মুকুল রায়ের সঙ্গে সুব্রত বক্সীর ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’, ওমনি দাবানলের মতো জল্পনা ছড়াল, ব্যাপারটা কী!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে শপথ নিয়ে নিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে। আবার বিধানসভায় দলের বিধায়কদের নিয়ে যখন বৈঠক করেছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সেখানেও ছিলেন না মুকুল রায়। ওমনি জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে—মুকুলবাবুর কি প্রত্যাবর্তন হতে পারে?

বিধানসভা থেকে বেরনোর সময়ে ঠিক এ প্রশ্নটা মুকুল রায়কে কেউ করেননি। তবে পোড় খাওয়া এই নেতা শুধু বলেছেন, “আমি আজ শপথ নিলাম। আজ কিছু বলছি না। যা বলার পরে বলব। জীবনে কখনও কখনও এমন সময় আসে যখন চুপ করে থাকতে হয়।”

ঘটনা হল, শুধু এদিন কেন, গোটা নির্বাচনেই মুকুলবাবু এ বার কিছু বলেননি। লোকসভা ভোটে যে নেতাকে ১৮ টি আসন জেতার অন্যতম কারিগর বলেছিলেন অমিত শাহ, তাঁকে কলকাতা থেকে দূরে কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল। তার পর মুকুল রায় আর কোনও কথা বলেননি। প্রচারে বেরিয়ে শুধু ভোটারদের উদ্দেশে হাত নেড়েছেন বা হাতজোড় করে প্রণাম করেছেন। ব্যস ওই টুকুই কোনও বক্তৃতা দেননি। সাংবাদিকদের কোনও সাক্ষাৎকার দেননি। এমনকি ভোটের ফলপ্রকাশের আগে ও পরেও চুপ করেছিলেন।

এই চুপ থাকার মধ্যেও রাজনীতি রয়েছে বলেই অনেকে মনে করছেন। অনেকে এই চুপ কথা পড়ে ফেলারও চেষ্টা করছেন। তাঁদের কেউ কেউ এটা দিব্য পড়তে পারছেন যে বিধানসভা ভোটে বিজেপির সামগ্রিক কৌশল নিয়ে মুকুল রায়ের অসন্তোষ রয়েছে। শিবপ্রকাশের মতো নেতা যাঁরা পশ্চিমবাংলার অ, আ, ক,খ জানেন না (এমনটা তাঁরা মনে করছেন), তাঁরা ছড়ি ঘুরিয়েছেন। মুকুল রায়ের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। তাঁর কথা শোনেননি। সল্টলেকের

বিই ব্লকের যে গেস্ট হাউজে মুকুল রায়ের অস্থায়ী ঠিকানা, সেখানে এক সন্ধ্যায় শিবপ্রকাশ এসেছিলেন মাত্র।
এটা যেমন একটা দিক। তেমনই অনেকে অন্য আরও কিছু পড়ার চেষ্টা করছেন। দুয়ে-দুয়ে চার বা পাঁচ করার চেষ্টা করছেন। যেমন বিধানসভা ভোটের বেশ অনেকটা আগে প্রশান্ত কিশোর মুকুল রায়ের সঙ্গে দু’বার দেখা করেছিলেন। সেই সংবাদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানেন। মুকুলবাবুই জানিয়েছিলেন। এমনকি মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে তখন এও দাবি করা হয়েছিল যে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে তাঁকে ফিলার পাঠানো হয়েছে। পরে আবার ভোটের সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, শুভেন্দুর থেকে মুকুল ভাল। কৃষ্ণনগরে মুকুল রায়ের আসনে তৃণমূল প্রার্থীর জন্য দিদি প্রচারেও যাননি। সেখানে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তা হলে কী দাঁড়াল?

পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুলবাবু নিজে জিতলেও বিজপুর আসনে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় পরাস্ত হয়েছেন। সে কারণে তাঁর মন মেজাজ ভাল না থাকাই স্বাভাবিক। বিজেপির একাংশ নেতৃত্বের উপর তাঁর অসন্তোষ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। সুব্রত বক্সীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়ে মুকুলবাবু হয়তো বিজেপি নেতৃত্বের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন। কেন না শুধু রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক হওয়া হয়তো তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না। তাঁর পছন্দের কাজ অন্য। রাজনৈতিক গুটি সাজানো, কৌশল নির্ধারণ এ সব কাজ করেই তিনি খুশি থাকেন। হতে পারে তেমনই কিছু আশা করছেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ব্যাপারটা হয়তো এখনও পর্যন্ত শুধু জল্পনা। হয়তো তেমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। আবার এও ঠিক, রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। সুতরাং মুকুল রায় কবে মৌনব্রত ভাঙবেন এখন তার অপেক্ষা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More