মড়া কাটার ছুৎমার্গ ভেঙে ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন এই তরুণ বাঙালি

0

শাশ্বতী সান্যাল

সময়টা ১৮ শতক। অজস্র কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, আচার আচরণগত বিধিনিষেধ আর অস্পৃশ্যতার শেকলে বাঁধা পড়ে রয়েছে হিন্দুধর্ম। ব্রাহ্মণরা সমাজের মধ্যমণি হয়ে থাকলেও তাদের মধ্যেই কুসংস্কার আর কুপ্রথার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। তৎকালীন হিন্দু সমাজ মনে করত অজানা মৃতদেহ স্পর্শ করলেই ধর্ম ও জাতিনাশের সমূহ সম্ভাবনা। মড়া ছুঁলেই যেখানে প্রায় জাত যাবার উপক্রম সেখানে শব-ব্যবচ্ছেদ ছিল একেবারে অকল্পনীয় চিন্তাভাবনা। এ কাজে প্রবৃত্ত হওয়া মানে সমাজচ্যুতি, একঘরে হওয়া। কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্রে শল্য চিকিৎসার যে কতোটা প্রয়োজন, আর সেই জন্য শব-ব্যবচ্ছেদ করে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও যে কতোটা দরকার, তা প্রথম অনুভব করেছিলেন এক বাঙালি অধ্যাপক। জনা চারেক বাঙালি সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম হাতে-কলমে শব-ব্যবচ্ছেদ করার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনিই। উনিশ শতকের বাংলায় তিনিই প্রথম বাঙালি শব-ব্যবচ্ছেদকারী ডাক্তার, যার হাত ধরে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটেছিল ভারতীর চিকিৎসা বিজ্ঞানে। বিস্মৃতির সুদূর অতলে চাপা পড়ে যাওয়া সেই বাঙালি ডাক্তারের নাম পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত।

মধুসূদন গুপ্তের জন্ম সম্ভবত ১৮০০ সালে, সেই বছরই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা হয় কলকাতায়। তিনি ছিলেন হুগলি জেলার বৈদ্যবাটি গ্রামের এক বৈদ্য পরিবারের সন্তান। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এই পরিবারের যথেষ্ট নামডাক আর প্রতিপত্তি ছিল তখনকার সমাজে। শোনা যায়, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিশেষ পারঙ্গমতার জন্য ‘বক্সী’ উপাধি পেয়েছিলেন তাঁর প্রপিতামহ। পিতামহ ছিলেন হুগলির নবাব পরিবারের গৃহচিকিৎসক।

ছেলেবেলায় খুব দুরন্ত ছিলেন মধুসূদন, যে কাজ করতে বারণ করত লোকজন, সেসব কাজেই যেন তাঁর উৎসাহ ছিল বেশি। প্রথাগত লেখাপড়ায় কিশোর মধুসূদনের ছিল একান্ত অনীহা। জীবন নিয়ে তেমন কোনও উচ্চাশাও ছিল না। শোনা যায় লেখাপড়ায় অমনোযোগী মধুসূদনকে ওই কিশোর বয়সেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। এই সময় তিনি কেবলরাম কবিরাজ নামে এক আয়ুর্বেদিক বৈদ্যের কাছে দেশজ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করার আর ওষুধপত্র দেবার বিধি-বিধান সম্বন্ধে হাতেকলমে শিক্ষা নেন। সেই অল্প বয়স থেকেই তিনি গ্রামেগঞ্জে ঘুরে ঘুরে মানুষের চিকিৎসা করতেন।

