রবিবার ভোট গণনা, ত্রিশঙ্কু হলে কেন তা বড় উদ্বেগের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় গত পঞ্চাশ বছরের নির্বাচনে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি কখনওই হয়নি। বরং যে যখনই জিতেছে, তা সে বামফ্রন্ট হোক বা কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল কংগ্রেস, একাই দু’শো পার করে দিয়েছে। ব্যতিক্রম ঘটেছিল কেবল একবারই। ২০০১ সালে বামফ্রন্ট ১৯৯টি আসনে জিতেছিল। কিন্তু এবার ত্রিশঙ্কু সম্ভাবনার কথা শুধু আলোচনায় নেই, অনেকে ধরে নিয়েছেন তেমন সম্ভাবনাই প্রবল। আর সত্যিই তা যদি হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তা বড়ই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এবার ত্রিশঙ্কুর সম্ভাবনা সত্যি কতটা? সেই সম্ভাবনার পক্ষে ব্যাখ্যা কী?

বহু-কোণ লড়াইয়ে যদি একটি দল বা একাধিক দলের প্রাক ভোট জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তা হলে তাকে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি বলা হয়। বাংলায় গত কয়েক দশকের ভোটে এমন সম্ভাবনা নিয়ে কখনও আলোচনা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এবং বাম, কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা এবার সেই পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখছেন।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, উনিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি বিধানসভার আসনের হিসাবে ১২১টি কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। বিধানসভা ভোটে বিজেপি যদিও আর ৬টি আসনও বেশি পায়, এবং বাম-কংগ্রেসের জোট যদি কম করে ২০টি আসনে জিততে পারে তা হলেই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এটা ঠিক যে বিজেপির আসন সংখ্যা ১২১ থেকে কম বা অনেক কম হতেই পারে। কিন্তু উনিশের আঠারোটি আসন জেতার স্বাদ পেয়ে গেরুয়া শিবির এবার যেভাবে ঝাঁপিয়েছে তাতে তাদের আসন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিজেপি বা তৃণমূল বা সংযুক্ত মোর্চার মধ্যে কেউ একজন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে ঝঞ্ঝাট থাকবে না। কিন্তু বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার মোট আসন সংখ্যা ১৪৭ ছুঁয়ে ফেললেই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হবে।

ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে কেন তা উদ্বেগের?

এর আগে ব্রিগেডের সভায় সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ঘোষণা করেছেন, ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে তৃণমূলকে সমর্থনের প্রশ্ন নেই। বরং সীতারামের অবস্থান হল, বিজেপিকে হারাতে হলে তৃণমূলকে হারাতে হবে। আর অধীর রঞ্জন চৌধুরী, আবদুল মান্নানরা তেমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে সমর্থন করার ঘোর বিরোধী। ইদানীং কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের মতের বিরুদ্ধে চলতে বাধ্য করে না।

অনেকের ধারণা, সে ক্ষেত্রে কর্নাটক বা মধ্যপ্রদেশের মতো অবস্থা হতে পারে বাংলায়। ঘোড়া কেনাবেচাও হতে পারে। বস্তুত সমস্যা সেখানেই। বর্তমানে তীব্র কোভিড সংক্রমণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলা। সময়ের দাবি হল, দ্রুত মজবুত প্রশাসনিক হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হোক। আপাতত পুরো ব্যাপারটাই আমলাতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। তাঁরা যে ভাল কাজ করছেন না তা নয়। কিন্তু মজবুত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া যে আমলাতন্ত্রও যথাযথ কাজ করে না তার পুরনো দৃষ্টান্ত রয়েছে।

কোনও একটি দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দ্রুত সরকার গঠন করে কোভিড মোকাবিলায় হাত লাগাতে পারে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ব্যাপারটা শুধু সংক্রমণ মোকাবিলার মধ্যেই থেমে নেই। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে মানুষের জীবিকা তথা গোটা অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ গণবণ্টন ব্যবস্থা কায়েম থাকা জরুরি। সে সবই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সুনিশ্চিত করতে হবে নতুন সরকারকে। ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি হলে বা সরকারের অস্থিরতা থাকলে গোটা ব্যবস্থাই দুর্বল হতে বাধ্য।

নবান্নের এক আমলার কথায়, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে শপথ গ্রহণের আগেই ঘরোয়া ভাবে কোভিড মোকাবিলা বা আনুসঙ্গিক ব্যবস্থাপনার রাশ হয়তো ধরে নেবেন তাঁদের নেতৃত্ব। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শপথের পরই সেই সব শুরু হবে। কিন্তু কোনও একটি দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যা উদ্বেগের বইকি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.