সনিয়ার সামনে সোজাসাপ্টা অধীর, ‘রাহুলজি দায় এড়িয়ে চলতে পারেন না’

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর দশেক আগের কথা। বুড়ারিতে কংগ্রেসের (Congress) অধিবেশন মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেছিলেন, গান্ধী পরিবারের বাইরে ‘গণেশ প্রদক্ষিণ’ করে দল চলতে পারে না। সাবেক কংগ্রেস ভিতরে-বাইরে বরাবরই মুক্ত মঞ্চ। জ্যোতিরাদিত্যকে তাই বিপদে পড়তে হয়নি। বরং ইতিবাচক ভাবেই সে কথা নিয়েছিলেন সনিয়া-রাহুল। বস্তুত বিকেন্দ্রিকরণের একটা সুষ্ঠু চেষ্টাও রাহুল করেছিলেন।

কিন্তু দশ বছর পর, শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আরও এক বার স্পষ্ট হয়ে গেল, গান্ধী পরিবারের বাইরে বিকল্প নেতৃত্ব এখনও দূরঅস্ত কংগ্রেসে। বরং সার্ধ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক দল যখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে, তখন দশ জনপথেই আস্থা জানালেন অধিকাংশ নেতা। তা সে কেরলের বর্ষীয়াণ নেতা এ কে অ্যান্টনি হোক বা বাংলার অধীর চৌধুরী।

বস্তুত দলের নেতৃত্ব নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা বা কপিল সিব্বলের মতো নেতারা যে ভাবে অনাস্থা জানাচ্ছিলেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এদিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। গুলাম নবিদের অভিযোগ ছিল, দলের অবস্থা হেডলেস চিকেনের মতো। কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বোঝার উপায় নেই। ভাল মন্দ দু’কথা কাউকে বলার নেই।
এ হেন পরিস্থিতিতে সনিয়া গান্ধী এদিন বেশ দাপুটে মেজাজেই ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলেন, কে বলছে দলের সভাপতি নেই। আমিই সভানেত্রী। যা বলার আমাকে বলুন। সূত্রের মতে, সনিয়া এ কথা বলার পর বিক্ষোভের হাওয়া শুরুতেই অনেকটা বেরিয়ে যায়। ফলে বৈঠকে সংঘাতের পরিস্থিতি হয়নি। মুড ছিল সমঝোতার।

এই অবস্থায় এ কে অ্যান্টনি, দীনেশ গুন্ডুরাও, অধীর চৌধুরী সহ অধিকাংশ নেতাই রাহুলের পক্ষে মত দেন। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী পষ্টাপষ্টি বলেন, রোজ একটু একটু করে দল ভাঙছে। তা রোখার জন্য ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। কংগ্রেস যে ভঙ্গুর হচ্ছে, সেই শূন্যস্থান নিয়ে ফেলছে আঞ্চলিক শক্তি। এর পরেও রাহুল গান্ধী মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারেন না। তাঁকে দায়িত্ব নিতেই হবে।

অধীর আরও বলেন, জোট রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেসই খাল কেটে কুমীর এনেছে। বাংলায় কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া তৃণমূল ক্ষমতায় আসতে পারত না। সেই তৃণমূল সরকারে বসে কংগ্রেসকে একটু একটু করে ভেঙেছে। আবার তাদের নিয়েই কংগ্রেসের দিল্লির নেতারা আদিখ্যেতা করেছেন। এঁরাই দলের সর্বণাশ করেছেন। সুতরাং কংগ্রেসকে নিজের শক্তি বাড়ানোর কথা আগে ভাবতে হবে।

লোকসভায় কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি লখিমপুরে ঘটনার পর রাহুল-প্রিয়ঙ্কা উত্তরপ্রদেশে যাওয়ায় সেখানকার কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। এতেই প্রমাণ হচ্ছে তাঁরা মাঠে নামলে দল ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পেতে পারে। সুতরাং আর টালবাহানার সময় নেই।

এদিনের বৈঠকে স্থির হয়েছে, আগামী বছর সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচন হবে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে দু-একবার ছাড়া আগাগোড়া দেখা গিয়েছে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচনের চিত্রনাট্য আগাম তৈরিই থাকে। এ বারও তার অন্যথা হয়তো হবে না। কারণ, গুলাম নবি বা কপিল সিব্বলরা যাই বলুন, এঁদের কারও সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। দলের মধ্যে জনপ্রিয়ও নয়। অর্থাৎ গান্ধী পরিবারের বাইরে বিকল্প নেই। সুতরাং শেষমেশ রাহুলেরই পুনরায় কংগ্রেস সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শনিবারের বৈঠকে তারই ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। আর বৈঠকের শেষে রাহুল গান্ধীও জানিয়েছেন, দরকারের তিনিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.