্পার্টমেন্টে দিল্লি যাচ্ছিল তেইশ বছরের এক তরুণী। পরদিন সি আই এস এফ-এর চাকরির ইন্টারভিউ ছিল তার। কিন্তু সেই ইন্টারভিউ আর দেওয়া হল না। সেদিন রাতে চলন্ত ট্রেনে একদল ডাকাতের সঙ্গে প্রচণ্ড ধস্তাধস্তি হয় তার। ডাকাতেরা তার ব্যাগ ও গলার সোনার চেন ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে। ট্রেনের অন্য যাত্রীরা যখন আতঙ্কিত ও দিশাহারা, তখন একাই ডাকাতদের বাধা দেয় মেয়েটি। কিন্তু তার পরিণতি হয় ভয়ংকর। চার পাঁচ জন ডাকাত মেয়েটিকে তুলে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ছুঁড়ে দেয়। আর ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রেনের চাকায় তার বাঁ পা হাঁটুর নীচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সুতোয় ঝুলতে থাকে। সারারাত অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে দুই রেল-ট্র‍্যাকের মাঝখানে প্রায় সাত আট ঘণ্টা পড়ে থাকে মেয়েটি। সে বুঝতে পারে তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। বাঁ পা কেটে গিয়ে ঝুলছে। মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙেছে। সারা গায়ে আর চোখে মুখে অজস্র রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন।

সেই সাত আট ঘন্টায় দু পাশের রেললাইনে ৪৯ টি ট্রেন ছুটে গেছে তার চোখের সামনে দিয়ে। সে পাগলের মতো চিৎকার করেছে বাঁচার জন্য। কিন্তু কেউ তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় সে লক্ষ করে কয়েকটি ছোটো ও বড় সাইজের ইঁদুর আর ছুঁচো তার ক্ষতস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, খুবলে খুবলে খাবার চেষ্টা করছে কাঁচা মাংস।

দিনটা ছিল ১২ এপ্রিল ২০১১। পরদিন ভোরবেলা গ্রামের লোকেরা দেখতে পায় অচৈতন্য মৃতপ্রায় মেয়েটিকে। কয়েকজন গ্রামবাসী মিলে তাকে পৌঁছে দেয় উত্তরপ্রদেশের বেরিলির এক হাসপাতালে। সেখানে বেড নেই। মেঝেতেই পড়ে থাকে মেয়েটির দেহ। সারারাত রক্তক্ষরণের ফলে তার শরীর তখন একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। হাসপাতালে সেই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় রক্তও মজুত ছিল না। একজন ফার্মাসিস্ট আর একজন সহৃদয় ডাক্তার নিজেদের শরীর থেকে দুই ইউনিট রক্ত দেয় মেয়েটিকে। ডাক্তারেরা বুঝেছিলেন মেয়েটিকে বাঁচাতে গেলে তক্ষুনি পা কেটে বাদ দেওয়া দরকার। কিন্তু হাসপাতালে অ্যানেস্থিসিয়াও ছিল না। অগত্যা মেয়েটির সম্মতি নিয়ে বিনা অ্যানেস্থিসিয়াতেই তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নীচের অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়।

ততক্ষণে তার পরিচয় জানাজানি হয়ে গেছে। মেয়েটি ভারতের জাতীয় ভলিবল টিমের বিশিষ্ট খেলোয়াড় অরুণিমা সিনহা। ফলে খুব দ্রুত তাকে স্থানান্তরিত করা হয় এইমসে। উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয় তার। ডানপায়ে স্টিলের পাত লাগানো হয়। বাঁ পায়ে পরিয়ে দেওয়া হয় প্রস্থেটিক লেগ। চিকিৎসা হয় মেরুদণ্ডের হাড়ের।

