গায়ের জোরে অসন্তোষ চাপা দিতে চায় সরকার, বার্তা সনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশ জোড়া বিক্ষোভের মাঝে টেলিভিশনে বিবৃতি দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, সরকার জনমতের তোয়াক্কা করছে না। মানুষের কণ্ঠস্বরকে গায়ের জোরে চাপা দিতে চাইছে।

তাঁর কথায়, “বিজেপি সরকার বিক্ষোভ চাপা দেওয়ার জন্য বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। গণতন্ত্রে এমনটা মেনে নেওয়া যায় না।”

‘সহনাগরিকদের উদ্দেশে’ দেওয়া বিবৃতিতে সনিয়া বলেন, তাঁর দল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, বিজেপি সরকার দেশ জুড়ে ছাত্র, যুবক এবং সাধারণভাবে নাগরিকদের ওপরে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রে মানুষ সরকারের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই পারে। তাদের সেই অধিকার আছে। সরকারের উচিত নাগরিকদের বক্তব্য শোনা।”

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, “ওই আইন বৈষম্যমূলক। সারা দেশে এন আর সি করলে গরিব ও সমাজের প্রান্তিক মানুষই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

নোটবন্দির প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, তখন যেমন মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল, আবার সেইরকম হবে। মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে, তারা এবং তাদের পূর্বপুরুষরা এদেশের নাগরিক ছিল।

শুক্রবার নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ। শুক্রবার দিল্লির জামা মসজিদ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত মিছিল করতে চেয়েছিলেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। পুলিশ তাঁকে অনুমতি দেয়নি। পরে চন্দ্রশেখর টুইট করে বলেন, যে করেই হোক আমি জামা মসজিদের কাছে পৌঁছাব। মিছিল হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না।

জামা মসজিদের চারপাশে এদিন কড়া পাহারা ছিল। কিন্তু শুক্রবারের নমাজ শেষ হওয়ার পরে দেখা যায়, চন্দ্রশেখর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁর হাতে ছিল সংবিধানের কপি ও বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের একটি ছবি। তাঁর মুখ ছিল নীল কাপড়ে ঢাকা। ৩১ বছর বয়সী চন্দ্রশেখর সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করছিলেন। আরও অনেকে তাঁর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিল।

এই সময় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার জন্য ড্রোন বিমান পাঠানো হয়। খুব দ্রুত মসজিদের আশপাশের সরু গলি দিয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে আসতে দেখা যায়। তাঁদের হাতে ছিল ফ্ল্যাগ ও প্ল্যাকার্ড। পুলিশের চেয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তখন পুলিশ ধর্মগুরুদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর তারা চন্দ্রশেখর আজাদকে পাকড়াও করে। কলার ধরে তাঁকে পুলিশের ভ্যানে তোলার চেষ্টা হয়। এমন সময় তিনি পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ফের ভিড়ে মিশে যান।

উত্তরপ্রদেশের মুজফফরপুর, বাহরাইচ, বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর, ফিরোজাবাদ, আলিগড় এবং ফারুখাবাদ জেলা থেকে এদিন বিক্ষোভ ও হিংসার খবর এসেছে।

ওইসব অঞ্চলে পথে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছে। গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। দু’মিনিটের এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের পূর্ব প্রান্তে গোরক্ষপুরে এক সরু গলির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে জনতা। অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। দাঙ্গাহাঙ্গামা ঠেকানোর জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। পুলিশের কয়েকজনের হাতে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল। জনতাকে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করছে। পাথর ছুঁড়ছে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশকেও জনতার উদ্দেশে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More