মনমোহনের কোভিড-পরামর্শের জবাবে আক্রমণ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, ‘আপনার দলই টিকার গুরুত্ব বোঝে না’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কীভাবে লড়তে হবে প্রশাসনকে, তা নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের কথা লিখে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। আজ তার উত্তর মিলল কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু পরামর্শ দেওয়ার বিনিময়ে যে তিরস্কার জুটবে, তা হয়তো আশা করেননি কেউই।

মোদীকে লেখা চিঠির উত্তর অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিজে দেননি, দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টপ হর্ষবর্ধন। সে উত্তরে মনমোহনকে অপমান করা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। হর্ষবর্ধন এদিন মনমোহন সিংয়ের চিঠির জবাবে লিখেছেন, ”কংগ্রেসের নেতারা আপনার এই পরামর্শগুলি মেনে চললেই ইতিহাস আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হবে।”

গতকাল দু’পাতার চিঠিতে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করোনা মোকাবিলায় পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, দেশের মোট জনসংখ্যার নির্দিষ্ট শতাংশের মানুষকে টিকা দিতে হলে ভ্যাকসিনের জোগান আগে নিশ্চিত করতে হবে। মনমোহন কাল লিখেছিলেন, “জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করতে পারে। তবে একইসঙ্গে রাজ্যগুলির চাহিদার কথাও মাথায় রাখা উচিত। তারা কী পরিমাণ টিকা পেলে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, সেটাও ভেবে দেখতে হবে। আগামী দিনে রাজ্যগুলি ঠিক কী পরিমাণ ভ্যাকসিন পাবে, সেটাও তাদের জানানো উচিত।”

আরও পড়ুন: করোনা যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি কী হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখে বিশেষ পরামর্শ দিলেন মনমোহন

এর উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ”গত কয়েক মাসে কংগ্রেস নেতারা ইচ্ছে করে ভুল তথ্য রটানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ভ্যাকসিন নিয়ে একের পর এক ভুল তথ্য তাঁরা ছড়িয়েছে। সেইসব ভুল তথ্যের জেরে বহু মানুষ ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে দ্বন্দ্বে ভুগেছে। দেশবাসীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে কংগ্রেসের নেতারা।”

মনমোহন সিং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা। নানা বিষয়ে তাঁর বিশেষ জ্ঞান ও চর্চার কথাও সর্বজনবিদিত। সেই জায়গা থেকেই হয়তো স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখে নিজের মতামত বিনিময় করেছিলেন মনমোহন।

তারই উত্তরে কংগ্রেসের প্রতি বিদ্বেষে মনমোহনকে বিদ্ধ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও লেখেন, “এই সময়ে দাঁড়িয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যার কথা না ভেবে টিকাকরণের শতাংশ নিয়ে ভাবাটা ঠিক হবে না। তবে কংগ্রেসের জুনিয়র নেতাদের আপনার পরামর্শ মেনে চলা উচিত। মোট আক্রান্ত, অ্যাক্টিভ কেস ইত্যাদি নিয়ে যে আলোচনা কংগ্রেস করছে তার থেকে বেশি কথা হওয়া উচিত কত শতাংশ মানুষের মধ্যে টিকাকরণ হল তা নিয়ে। আপনি এই সময়ে দাঁড়িয়ে টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা বুঝলেন। কিন্তু দুংখের বিষয়, আপনার পার্টির অনেক নেতা, এমনকী যে সব রাজ্যে আপনাদের সরকার রয়েছে সেখানকার মন্ত্রীরাও টিকাকরণ নিয়ে আপনার মতো কথা বলছে না। ভারত প্রথম দেশ হিসাবে দুটো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করল। এটা কি গর্বের বিষয় নয়! তবুও আপনার দলের সিনিয়র নেতারা দেশের বিজ্ঞানী, গবেষকদের প্রশংসায় একটা শব্দও খরচ করেনি এখনও। কংগ্রেসের অনেক নেতা জনসমক্ষে ভ্যাকসিনের নিন্দা করেছ। আবার তারাই লুকিয়ে টিকা নিয়েছে।”

সবশেষে হর্ষবর্ধন লেখেন, “তবু আপনার পরামর্শ আমরা মূল্যবান বলে মনে করছি। আর এটাও মনে করছি, আপনার দলের নেতাদের দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রাখা উচিত। আপনি বিদেশি টিকার ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের সরকার আপনার এই পরামর্শ পাওয়ার সাত দিন আগে থেকেই দেশে বিদেশি টিকার ব্যবহার বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যাই হোক, সব শেষে বলব, আপনি সিনিয়র নেতা। এমন দুঃসময়ে আপনি আমাদের পাশে থাকবেন। যে কোনও বিষয়ে আপনার পরামর্শের আশা রাখি।”

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন। মৃত্য হয়েছে ১ হাজার ৬১৯ জনের। এই পরিস্থিতিতে সারা দেশ দলমত নির্বিশেষে কোভিড যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুক, এমনটাই কাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন দেশের বেশির ভাগ মানুষ। রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে সিনিয়র নেতার পরামর্শ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার বিষয়ে কেন্দ্র আরও ইতিবাচক পদক্ষেপ করতে পারত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More