তৃণমূলে কি এবার এক ব্যক্তি এক পদ, হয় জেলা সভাপতি অথবা মন্ত্রী?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর একা দু’শ পার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মন্ত্রিসভা গড়ছেন, তখনও তৃণমূলের অন্দর একটি প্রশ্নে আন্দোলিত ছিল। দলে কি এক ব্যক্তি এক পদ নীতি বাস্তবায়িত হবে? অর্থাৎ যাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন, তাঁরা সংগঠনের কোনও পদে থাকবেন না। এবং উল্টোটা।

কিন্তু দেখা যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় যেমন একাধিক দফতরের দায়িত্ব পান, তেমনই সংগঠনেও তাঁদের পদ বহাল থাকে। সে বার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে টুইট করে তিনি লিখেছিলেন, “মরালিটি অব প্রিন্সিপলস ভার্সেস মরালিটি অব লয়ালটি!!! টাফ কল!!!!”। যা দেখে অনেকে মনে করেছিলেন, এই মন্ত্রিসভা গঠনে নীতি ও আনুগত্যের মধ্যে কোথাও একটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। যা দেখে অভিষেক খুশি নন।

সেই স্মৃতি ফিকে হতে হতে পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। সেদিনের অভিষেক আর এখনকার অভিষেকের মধ্যে আসমান জমিন ফারাক। আর এই ভোটে তাঁর নেতৃত্ব শুধু প্রমাণিত হয়নি, প্রতিষ্ঠিতও হয়ে গিয়েছে। তাই অনেকে মনে করছেন, নীতি ও আনুগত্যের দ্বন্দ্বের যে কথাটি অভিষেক পাঁচ বছর আগে পেড়েছিলেন তা ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে এখন।

এমনিতে মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বরাবর শেষ কথা বলেন বলে আম ধারণা। তবে এ বার অনেকে মনে করছেন, মন্ত্রিসভা গঠনে অভিষেক ও প্রশান্ত কিশোরের মতও গুরুত্ব পেতে পারে। এক ব্যক্তি এক পদের সূত্রও প্রাধান্য পেতে পারে মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে।

বাংলায় এখন তৃণমূল আগের থেকেও শক্তিধর। ২১১ আসন বেড়ে হয়েছে ২১৩। ফলে মন্ত্রিসভা ও সংগঠন মিলিয়ে অনেককে অ্যাকোমোডেট করার বিষয়টি রয়েছে। দলের মধ্যে অনেকেই মনে করেন একই ব্যক্তি জেলা সভাপতি পদে ও মন্ত্রিসভায় থাকলে, দুটোতেই মন দেওয়া মুশকিল। বিশেষ করে এ সব ক্ষেত্রে জেলা সংগঠন অবহেলিত হতে পারে। বরং জেলা সভাপতি যিনি হবেন, তিনি পূর্ণ সময় সংগঠনকে দিলে ভাল। আর যিনি মন্ত্রী হবেন তিনি সরকারি কাজে মন দিলে সরকারের ভাল, মানুষেরও ভাল। বর্তমানে জেলা সভাপতিদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। যেমন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, স্বপন দেবনাথ প্রমুখ। আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমরা মন্ত্রিসভা ও সংগঠন দুটোর দায়িত্বেই রয়েছেন। এখন দেখার দিদি এ বার কী সিদ্ধান্ত নেন।

শুধু জয়ী বিধায়করা নন, যাঁরা এবার ভোটে টিকিট পাননি বা প্রার্থী হতে চাননি, তাঁদেরও অনেককে কোনও না কোনও পদ বা পুনর্বাসন দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। বস্তুত ভোটের আগে দিদি বলেছিলেন, এঁদের জন্য রাজ্যে বিধান পরিষদ তৈরির কথাও ভেবেছেন তিনি। তবে বাস্তব হল, কোভিড পরিস্থিতিতে সে সব নিয়ে আলোচনাই হয়তো এখন হবে না। তা ছাড়া বিধান পরিষদ গঠন করা সহজ কাজ নয়। রাজ্য বিধানসভা প্রস্তাব পাশ করার পর সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সেই প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। ফলে মন্ত্রিসভা গঠন ও তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য সাংগঠনিক রদবদলেই এখন গোটা দলের নজর রয়েছে। দেখা যাক দিদি কী সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: মমতার এ বারের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ কারা?

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More