প্রাথমিক শিক্ষার পর মধুসূদন সংস্কৃত কলেজের আয়ুর্বেদ বিভাগে ভর্তি হন ১৮২৬ সাল নাগাদ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তাঁর উৎসাহ আগে থেকেই ছিল। খুব অল্পদিনের মধ্যেই ওই বিষয়ে অসামান্য ব্যুৎপত্তি দেখান তিনি, হয়ে ওঠেন আয়ুর্বেদের কৃতী ছাত্র। এর পাশাপাশি হিউম্যান অ্যানাটমি বা দৈহিক গঠনতন্ত্র বিষয়েও গভীর আগ্রহ ছিল মধুসূদন গুপ্তের। সংস্কৃত কলেজে আয়ুর্বেদ ক্লাসের প্রশিক্ষণের সময় তিনি (কাঠ বা মোমের তৈরি) মানুষের হাড়গোড় খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন, কখনও নিজেই ছোটো ছোটো জীবজন্তু ব্যবচ্ছেদ করে অভিজ্ঞতা আর সাহস সঞ্চয় করেছিলেন।সেইসময়কার ডাক্তারি শাস্ত্রের বেশিরভাগ বইই ইংরেজি ভাষায় লেখা বলে তিনি ইংরেজি শিক্ষার উপর আলাদা করে জোর দেন। নিজের চেষ্টায় ভাষাটাকে রপ্ত করে একে একে পড়ে ফেলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর ইংরাজি ভাষায় লেখা বেশ কিছু বই। শুধু পড়াই নয়, স্বদেশী ছাত্রদের সুবিধের কথা ভেবে তিনি এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বই সংস্কৃতে অনুবাদও করেছিলেন। তাঁর এই বিশেষ পারদর্শিতা কলেজ কর্তৃপক্ষের নজর এড়ায়নি। সেসময় সংস্কৃত কলেজের আয়ুর্বেদ বিভাগের অধ্যাপক ক্ষুদিরাম বিশারদ অসুস্থ হয়ে পড়লে কৃতী ছাত্র মধুসূদন গুপ্তকে ১৮৩০ সালের মে মাস থেকে সেই পদে নিয়োগ করা হয়, ও অধ্যাপকের কাজের জন্য মাসিক ৩০ টাকা বেতন নির্ধারিত হয় তাঁর।কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন অভাবনীয় সিদ্ধান্তে আকাশ থেকে পড়েন ছাত্ররা। মধুসূদনকে শিক্ষক বলে মেনে নিতে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না তাঁর সহপাঠীরা। এই ঘটনায় ছাত্রদের মধ্যে বিশেষ অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল সেসময়।যদিও মিষ্ট ব্যবহারে আর পড়ানোর দক্ষতায় সহপাঠীদের সেই অসন্তোষ অচিরেই দূর করে দেন মধুসূদন।

১৮৩২ সাল নাগাদ সংস্কৃত কলেজের লাগোয়া একতলা একটি বাড়িতে স্থানীয় মানুষদের চিকিৎসা আর ওষুধপত্র দানের জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। সংস্কৃত কলেজের মেডিক্যাল লেকচারার জে গ্রান্ট সাহেব ও ডাঃ টাইটলার এই নতুন কলেজবাড়িতে এসে ক্লাস নিতেন ও চিকিৎসা বিষয়ে, বিশেষত অ্যানাটমি আর মেডিসিনের তত্ত্ব আর প্রয়োগ বিষয়ে নানান সারগর্ভ বক্তৃতা দিতেন। মধুসূদন ছিলেন এই ক্লাসের নিয়মিত ছাত্র। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সেসব বক্তৃতা শুনতেন তিনি। ফলে পাণ্ডিত্যে তিনি সহপাঠীদের থেকে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিলেন।এরপর ১৮৩৫ সালে কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর সংস্কৃত কলেজের বৈদ্যক বিভাগ বন্ধ হয়ে যায় আর ছাত্ররা সব মেডিক্যাল কলেজের ক্লাসে যোগ দেয়। ছাত্র মধুসূদনও সংস্কৃত কলেজের পাট চুকিয়ে ১৮৩৫ সালের ১৭ মার্চ থেকে মেডিক্যাল কলেজের ডেমনস্ট্রেটরের কাজে নিযুক্ত হন ও সহকারী অধ্যাপকের পদে কাজ করতে থাকেন।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ফাইলচিত্র

