রাতে টেনশনে ঘুম হয়নি ববির, স্ত্রীকে পেছনে বসিয়ে ট্রায়ালও দিয়েছেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রীকে স্কুটিতে করে চাপিয়ে নিয়ে যেতে হবে নবান্ন! এ কী কম বড় দায়িত্ব! হলেনই বা তিনি শহরের পুর প্রশাসক, দলের ভরসাযোগ্য নেতা, ফিরহাদ হাকিম। এতদিন কত দায়িত্বই তো সামলেছেন দক্ষ হাতে। তবু দলের সুপ্রিমোকে নিজে স্কুটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়া বলে কথা! সেই চিন্তায় নাকি আগের রাতে ঘুমোতেই পারেননি তিনি! এমনটাই জানালেন ববি।

জানা গেছে, যে ইলেকট্রনিক চার্জেবল স্কুটি করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে নবান্নে পৌঁছন ববি হাকিম, সেটি তাঁর এক বন্ধুর স্কুটি। গতকাল রাত ১০টা নাগাদ ববির ওই বন্ধু, তাঁর বাড়িতে দিয়ে যান স্কুটিটা। অত রাতেই ববি হাকিম স্কুটির পেছনে তাঁর স্ত্রীকে বসিয়ে ট্রায়ালও দিয়ে নেন খানিক্ষণ। তার পরেই আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে নবান্নে পৌঁছন তিনি।

আরও পড়ুন: স্কুটি চালানো শিখছেন মমতা, ববিকে নামিয়ে দিয়েছেন, ব্যালেন্স রাখছেন দেহরক্ষীরা

বুধবার রাতেই জানা গিয়েছিল মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ব্যাটারিচালিত স্কুটি চড়ে নবান্ন যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলও তাই। এদিন স্কুটির পিছনে বসে হাজরা থেকে নবান্নর দিকে যাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। মাথায় নীল হেলমেট পরে রয়েছেন তিনি। গলায় ঝুলছে পেট্রল,ডিজেলের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লেখা পোস্টার। নিরাপদে নবান্নে পৌঁছে যান তিনি। চালকের আসনে ববি হাকিম।

দেখুন, ববি হাকিম বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন সকালে।

বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক সভায় বারবার পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ তুলছেন, সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার লিটার প্রতি ১ টাকা করে কমিয়েছে পেট্রোপণ্যের দাম। গত রাতে আবার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। অন্যদিকে মমতার নির্দেশে রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এবার নিজেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন দিদি।

তবে মুখ্যমন্ত্রী স্কুটারে চড়ে রাস্তায় গেলে তার নিরাপত্তা অসুবিধা থাকতে পারে ভেবে এই কর্মসূচিকে অনেকদিন আগে থেকেই গোপন রাখা হয়েছিল। মমতার এই স্কুটি র‍্যালিতে ৪টে হলুদ ট্যাক্সিও ছিল। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরা ছিলেন। যেহেতু মমতা গাড়ি ব্যবহার করেননি আজ, তাই নিরাপত্তা রক্ষীরাও ট্যাক্সিতে আসেন নবান্ন এবং বিকেল পাঁচটায় আবারও নবান্ন গিয়ে, ট্যাক্সি করেই ফিরবেন মমতার স্কুটির সঙ্গে সঙ্গে।

প্রতিবাদ অভিনব ছিল, নিঃসন্দেহে। কিন্তু ততটাই টেনশন ছিল ফিরহাদ হাকিমেরও। এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে নবান্নে পৌঁছে দেওয়ার পরে তিনি বলেন, “এমন নয় যে আজ প্রথম চালালাম স্কুটার, তবে ইলেকট্রিক গাড়ি এই প্রথম চালালাম। কুড়ি বছর আগে যখন বয়স কম ছিল, আমার বিয়ের পরপর একটা সেকেন্ড হ্যান্ড জাভা গাড়ি ছিল। সেই নিয়ে ঘুরতাম। সেই বাইক নিয়ে একবার বারুইপুরও গেছিলাম। তারপর এখন বয়স হয়ে গেছে, পরিবারের লোক চায় না বাইক চালাই। ওই বাইকটা পড়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তার পর একটা বাজাজ গাড়ি কিনেছিলাম বাচ্চাদের বসিয়ে বাজার যেতাম। এর পর টুকটাক চালিয়েছি একদমই শখে।”

তবে আজ আর শখ নয়, ছিল কড়া দায়িত্ব। ভুলত্রুটি তো দূরের কথা, একটু বেশি ঝাঁকুনিও যাতে না হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। ববির কথায়, “আজ অন্য অনুভূতি হল, এতদিন পরে চালালাম স্কুটি, তাও আবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে! আমার তো সারারাত টেনশনে ঘুম আসেনি, কীভাবে চালাব, কী হবে! তারপর ঠিকঠাকভাবে নবান্নে পৌঁছে দিয়েছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই অনুভূতি একদম অন্যরকম।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More