ততোদিনে মিডিয়ায় তার দুর্ঘটনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে আশ্চর্য সব গুজব। কোনও কাগজে লেখা হয়, জাতীয় ভলিবল টিমের বিশিষ্ট খেলোয়াড় অরুণিমা সিনহা বিনা টিকিটে ট্রেনজার্নি করছিল। ধরা পড়ার ভয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেয় সে। আবার কোনও কাগজ লেখে : অরুণিমা সিনহা চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। এই কপোলকল্পিত গুজবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় অরুণিমার বাড়ির লোকেরা। ওদিকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তেইশ বছরের তরুণীটি মনে মনে শপথ নেয়, সে কারও করুণার পাত্রী হয়ে বেঁচে থাকবে না এই পৃথিবীতে। কারও গলগ্রহ হয়ে অবশিষ্ট জীবন পঙ্গুর মতো অসহায়ভাবে পড়ে থাকবে না। বরং এমন একটা কিছু সে করে দেখাবে যাতে গোটা বিশ্ব সবিস্ময়ে দেখবে তার মনের জোর কতখানি। সে স্থির করে, কাটা পা নিয়েই একদিন এভারেস্টের চূড়ায় উঠবে।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার আগেই সে দেখা করতে যায় প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মহিলা পর্বতারোহী বচেন্দ্রীপালের সঙ্গে। বচেন্দ্রীপালকে সে জানায় তার মনের অদম্য ইচ্ছের কথা, এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নের কথা। বিস্মিত বচেন্দ্রীপাল তাকে জানায়, মনের এভারেস্ট তো তুমি জয় করেই নিয়েছ, এবার বাস্তবের এভারেস্ট জয় করে দেখাতে হবে তোমাকে। কিন্তু এ বড় কঠিন কাজ। সমস্ত মনের শক্তি নিয়ে তোমার লক্ষ্যের পথে ঝাঁপিয়ে পড় তুমি।

বচেন্দ্রীপালের সঙ্গে অরুনিমা

এরপর উত্তরকাশীর নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং-এ প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হয়ে ধীরে ধীরে সাফল্য লাভ করে অরুণিমা। ক্রমশ নকল পায়ের সাহায্যেই দৌড় ঝাঁপ সাইক্লিং ব্যায়াম এবং পর্বতারোহণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে সে। বচেন্দ্রীপালের চেষ্টায় আর তত্ত্বাবধানে উত্তরকাশীতে ২০১২ সালে টাটা স্টিল এডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণ নেবার সুযোগও পায়। তারপর ২০১২ সালেই এভারেস্ট আরোহণের প্রস্তুতি হিসেবে সে আইল্যান্ড পিক (৬১৫০ মিটার) জয় করে। এতে তার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।

গীতার ধ্যান অংশে বলা হয়েছে : ‘মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্॥’

(যাঁর কৃপায় বাকশক্তিহীন বাগ্মী হয় এবং পঙ্গু গিরি লঙ্ঘন করে, সেই পরমানন্দ-স্বরূপ মাধবকে বন্দনা করি।)

কিন্তু এই মাধব আসলে বাইরে কোথাও নেই, আছে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এইসব জেদি মানুষদের অন্তরে। সাধারণ মানুষ এই মেয়েটিকে বারংবার বলেছে : তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? বরং এভারেস্টের নেশা মন থেকে মুছে ফেল। ঘরে থাকো। প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি করো। এভারেস্ট জয়ের প্রতি পদক্ষেপে মৃত্যুর হাতছানি, ব্যর্থতা আর হতাশার গ্লানি। সুস্থ ও সবল মানুষেরা কতবার এভারেস্টের নীচ থেকে ফিরে এসেছে। আর তুমি একজন পঙ্গু হয়ে নকল পা নিয়ে ওই দুর্জয় শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখছ?

কিন্তু অরুণিমা সিনহা সম্পূর্ণ অন্য ধাতুতে গড়া। সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে সে। তার মৃত্যুঞ্জয়ী সত্তা তাই মৃত্যুকে আর ভয় পায় না। প্রথম প্রথম প্রচণ্ড অসুবিধে হত কাটা পা নিয়ে। দু মিনিটের পথ অতিক্রম করতে দু ঘন্টা লেগে যেত। কাটা পায়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে রক্ত ঝরে পড়ত। ব্যথায় ঝিমিয়ে পড়ত শরীর। সহযাত্রীরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলত : তুমি ধীরে ধীরে এসো অরুণিমা। তাড়াহুড়ো কোরো না।
এই সান্ত্বনা তাকে হুল ফোটাতো। কারণ যে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখছে তাকে ছোটোখাটো শৃঙ্গ জয়ের সময় পঙ্গু বলে সহানুভূতি দেখাছে লোকে! এতে তার মনের জেদ ও সাহস শতগুণে বেড়ে যেত।

ক্রমশ পিঠে ভারী ওজন নিয়ে বিপজ্জনক পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে ওঠার রীতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে সে। সে জানে এভারেস্ট জয়ের জন্য স্পনসর জোগাড় করাও তার পক্ষে কঠিন হবে। একজন প্রতিবন্ধীর জন্য কেউ চল্লিশ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বাজি রাখতে রাজি হবে না।

ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছে। মা-ই তার সবকিছু। তিনি বললেন, প্রয়োজন হলে বাড়িঘর বিক্রি করে দিয়েও এভারেস্টে ওঠার টাকা জোগাড় করে দেবেন তিনি। পা কাটা পড়ার পরে যাঁরা ভাবতেন, এ মেয়ের আর বিয়ে হবে না, তাঁরাই এখন তার ২৯ হাজার ২৯ ফুট উঁচু এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নে বিভোর।

এভারেস্ট জয়ের পথেও দেখা দিল নানা বাধা। শেরপারা কিছুতেই রাজি হয় না একজন প্রতিবন্ধী ক্লাইম্বারের সহযাত্রী হতে। তাতে পদে পদে বিপদ। তার ওপর বরফের দেয়ালে নকল পায়ের জুতো দিয়ে আঘাত করতেই পা বেঁকে যাচ্ছে। কখনও জুতো খুলে যাচ্ছে পা থেকে। শেরপারা মাঝে মাঝেই হাল ছেড়ে দিয়ে বলছে : ফিরে যাও। আর উপরে উঠে কাজ নেই।

তবু হাল ছাড়ার পাত্র নয় সে। ফিরে যাবার জন্য সে আসেনি এখানে। দাঁতে দাঁত চেপে সে উপরে উঠতে থাকে। ক্যাম্প থ্রি পার হবার পর শুরু হয় আসল অগ্নিপরীক্ষা। রাতে আবহাওয়া খানিকটা শান্ত দেখে সে এগিয়ে চলে ক্যাম্প ফোরের দিকে। মাথায় লাগানো হেডলাইটের আলোয় দেখা যায় ইতস্তত পড়ে আছে নাম না জানা পর্বতারোহীদের মৃতদেহ। দেখা গেল একজন বাংলাদেশি ক্লাইম্বার অক্সিজেনের অভাবে অসহায়ভাবে ক্ষীণ আর্তনাদ করতে করতে অন্ধকার বরফের ওপরে মারা যাচ্ছে।

ইতস্তত পড়ে আছে নাম না জানা পর্বতারোহীদের মৃতদেহ

এক সময় সঙ্গী শেরপাটি জানাল : অরুণিমা, তোমার অক্সিজেন ফুরিয়ে এসেছে। তোমাকে এক্ষুনি ফিরে যেতে হবে। নইলে মৃত্যু তোমার অনিবার্য। সামনেই হিলারি স্টেপ। তার উপরেই সেই স্বপ্নের এভারেস্ট। এতটা উঠে এসে ফিরে যাবার কোনও মানে হয় না। মৃত্যু হয় হোক। এভারেস্টে সে উঠবেই। সে জয় করবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। জীবনে এমন সুবর্ণ মুহূর্ত বারবার আসে না। বারবার স্পনসরও পাওয়া যাবে না। মনে পড়ল, মা এবং বচেন্দ্রীপালের একটি মূল্যবান কথা : জীবনের কোনও কোনও মুহূর্তে তোমাকে একাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এই সেই হিলারি স্টেপ

শেরপা তখনও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে : বেঁচে থাকলে এভারেস্টে আবার ওঠার সুযোগ পাবে। কিন্তু এ যাত্রায় অক্সিজেনের অভাবে মারা গেলে সেই সুযোগ আর আসবে না। কিন্তু সাক্ষাৎ মৃত্যু ও স্বর্গের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অরুণিমা সিদ্ধান্ত নেয়, সে এভারেস্ট জয় না করে ফিরবে না। তাতে যদি মৃত্যুও হয় ক্ষতি নেই। অসম্ভব জেদি ও আত্মবিশ্বাসী মেয়েটির কাছে সেদিন সাহসী শেরপাও হার মেনেছিল।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২১ মে ২০১৩, ১৭ ঘণ্টার কঠিন আরোহণের পর, সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে বিশ্বের প্রথম প্রতিবন্ধী মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয় করে অরুণিমা সিনহা। শৃঙ্গে উঠতে তার মোট সময় লেগেছিল ৫২ দিন। এ যেন স্বর্গবিজয়ের আনন্দ। সে চিৎকার করে বলে উঠল : আমি এখন পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছি। গোটা পৃথিবী এখন আমার পায়ের নীচে। অনেক পতাকার ভিড়ে সে চাইল ভারতের জাতীয় পতাকাটিকে সবচেয়ে উঁচু জায়গায় উড়িয়ে দিতে।