কিন্তু এবারও সমস্যা ঘনিয়ে ওঠে কলেজের অন্দরে। এক জন সহপাঠীর কাছ থেকে পাঠ নিতে ঘোরতর আপত্তি জানায় ছাত্ররা। মধুসূদন তখনও ডাক্তারি পাশ করেননি, তিনি সামান্য কবিরাজ মাত্র। সেটাও ছিল ছাত্রদের আপত্তির অন্যতম কারণ। ছাত্রদের এই আপত্তি জোরালো হলে কলেজের রোজকার কাজে অসুবিধা দেখা দেবে, সেটা কলেজ কর্তৃপক্ষ বুঝেছিলেন হাড়ে হাড়ে। তাছাড়া কবিরাজ হলেও ডাক্তারি বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন মধুসূদন, ফলে তাঁকে বাদ দেওয়ার কথাও ভাবা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় ছাত্রদের অসন্তোষ প্রশমনের জন্য কলেজের কর্তৃপক্ষ একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পাশ করা ডাক্তারের যোগ্যতা লাভ করার জন্য তাঁরা মধুসূদনকে ডাক্তারির চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার অনুরোধ করেন। এককথায় রাজি হয়ে যান মধুসূদনও। পরীক্ষার ফল বেরোলে দেখা যায় তিনি ডাক্তারি পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্লাস নিতে আর কোনও বাধাই থাকে না তাঁর।

ক্লাসে শারীরবিদ্যা পড়াতে গিয়ে মধুসূদন টের পেলেন কিসের যেন অভাব! শুধু বই পড়ে শারীরবিদ্যার সঠিক জ্ঞান আহরণ যে অসম্ভব, তা গোড়াতেই বুঝেছিলেন তিনি। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, শিরা-ধমণী- স্নায়ুর সঠিক অবস্থান না জানলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তাহলে উপায়? উপায় একটা আছে বটে কিন্তু এদেশে তা কল্পনায় আনাও কঠিন।মধুসূদন বুঝেছিলেন অ্যানাটমি টেবিলে মৃত মানুষের শরীর ব্যবচ্ছেদ না করতে পারলে শারীরবিদ্যার জ্ঞান সম্পূর্ণ হবে না। উপযুক্ত সংখ্যক শবের অভাবে এমনকি ব্রিটেনের ডাক্তারেরাও যা শিখতে পাড়ি দেন ফ্রান্সে। এদেশে অবশ্য বেওয়ারিশ শবের অভাব নেই। আসল অভাব সমাজ চেতনার। ধর্মীয় গোঁড়ামি, জাতপাতের গণ্ডিতে শতচ্ছিন্ন এই সমাজে বেওয়ারিশ মরা ছোঁয়া মানেই সমাজে পতিত হওয়া, ধোপানাপিত বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন মধুসূদন। কয়েকজন সাহসী ছাত্র আর আধুনিকমনস্ক সহকর্মীকে নিয়ে তিনি উদ্যোগ নিলেন শব ব্যবচ্ছেদের।ব্যাপারটা যদিও খুব সোজা ছিল না। শব ব্যবচ্ছেদের কথাটা জানাজানি হতেই শুরু হল আন্দোলন। হিন্দু ঘরের ছেলে হয়ে কী না অজাত-কুজাতের মরা ঘাঁটা! রে রে করে তেড়ে এলেন সনাতন হিন্দু ধর্মের ধ্বজাধারীরা। আয়ুর্বেদ অনুশীলন ছেড়ে বৈদ্যসন্তানের এই মড়া কাটার তোড়জোড় মেনে নিতে পারল না সমাজ! কুলীন হিন্দু সমাজের মধ্যমণি তখন দোর্দন্ডপ্রতাপ রাজা রাধাকান্ত দেব, পারিষদদের নিয়ে তিনি নিজেই প্রতিবাদ করতে নেমে এলেন পথে।

রাজা রাধাকান্ত দেব

প্রতিবাদের সেই ঝড়ের মুখে মধুসূদনের সপক্ষে এসে দাঁড়ালেন ডেভিড হেয়ার সাহেব স্বয়ং। একটা হেস্তনেস্ত হয় হয়… এই অবস্থায় বিরোধ এড়াতে আলোচনায় বসলেন হেয়ার সাহেব আর রাধাকান্ত দেব। সেই আলোচনার টেবিলে না কি রাধাকান্ত দেব বলেছিলেন, তিনি একটাই শর্তে রাজি হতে পারেন, সনাতন ভারতীয় শাস্ত্রে শব ব্যবচ্ছেদের সমর্থনে যদি কেউ সূত্র দেখাতে পারেন। মধুসূদন গুপ্ত পন্ডিত মানুষ, সংস্কৃত শাস্ত্রেও তাঁর অগাধ জ্ঞান। রাতের পর রাত জেগে পুঁথি উলটে খুঁজে বের করলেন সেই সূত্র। দায়ে পড়ে ঢেঁকি গিলতে হল রাধাকান্ত দেবকে। রাজি না থাকলেও এবার আর বাধা দিতে পারেননি তিনি।

