ভোট-নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা, আদালতের হস্তক্ষেপ চান রাজ্যের প্রাক্তন এজি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা রুজু করলেন রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চট্টোপাধ্যায়। আজ সকালেই জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটেয় সাংবাদিক বৈঠক কর বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই দায়ের হয়ে গেল মামলা।

আদালত সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যের শীর্ষ আদালত একুশের এই বিধানসভা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করুক। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও এই নির্বাচনী জনস্বার্থ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, নির্বাচনী বিধি-নিষেধ প্রসঙ্গে তিনি আদালতে আবেদন জানিয়েছেন, যে কোনও রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ হওয়ার সময়ে তার দু’শো মিটারের মধ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল সেখানে সভা-সমাবেশ যেন না করতে পারে।

সেই সঙ্গে প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, বিগত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে রাজ্যজুড়ে হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি আতঙ্কিত। ভোটারদের ভোট দানের ক্ষেত্রে যাতে কোনও ভয়-ভীতির পরিবেশের মধ্যে পড়তে না হয়, তাই কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে এই জনস্বার্থ মামলা তাঁর।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে ভোটের আগের আদর্শ আচরণ বিধি৷ প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ গতকালই রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলা, সরকারি আধিকারিক, শীর্ষ পুলিশ কর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন৷ তার পরে আজ জানা গেছে, বিকেলেই জানা যাবে ভোটের দিনক্ষণ।

ফেব্রুয়ারির গোড়া থেকেই অবশ্য দামামা বেজে গিয়েছিল ভোটের। মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর তোড়জোর শুরু হয়৷ ইতিমধ্যে রাজ্যে দু’দফায় বেশ কয়েক কোম্পানি বাহিনী এসে গিয়েছে৷ পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় টহল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷

সূত্রের খবর, অন্যান্য বারের ভোটের চেয়ে এবারের ভোটে নিরাপত্তার ফাঁস থাকবে অনেক বেশি। বিশেষ করে বাংলায় যাতে অবাধ ও নিরাপদ ভোট হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেবে কমিশন। সেই কারণেই প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এই পরিস্থিতিতেই রুজু হয়ে গেল একটি মামলাও। এখন এত কিছুর পরেও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয় কিনা, সেদিকেই চোখ রাজ্যবাসীর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More