বিজেপিকে ‘টুকড়ে টুকড়ে’ করে ছাড়ব, কংগ্রেসে যোগ দিয়ে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা কানহাইয়া কুমারের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি যে ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ (tukde tukde gang) শব্দবন্ধ ব্যবহার করে, এবার সেটাই শোনা গেল কানহাইয়া কুমারের (kanhaiya kumar) মুখে। সিপিআই ছেড়ে সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া জেএনইউয়ের প্রাক্তনীকে ওই গ্য়াংয়ের সদস্য বলে আক্রমণ করে থাকে গেরুয়া শিবির (saffron camp)। এবার পাল্টা কানহাইয়ার হুঙ্কার, বিজেপি (bjp) আমায় ‘ টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে তো। আমিই বিজেপিকে ‘টুকড়ে টুকড়ে’ করে ছাড়ব। ওরা গডসেকে জাতির পিতা মনে করে, গাঁধীকে নয়। শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সামনেই গাঁধীর গুণগান করে!

২০১৬-য় জেএনইউ  চত্বরে এক অনুষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ওঠার অভিযোগের জেরে বিজেপি ও তার সঙ্গীসাথীরা কানহাইয়া ও তাঁর সতীর্থদের টুকড়ে টুকড়ে বাহিনী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, ভারত-বিরোধী বলে কটাক্ষ করে থাকে। কানহাইয়া ছিলেন সেসময় জেএনইউয়ের বামপন্থী ছাত্র সংসদের সভাপতি।  দেশবিরোধী স্লোগান ওঠার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি আজও যদিও।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  অমিত শাহকে নাথুরাম-বনাই জোড়ি বলেও ব্যঙ্গ করেন কানহাইয়া। মহাত্মা গাঁধীর ঘাতক তথা দক্ষিণপন্থী রাজনীতির সমর্থকদের প্রিয় নাথুরাম গডসেকে কানহাইয়ারাও বরাবর তীব্র আক্রমণ করে থাকেন। বলেন, বিজেপির আদর্শ জাতির পিতা গাঁধীর ভাবধারার একেবারে উল্টো মেরুর।

কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার ডাক দিয়ে দলের বর্তমান নেতৃত্বের পাশে থাকার বার্তাই দেন তিনি। কানহাইয়া বলেন, অন্য অনেক যুবকদের মতো আমিও মনে করি, দেরি হয়ে যাচ্ছে।  যে দলের দেশের স্বাধীনতা জয়ের ঐতিহ্য আছে, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে  সেই দলকে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে হবে। যারা শুধুমাত্র নিজেদের কেরিয়ার নিয়েই ভাবে, তারাই আজ বিজেপিতে যাচ্ছে।

কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিতে দলের ঘরোয়া বিবাদ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসায় যে ছন্নছাড়া অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে দলের বর্তমান নেতৃত্ব অর্থাত্ গাঁধী পরিবার সমালোচিত হচ্ছে। দলের বেশ কিছু ওজনদার মুখ বেরিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কানহাইয়া মনে করেন, কংগ্রেস নেতৃত্বের সমালোচনায় লাভবান হবে বিজেপিই।  প্রত্যেকেই বোঝে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল কংগ্রেস, তখন কংগ্রেস যত সফল হবে, বিজেপি ততই বেশি পরাজিত হবে। বাকি সব বিরোধীরা আঞ্চলিক দল। কংগ্রেসই একমাত্র বিরোধী মুখ যার জাতীয় স্তরে উপস্থিতি  আছে। সবসময় তার ক্ষমতা আছে। বিজেপিকে হারানোই যায়। ওদের হারানো যায়, এটা বিশ্বাস না করলে আমি তো লড়াই ছেড়ে দিতাম।

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.