সেটা ১৮৩৬ সালের ২৮ অক্টোবর, কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাসে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে সারা কলকাতা। যাতে বিধর্মী কাজ বন্ধ করার জন্য প্রাচীনপন্থীরা নতুন করে কলেজে আক্রমণ চালাতে না পারে, তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের সব ফটক। কলেজের শব রাখার ঘরে উপচে পড়ছে ভিড়। উপস্থিত রয়েছেন কলেজের সমস্ত শ্বেতাঙ্গ অধ্যাপক ডাক্তরেরা। সঙ্গী ছাত্রবন্ধুরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঘরের বাইরের দরজায়। সারা ক্যাম্পাস ধূ ধূ করছে, সবাই ভিড় করে এসেছে শবঘরের কাছে।

নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার গুডিভের সঙ্গে দৃপ্তপদে ঘরে ঢুকলেন একদা সংস্কৃত কলেজের আয়ুর্বেদ বিভাগের ছাত্র পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত। হাতে তাঁর একটি শব ব্যবচ্ছেদ করার তীক্ষ্ণ ছুরি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য দলে নাম ছিল উমাচরণ শেঠ, রাজকৃষ্ণ দে, দ্বারকানাথ গুপ্ত ও নবীন চন্দ্র মিত্রের। কিন্তু দরজার বাইরে ভিড়ের ভিতর আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তাঁরা। একাই এগিয়ে গেলেন মধুসূদন গুপ্ত।ঘরে ঢুকে বিনা দ্বিধায় তিনি এগিয়ে গেলেন শবের দিকে। শবদেহের নির্ভুল জায়গায় ছুরিটি প্রবেশ করালেন তিনি। মুখে কোনও আড়ষ্টতা বা অস্থিরতার চিহ্ন নেই। খুব নিখুঁতভাবে আর সুন্দরভাবে বিনা দ্বিধায় সম্পন্ন করলেন ব্যবচ্ছেদের কাজ। ভারতবর্ষের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিজ্ঞানী শুশ্রূতের পরে এই প্রথম হল শবব্যবচ্ছেদ। দীর্ঘকালের কুসংস্কারের আর গোঁড়া পণ্ডিতদের বিধিনিষেধের বেড়া ভেঙে এক নতুন যুগের সূচনা হল সেদিন এই কলকাতার মাটিতে। তীক্ষ্ণমেধার এক জেদি বঙ্গসন্তানের হাত ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অরুণোদয় ঘটাল ভারতবর্ষ।

শুধু শব ব্যবচ্ছেদ করেই থেমে থাকেননি মধুসূদন। মানুষের কাজে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। কলকাতার জনস্বাস্থ্য, পানীয় জলের স্বচ্ছতা, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা, টিকাকরণের ব্যবস্থা, এসব জনসমস্যা বিষয়েও বিশেষ নজর ছিল তাঁর। কমিটিতে নানারকম মূল্যবান পরামর্শও দিতেন।

সমাজের প্রতি ঠিক যতখানি যত্নশীল ছিলেন, নিজের প্রতি ঠিক ততটাই অমনোযোগী ছিলেন তিনি। নিজে ডায়াবেটিক রোগী, কিন্তু নিষেধ না শুনে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও অনবরত শবব্যবচ্ছেদ করতেন অন্যদের এ কাজে সাহস জোগাতে। হিমালয় প্রমাণ মনের জোর থাকলেও বাদ সাধল শরীর। জীবাণু সংক্রমণে ডায়াবেটিক সেপ্টিসিমিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ১৮৫৬ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যু হয় এই বাঙালি চিকিৎসকের।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.