শেরপার নিষেধ অগ্রাহ্য করে সে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল ওই উত্তুঙ্গ পর্বতশিখরে। ছবি তুলে রাখল। অনিচ্ছুক ও আতঙ্কিত শেরপাকে দিয়ে ছোট্ট একটা ভিডিও তুলে রাখল। তারপর ফেরার পালা। কিছুদূর নামতেই সত্যি সত্যিই তার অক্সিজেন ফুরিয়ে গেল। অরুণিমা লুটিয়ে পড়ল জমাট বরফের উপরে। সামনে অনিবার্য মৃত্যু। আর কিছু করার নেই।

একটু আগেই সে সঙ্গী শেরপাকে বলে রেখেছিল, যদি মারা যাই তাহলে এই ছবি আর ভিডিও যেন ভারতের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মানুষ জানবে, অরুণিমা পেরেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করতে। মৃত্যুর ভয়ে সে লক্ষ্য থেকে পালিয়ে আসেনি।

কিন্তু এত সহজে অরুণিমার মৃত্যু নেই। তাকে যে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর সাত মহাদেশের উচ্চতম শৃঙ্গগুলো জয় করতে হবে। তাকে যে লিখতে হবে সেই অলোকসামান্য বই : ‘Born Again on the Mountain : How I Lost Everything and Found It Back’. আর যেন তাই অলৌকিক এক দেবদূতের মতো সেখানে উপস্থিত হল এক ব্রিটিশ পর্বতারোহী। তার কাছে ছিল দুটি সিলিন্ডার। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে সে ফিরে যাচ্ছে নীচে। যাবার আগে একটি সিলিন্ডার ফেলে রেখে যায় সেখানে। অপ্রত্যাশিতভাবেই সেই পরিত্যক্ত সিলিন্ডার পেয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যায় অরুণিমা। এভারেস্ট অভিযানের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড তৈরি হল সেদিন। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে অরুণিমা এক বুক আনন্দ নিয়ে দ্রুতপায়ে নামতে থাকল নীচের ক্যাম্পের দিকে।

২০১৪ সালের মধ্যেই এভারেস্ট ছাড়াও অরুণিমা সিনহা জয় করে আফ্রিকায় কিলিমাঞ্জারো, ইউরোপ-এ এলব্রুস পর্বত, অস্ট্রেলিয়ায় মাউন্ট কস্চিয়স্কো, দক্ষিণ আমেরিকায় অ্যাকনকাগুয়া পর্বত ও ওশেনিয়ার পুঞ্চাক জায়া। ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি সে অ্যান্টার্কটিকার ভিনসন স্তূপপর্বত জয় করে নেয়।

২০ জুলাই ১৯৮৮ সালে উত্তরপ্রদেশের আম্বেদনগরে জন্ম হয় অরুণিমার। তার বয়স এখন তেত্রিশের কাছাকাছি। ২০১৫ সালে ভারতের চতুর্থ সর্ব্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ দেওয়া হয় তাকে। একই বছরে সে পেয়েছে ‘তেনজিং নোরগে ন্যাশনাল এডভেঞ্চার এওয়ার্ড’, রানি লক্ষ্মীবাঈ পুরস্কার ও অন্যান্য বহু সম্মান। তার স্বামী গৌরব সিং তার সর্বক্ষণের অনুপ্রেরণা।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে অরুণিমার পদ্মশ্রী সম্মান

অরুণিমা তার বিভিন্ন সময়ের জনসমাবেশে বারবার একটি কথাই বলে এসেছে : আমি দুই পায়ে এভারেস্ট জয় করিনি। জয় করেছি হৃদয় আর মস্তিষ্ক দিয়ে। মানুষের বিকলাঙ্গতা তার শরীরের বাইরে থাকে না, থাকে মস্তিষ্কে। যার মন বিকলাঙ্গ, যার সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সে হাত পা থাকতেও বিকলাঙ্গ। জীবনে কোনওকিছুকে পেতে হলে দিনরাত তাকে নিয়েই ভাবতে হবে, তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতে হবে, তার জন্যই পাগল হয়ে উঠতে হবে। এভারেস্টে ওঠার আগে আমি শয়নে স্বপ্নে জাগরণে কেবল এভারেস্টকেই দেখতে পেতাম। জীবনের যে কোনও লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রত্যেক মানুষকে এইভাবে জয়ের আকাঙ্ক্ষায় প্রতি মুহূর্তে বুঁদ হয়ে থাকতে হবে।

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More