বিজেপির সঙ্গে যদি আমার কোনও যোগাযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ইস্তফা দেব, রাহুলকে পাল্টা তোপ আজাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কপিল সিব্বলের পর গুলাম নবি আজাদ। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সোমবার কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করে চিঠি লিখেছিলেন, তাঁরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তার পরেই রাহুলের বিরুদ্ধে টুইট করেন চিঠিতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী কপিল সিব্বল। এরপর জানা গেল, প্রতিবাদ করেছেন দলের অপর প্রবীণ নেতা গুলাম নবি আজাদও। তিনি সরাসরি বলেছেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে, তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ আছে, তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেবেন।

এরপরেই কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, রাহুল ওরকম মন্তব্য করেননি। মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্টে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কংগ্রেসে নিজেদের মধ্যে লড়াই না করে আমাদে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে অত্যাচারী মোদী জমানার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

গত ৭ অগাস্ট কংগ্রেসের ২৩ জন প্রথম সারির নেতা হাইকম্যান্ডকে চিঠি লেখেন। তাতে দলে যৌথ নেতৃত্বের কথা বলা হয়। সোমবার সকালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসে। সনিয়া জানান, তিনি আর দলের শীর্ষপদে থাকতে চান না। কংগ্রেস এবার গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি পদে খুঁজে নিক। এরপরেই সরব হন রাহুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দল যখন মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে সংকটের মুখে, সভানেত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ঠিক সেই সময়ে এমন চিঠি পাঠানো হল কেন? এর পরেই তিনি বলেন, যাঁরা ওই চিঠিটি লিখেছেন, তাঁরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এদিন সনিয়ার কাছে আর্জি জানান, তিনিই যেন সভানেত্রী থাকেন। যাঁরা হাইকম্যান্ডকে চিঠি লিখেছেন, তাঁদের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “চিঠিটি দুর্ভাগ্যজনক। হাইকম্যান্ডকে দুর্বল করা মানে দলকেই দুর্বল করা।” দলের আর এক প্রবীণ নেতা এ কে অ্যান্টনি বলেন, “চিঠির বিষয়বস্তু খুবই নিষ্ঠুর।” কংগ্রেসের জন্য সনিয়া যে আত্মত্যাগ করেছেন তা মনে করিয়ে দেন অ্যান্টনি। সেই সঙ্গে তিনি রাহুলের কাছে আর্জি জানান, তিনি যেন কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এদিন প্রথম দিকেই গুলাম নবি আজাদের বক্তব্য পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু ‘বিক্ষুব্ধদের প্রতিনিধি’ হিসাবে তাঁকে অনেক পরে বলতে দেওয়া হয়। তার আগে রাহুল ও আরও কয়েকজন নেতা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের কড়া সমালোচনা করেন। এরপরে আজাদ বলেন, আমার সঙ্গে যদি বিজেপির যোগাযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ইস্তফা দেব।

কপিল সিব্বল এদিন টুইট করে বলেন, “রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আমরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। আমি রাজস্থান হাইকোর্টে সাফল্যের সঙ্গে কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করেছি। মণিপুরে দল যাতে বিজেপি সরকারের পতন ঘটাতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছি। গত ৩০ বছরে একবারও বিজেপির হয়ে বিবৃতি দিইনি। তবু বলা হচ্ছে, আমি নাকি বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।”

অনেকের ধারণা, রাহুল যাতে ফের কংগ্রেস সভাপতি না হতে পারেন, সেজন্যই ‘বিদ্রোহীরা’ চিঠি লিখেছেন। রাহুলকে সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে জোর চেষ্টা চলছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে। রাহুল অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর কংগ্রেসের শীর্ষপদে ফিরছেন না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More